সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তাঁর গবেষণাপত্র নিয়ে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিলেন অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি অধ্যাপক। ইস্তফার কারণ হিসাবে যদিও গবেষণাপত্র বিষয়ক বিতর্কের উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যুক্ত সকলেই ইঙ্গিতটি বুঝতে পরেছেন।
কয়েক মাস আগেই অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সব্যসাচী দাসের গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পায় যেখানে তিনি ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির জয়ের বিষয়টিকে ‘ম্যানিপুলেশন’ অর্থাৎ কারচুপি হিসাবে উল্লেখ করেন। কীভাবে কারচুপি করে বিজেপি (BJP) নির্বাচনে জয় পেয়েছে তা নিয়েই বিস্তারিত তথ্য ছিল সব্যসাচী দাসের পেপারে। তেমনটাই জানিয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। গবেষণাপত্র প্রকাশের পরই তাঁকে নানাভাবে ভয় দেখানো হয় এবং হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ, যার জেরে তিনি ইস্তফা দেন।
[আরও পড়ুন: মার্কিন ফৌজে ‘কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্বেষ’ কাঁটায় আমেরিকাকে বিঁধল কিমের দেশ]
হরিয়ানার সোনপতের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতিমধ্যেই অধ্যাপক দাসের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছে বলে খবর। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমক রায়চৌধুরি বলেন, “অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ফ্যাকাল্টি সদস্যের অধিকার রয়েছে মন খুলে কথা বলার। যে ক্ষেত্রটি বেছে নিয়েই তাঁরা গবেষণা করুন না কেন তা বাছাই করারও স্বাধীনতা রয়েছে তাঁদের। শিক্ষক এবং ছাত্র সকলেরই শিক্ষাক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতা রয়েছে।” সব্যসাচী দাসের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, কোনও গবেষকের উপরেই গবেষণা পত্রের বিষয় বদল করার জন্যও কোনওরকম ভাবে চাপসৃষ্টি করা হয় না।
কিন্তু অপর পক্ষের দাবি ভিন্ন। ‘ডেমোক্র্যাসি ব্যাকস্লাইডিং ইন দ্য ওয়ার্ল্ডস লার্জেস্ট ডেমোক্র্যাসি’ শীর্ষক গবেষণা পত্রে সংখ্যালঘু শ্রেণির মানুষদের লক্ষ্য করা হয় বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক সব্যসাচী দাস। যদিও সব্যসাচীবাবু জানিয়েছেন, গবেষণাপত্রে কোথাও দাবি করা হয়নি যে ‘প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে’ এবং এমনও বলা হয়নি যে ‘বিস্তৃত এলাকা জুড়ে কারচুপি হয়েছে।’ তবে নানারকম ম্যানিপুলেশনের সাহায্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসকদল তাদের আয়ত্তে এনেছে নয় থেকে ১৮টি আসন।
[আরও পড়ুন: আসরে ‘উদ্বিগ্ন’ আমেরিকা, গির্জা ধ্বংসে পাকিস্তানকে একহাত নিল ওয়াশিংটন]
১ আগস্ট অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বলা হয় গবেষণাপত্রটির সমালোচনা এবং পরিমার্জনা পর্ব সম্পূর্ণ হয়নি। এমনকী, কোনও শিক্ষাবিষয়ক জার্নালেও প্রকাশ করা হয়নি। তবে অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও পড়ুয়ারা তাঁদের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য হিসাবে গ্রাহ্য হতে পারে না। অধ্যাপক দাসের ইস্তফার খবর প্রকাশ হতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মীর তরফে বিষয়টির প্রবল প্রতিবাদ করা হয়। সেফোলজিস্ট যোগেন্দ্র যাদব বলেন, দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে কতটা স্বাধীনতা রয়েছে তা এর থেকেই স্পষ্ট। কোনও শিক্ষাবিদই অধ্যাপক দাসের সমর্থনে এসে না দাঁড়ানোয় সরব হয়েছেন অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। যদিও অর্থনীতি বিভাগের তরফে বিষয়টিতে গভর্নিং বডির হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
‘জীবন মূল্যবান’, সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ দিল্লি হাই কোর্টের
-
‘টাকা দিয়ে পুরস্কার কিনব, কারও বাপের সাধ্যি নেই…’, বেধড়ক কটাক্ষের মুখে বেফাঁস আলিয়া!
-
স্কুলে হোমওয়ার্কের নামে দ্বিতীয় শ্রেণির হিন্দু ছাত্রকে কলমা পাঠের নির্দেশ! বরখাস্ত শিক্ষক
-
মাদ্রাসার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ! হাসনাবাদে তৃণমূল নেতার বাড়িতে উত্তরপ্রদেশ এটিএস
-
কারখানায় ভাঙচুর, তোলাবাজি! কাঁচরাপাড়ার পলাতক প্রধানকে ধরে গণপিটুনি জনতার