দীপাঞ্জন মণ্ডল, নয়াদিল্লি: আগামী সাতদিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করা যাবে না কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন নগরপাল রাজীব কুমারকে। শুক্রবার শুনানি শেষে এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও তদন্তের স্বার্থে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে সিবিআই। এছাড়াও গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজীব কুমারকে দেওয়া ‘ইন্টেরিম প্রটেকশন’ অর্ডার তুলে নিয়েছে শীর্ষ আদালত।
গতকালই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে হাজিরা দিয়েছিলেন রাজীব কুমার। সারদা মামলায় এবার কি সিবিআইয়ের হেফাজতে জেরার মুখে পড়তে হবে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে? এই প্রশ্নে তোলপাড় হচ্ছিল রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতি। তাঁকে জেরা করলে অনেক রাঘব বোয়ালের নাম বেরিয়ে আসবে বলে আগেই জানিয়েছিল সিবিআই। এদিন বিচারপতি ইন্দিরা ব্যানার্জী ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার ভ্যাকেশন বেঞ্চ জানায়, সাতদিনের মধ্যে চাইলে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করতে পারেন রাজীব কুমার।
উল্লেখ্য, সারদাকাণ্ডে প্রথমে আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের নেতৃত্বে সিট গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। সিবিআই তদন্তভার নেওয়ার আগে পর্যন্ত তদন্ত চালিয়েছে রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ, সিট যখন সারদাকাণ্ডে তদন্ত করছিল, তখন প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছেন রাজীব কুমার। সিবিআইয়ের তদন্তকারীর আধিকারিকদের সঙ্গেও সহযোগিতা করেননি তিনি। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে সিবিআই। বস্তুত, কলকাতায় যখন রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছিলেন তদন্তকারীরা, তখন রীতিমতো বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে থেকে সিবিআই আধিকারিকদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শেষপর্যন্ত শিলং-এ রাজীবকে সিবিআইয়ের জেরার মুখোমুখি হতে হয়।সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে রাজীব কুমারকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছে সিবিআই। আদালতে পালটা হলফনামা দিয়ে রাজীব কুমার বলেছেন, সিবিআই যা করছে, সবটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। গত ২ মে রায় ঘোষণার কথা থাকলেও, শেষপর্যন্ত রায়দান পিছিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-র ডিভিশন বেঞ্চ।