সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথা রাখল মোদি সরকার। লোকসভা নির্বাচনের আগেই চালু হল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)। সোমবার গোটা দেশে চালু হয়ে গেল বহু বিতর্কিত আইনটি। এদিন সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে আনুষ্ঠানিকভাবে সিএএ চালু হওয়ার কথা জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদে বিলটি পাস হওয়ার চার বছর পর চালু হল সিএএ। সরকারের ই-গেজেট ওয়েবসাইটেই প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞপ্তিটি। কারা, কী ভাবে অনলাইনে সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে এই ওয়েবসাইটে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া বিবৃতিতেও একথা উল্লেখ রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই সিএএ (CAA) অনলাইন পোর্টালে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, সিএএ চারবছর ধরেই দেশবাসীর নজরে রয়েছে। সোমবার দুপুরে সিএএ কার্যকরের বিজ্ঞপ্তি জারির খবর প্রকাশ হতেই তোলপাড় দেশ। এর পর সিএএ বিজ্ঞপ্তি জারির হতেই হঠাৎ করে ই-গেজেট ওয়েবসাইট ক্র্যাশ হয়ে যায়।
সিএএ-তে প্রথমবার ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এই আইনের দ্বারা দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের ‘টার্গেট’ করা হতে পারে বলে বিরোধীদের তরফে শুরু থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির অন্যতম ইস্যু ছিল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা। দেশব্যাপী বিরোধিতা, সহিংস আন্দোলনের মধ্যেই ২০১৯ সালের
ডিসেম্বরে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিলটি পাস করিয়ে নেয় মোদি সরকার। ওই হিংসায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের মতো বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সিএএ কার্যকরের বিরোধী।
[আরও পড়ুন: অবশেষে কার্যকর CAA, কী এই আইন? কেন এনিয়ে এত বিতর্ক?]
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিম অভিবাসীদের এদেশে নাগরিকত্ব দেবে কেন্দ্র সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, যোগ্য ব্যক্তিরা ‘সম্পূর্ণ অনলাইন মোডে’ আবেদন জমা দিতে পারেন। আবেদনকারীদের কাছ থেকে অন্য কোনও নথি চাওয়া হবে না। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিএএ কার্যকরকে ‘দেশের একটি কর্তব্য’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছিলেন যে সেটি লোকসভা ভোটের আগেই কার্যকর হবে। তার একমাসের কম সময়ের মধ্যেই সিএএ কার্যকর হয়ে গেল।
কেন্দ্রের বক্তব্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘুরদের ( হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্শি) ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে সাহায্য করবে। তবে বিরোধীদের দাবি, এই আইন মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির লঙ্ঘন।
সংসদে বিল পাসের পরপরই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরে আইন হয়ে গিয়েছিল। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে সিএএ-র ধারা-উপধারা যুক্ত হয়নি। ফলে বাস্তবে এই আইন কার্যকরও হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সই করার ছয় মাসের মধ্যে আইনের নির্দিষ্ট ধারা-উপধারা যুক্ত করতে হয়। না হলে লোকসভা কিংবা রাজ্যসভার নির্দিষ্ট কমিটিগুলির কাছে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২০ সাল থেকে আইন কার্যকর করার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে আসছিল।
এদিন বিজ্ঞপ্তি জারির পর শাহ নিজের এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘মোদি সরকার আজ নাগরিকত্ব (সংশোধিত) বিধিমালা, ২০২৪ জারি করেছে। এই বিধিগুলোর দ্বারা এখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘুরা আমাদের দেশে নাগরিকত্ব অর্জন করতে সক্ষম হবেন। এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং ওইসব দেশে বসবাসকারী হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি এবং খ্রিস্টানদের প্রতি আমাদের সংবিধান প্রণেতাদের প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেছেন।’
জানা গিয়েছে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে করা যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এর জন্য নির্দিষ্ট পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। আর সেই ‘সিএএ পোর্টালে’-র মাধ্যমেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে। পোর্টালটি হল- indiancitizenshiponline.nic.in। আবেদনকারীকে প্রথমে এই পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বেশ কিছু নথি আপলোড করতে হবে এখানে। এর পর কবে ভারতে এসেছিলেন, কেন এসেছিলেন এই সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। মোবাইল নম্বর দিতে হবে। আর তাতে একটি ওটিপি আসবে। এর পর সেই সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে। সরকারিভাবে সমস্ত তথ্য যাচাই করা হবে। সমস্ত কিছু যদি সঠিক হয় তা হলেই নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।
সিএএ পোর্টালে কী কী নথি জমা দিতে হবে? জানা গিয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের পাসপোর্ট, জন্ম শংসাপত্র বা স্কুলের সার্টিফিকেট, জমির কাগজ, ভোটার কার্ড, জাতীয় পরিচয় পত্র বা রেসিডেন্সিয়াল পারমিট নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য গ্রাহ্য হবে। ভারতে থাকাকালীন এখানকার স্কুল বা কলেজের সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেটও বৈধ নথি বলে গণ্য করা হবে। তবে যে নথিগুলো জমা দেওয়া হবে তা যেন বৈধ এবং নির্ভুল হয়। পরিচয়পত্র-সহ অন্যান্য নথিতে যদি কোনও ভুল থাকে তা হলে আবেদনের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের দুটি বিশেষ নথি জমা দিতে হবে। একজন ভারতীয় নাগরিককে হলফনামার মাধ্যমে আবেদনকারীর চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে হবে। আবেদনকারীর অবশ্যই সংবিধানের অষ্টম তফসিলে তালিকাভুক্ত যে কোনও একটি ভাষার পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। তৃতীয় তফসিলের বিধানের অধীনে প্রাকৃতিককরণের যোগ্যতা পূরণ করে নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য একজন ব্যক্তির কাছ থেকে আবেদনটি ৮এ ফর্মে জমা দেওয়া হয় যার মধ্যে রয়েছে-আবেদনকারীর চরিত্রের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে একটি হলফনামা-সহ আবেদনে দেওয়া বিবৃতিগুলোর সত্যতা যাচাই করে একটি হলফনামা৷ আবেদনকারীর একটি ঘোষণা যে তার সংবিধানের অষ্টম তফসিলে উল্লিখিত ভাষার একটির পর্যাপ্ত জ্ঞান রয়েছে। নিয়মে বলা হয়েছে, যারা ওই ভাষায় কথা বলতে বা পড়তে বা লিখতে পারে তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে বলে বিবেচিত হবে। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য দেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করা হবে।
সর্বশেষ খবর
-
আমেরিকার পর ব্রিটেন, ভগবতের সভা ঘিরে বিক্ষোভ! বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলল সংঘ
-
বঙ্গে ধর্মীয় পর্যটনে জোর, শুভেন্দুর তীর্থক্ষেত্র সার্কিটে জুড়ছে কোচবিহার থেকে তারকেশ্বর
-
‘হনুমান অংশ’-এর হাউজফুল প্রেক্ষাগৃহেও খালি রাখা হচ্ছে সিট নং ৯! কেন এমন সিদ্ধান্ত হল মালিকের?
-
দুবাইয়ে ফের মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, ফিরে এল হ্যান্ডশেক বিতর্ক
-
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর বিচ্ছেদ! পালাবদল হতেই গ্রেপ্তার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা