Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
Supreme Court

বাবা-মা কি সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পারেন? বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের ৫ জুন। পুত্র ও পুত্রবধূর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁদের বাড়িছাড়া করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটে মামলা দায়ের করেছিলেন লখনউয়ের বাসিন্দা রবিকান্ত গুপ্ত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১৬:০৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১৬:০৭

options
link
বাবা-মা কি সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পারেন? বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের zoom
সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি।
Advertisement

সম্পত্তির অধিকার প্রসঙ্গে বুধবার বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এক মামলায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায় বাতিল করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, প্রবীণ নাগরিকরা চাইলে নিজেদের সম্পত্তি থেকে সন্তানদের উচ্ছেদ করতে পারেন। আদালতের মতে, প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। বার্ধক্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপমানের কারণ হতে পারে না।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের ৫ জুন। পুত্র ও পুত্রবধূর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁদের বাড়িছাড়া করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটে মামলা দায়ের করেছিলেন লখনউয়ের বাসিন্দা রবিকান্ত গুপ্ত। সন্তানদের জন্য ওই দম্পতি নিজের বাড়ি ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে বাধ্য হচ্ছিলেন। ২০২২ সালের ১৫ই নভেম্বর এসডিএম ছেলেকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও সেই নির্দেশ বহাল রেখে পুত্র ও পুত্রবধূকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তবে এসডিএম ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাই কোর্টে আবেদন করেন ওই বৃদ্ধের পুত্র।

Advertisement

২০০৭ সালের আইনকে হাতিয়ার করে হাই কোর্ট জানায়, বয়োজ্যেষ্ঠরা চাইলেই সন্তানদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে পারেন না। অতীতের নির্দেশ বাতিল করে পুত্র ও পুত্রবধূকে বাড়ি ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় ২০০৭ সালের আইনকে হাতিয়ার করে হাই কোর্ট জানায়, বয়োজ্যেষ্ঠরা চাইলেই সন্তানদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে পারেন না। অতীতের নির্দেশ বাতিল করে পুত্র ও পুত্রবধূকে বাড়ি ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে হাল ছাড়েননি বৃদ্ধ। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। বুধবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি পিএস নরসিংহ ও অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওই আইনের লক্ষ্য হল প্রবীণদের মর্যাদা, সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একটি সভ্য সমাজের মানদণ্ড এর উপরেই নির্ভরশীল। এরপরই আদালত জানায়, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করে হাইকোর্ট ভুল করেছে। ভরণপোষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজন মনে করলে ট্রাইব্যুনাল উচ্ছেদের নির্দেশ দিতে পারে। আইনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালগুলোরও রয়েছে। প্রবীণ ব্যক্তি যদি চান তাহলে তিনি তাঁর সন্তানদের সম্পত্তি থেকে বেদখল করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের আইন অনুযায়ী প্রবীণদের যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, প্রয়োজনে বাবা-মা সন্তানের থেকে খাবার, পোশাক, ঘর ও চিকিৎসার খরচ চাইতে পারবে। প্রবীণ ব্যক্তি নিচে বা অন্য কারও দ্বারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। নিরাপত্তা ও ভরণ-পোষণের জন্য প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বেদখল করতে পারবে। ভরণ-পোষণের শর্ত পূরণ না হলে সম্পত্তি হস্তান্তর রদ করা যাবে। শুধু তাই নয়, সন্তান যদি বাবা-মাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে যান সেক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.