BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পাক অত্যাচারেও লক্ষ্যে স্থির ছিলেন ‘কারগিল-হিরো’

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 23, 2016 12:03 pm|    Updated: July 23, 2016 12:03 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর৷ কিন্তু এখনও সেদিনের কথা মনে পড়লেও ভয়-আতঙ্ক তাড়া করে তাঁকে৷ তবে সেই ভয়কে জয় করেও এখনও দায়িত্বে অবিচল তিনি৷ গ্রূপ ক্যাপ্টেন কে নচিকেতা৷ কারগিল যুদ্ধের অন্যতম হিরো৷ পাকিস্তানের জওয়ানদের হাতে বন্দি হয়েছিলেন৷ সহ্য করতে হয়েছিল অত্যাচার৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজের দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি৷ তিনি৷

সালটা ১৯৯৯৷ তখন চলছিল কারগিল যুদ্ধ৷ তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৬ বছর৷ পেশায় ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান চালক৷ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রায় ৯৭ হাজার ফুট উপর থেকে কারগিলে পাক-ঘাঁটি লক্ষ্য করে বম্বিং করতে হবে৷ কথামতো দায়িত্বপালন করতে শুরু করেন তিনি৷

কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন৷ গ্রূপ ক্যাপ্টেন নচিকেতা বুঝতে পারেন, তাঁর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ মাঝ আকাশে জ্বালানিও শেষ৷ তখন একটাই চিন্তা, যে করেই হোক, ইঞ্জিন ফের চালাতেই হবে৷ কিছুক্ষণ চেষ্টার পরই দেখা যায় যে, তুমানস্কি টার্বো জেটের ইঞ্জিন আবার চলতে শুরু করেছে৷ কিন্তু যুদ্ধ অঞ্চল থেকে বেরনোর আগেই একরকম জবাব দিয়ে দেয় তাঁর যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন৷ কোনওমতে মাটিও ছুঁলেও তা ছিল সম্পূর্ণভাবেই শত্রুশিবিরে৷ মাঝ আকাশ থেকে মাটিতে পড়ার ধকল সহ্য করতে না পেরে খানিক অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি৷ পরে জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারেন যে, তাঁকে যে করেই হোক, নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে হবে৷ কিন্তু সেই সময়ই তিনি বুঝতে পারেন, তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে৷ প্রাণ বাঁচাতে নিজের পিস্তল বের করেন৷ কিন্তু শত্রুশিবিরে এ কে৫৬এস রাইফেলের সঙ্গে বেশিক্ষণ ধরে পাল্লা দিতে পারেননি নচিকেতা৷ ব্যস, পাক নর্দার্ন লাইট ইনফ্যানট্রির হাতে ধরা পড়েন যান তিনি৷

আর তার পরই সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা৷ আটদিন পাক-অত্যাচার সহ্য করতে হয় তাঁকে৷ কিন্তু ভাগ্যের কি চমক! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “একটানা এমন অত্যাচার সহ্য করার সময় মনে হত, এর থেকে মরে যাওয়া খুব সহজ৷ কিন্তু আমার ভাগ্য ভালো ছিল, থার্ড ডিগ্রি অত্যাচার শুরু হওয়ার আগেই আমাকে তুলে দেওয়া হয় রেড ক্রসের হাতে৷” সেই সময় ক্যাপ্টেন নচিকেতাকে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার৷

মুক্ত হওয়ার পর তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য হাজির ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী৷  এখন আর যুদ্ধবিমান চালাতে পারেন না বন্ধুমহলে ‘নচি’ নামে জনপ্রিয় নচিকেতা৷ পাক-অত্যাচারে পিঠে গুরুতর চোট পান তিনি৷ আর সেজন্যই এখন আর যুদ্ধবিমান চালানোর যোগ্য নন তিনি৷ কারগিল যুদ্ধের এত বছর পরে এখন ভারতীয় বায়ুসেনার ট্রান্সপোর্ট ফ্লিটের পাইলট হিসেবে দযিত্ব পালন করছেন এই বীর জওয়ান৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement