মণিশংকর চৌধুরি, শিলং: শিলংয়ের ঠান্ডা পরিবেশে শনিবার দিনভর নাটকের পরও পরিস্থিতি তেমন উত্তপ্ত হয়নি। সিবিআইকে তদন্তে সহযোগিতা করেই দপ্তর থেকে বেরিয়েছিলেন রাজীব কুমার। তবে দ্বিতীয় দিনের ছবিটাও কি একইররম থাকবে?
আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। তারপরই ফের সিবিআইয়ের মুখোমুখি হতে হবে রাজীব কুমারকে। শনিবার দীর্ঘ আট ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর কলকাতার পুলিশ কমিশনার শিলংয়ের সিবিআই দপ্তরের বাইরে আসতেই জানা গিয়েছিল, রবিবার তাঁকে ফের হাজিরা দিতে হবে। সেই মতো আজ সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যেই হয়তো হাজির হয়ে যাবেন তিনি। তবে এদিন রাজীব কুমার একা নন, আসবেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড সাংসদ কুণাল ঘোষও। তাঁকে সিবিআইয়ের কোন প্রশ্নে জর্জরিত হতে হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
[আট ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা, রবিবার ফের হাজিরা দেবেন রাজীব কুমার]
ইতিমধ্যেই শিলং পৌঁছে গিয়েছেন সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, আইনজীবীর সঙ্গে শলা পরামর্শ করেই এসেছেন। তদন্তে সিবিআইকে সবরকম সহযোগিতা করবেন। তবে প্রশ্ন হল, কুণাল ঘোষকে কী সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হতে পারে? শোনা যাচ্ছে, তাঁর জন্যও আলাদা প্রশ্নমালা তৈরি হয়েছে। সারদা এবং রোজভ্যালি সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে কুণাল ঘোষের থেকে জানতে চাইতে পারেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, এদিন রাজীব কুমার ও কুণাল ঘোষকে প্রথমে আলাদা করে এবং পরে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পরস্পরের বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে কিনা, সেদিকেও নজর থাকবে সিবিআই আধিকারিকদের।
প্রথম দিনের মতো রবিবারও সিবিআই দপ্তরের সামনেও নিরাপত্তা আঁটসাট। মেঘালয়ে কনরাড সাংমার এনপিপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অংশ বিজেপিও। কিন্তু সম্প্রতি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা-সহ উত্তরপূর্বের অন্য রাজনৈতিক দলগুলির। আর তার জেরেই রাজীব কুমারকে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছে উত্তরপূর্বের রাজনৈতিক মহল। এমনও শোনা যাচ্ছে, রবিবারই হয়তো রাজীব কুমারকে জেরার পালা শেষ করতে পারে সিবিআই। অর্থাৎ দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা নাটকীয় পরিস্থিতিতে আপাতত পর্দা পড়তে পারে আজই। কারণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মুহূর্তে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাই এদিনই সিবিআই-রাজীব কুমার শিলং পর্বের ইতি ঘটতে পারে। তবে দ্বিতীয় দিন ঝুলি থেকে কোনও সাপ বেরিয়ে আসে কিনা, তা জানতেই সরগরম রাজনৈতিক মহল। যদিও পরিবেশ পরিস্থিতি বিচার করে কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না।
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বাস ভাইদের অবিশ্বাস্য কীর্তি! এলআইসির জমি ‘জবরদখল’ সুরুচি সংঘের
-
আর জেড প্লাস নিরাপত্তা নেই লালুর, লাঠি হাতেই বাড়ি পাহারায় দলের কর্মীরা
-
‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ মুক্তির জন্য ১৩ লক্ষ ঘুষ! স্বরূপ-পিয়ার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শতদীপ
-
‘তফাত শিরদাঁড়ায়’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে ‘হারাধনের দশ ছেলে’কে স্যালুট সুদীপ্তার, বিঁধলেন কোন ‘বিপ্লবী’দের?
-
লন্ডনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হেনস্তা! নিন্দায় সরব ভারত, নেপথ্যে ‘ডিপ স্টেট’?