Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
West Bengal Assembly Election

লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন, বঙ্গ ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

২০২১ সালে বাংলার ৮ দফা ভোটে মোতায়েন করা হয়েছিল মোট ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবারে তার থেকেও বেশি বাহিনী কীভাবে বাংলায় মোতায়েন করা হবে তা ভাবতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে অমিত শাহ-র মন্ত্রক।

Advertisement
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১৫:৫৭

link
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১৫:৫৭

options
link
লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন, বঙ্গ ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ zoom
ফাইল ছবি

এবারের বাংলার বিধানসভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে বাংলার ভোটে গতবারের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি করা করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকেও এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে বাহনী মোতায়েন করার দাবি উঠেছে। ২০২১ সালে বাংলার ৮ দফা ভোটে মোতায়েন করা হয়েছিল মোট ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবারে তার থেকেও বেশি বাহিনী কীভাবে বাংলায় মোতায়েন করা হবে তা ভাবতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে অমিত শাহ-র মন্ত্রক।

পড়শি দেশে একের পর এক নির্বাচন রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে বাংলাদেশ এবং মার্চ মাসের ৫ তারিখে নেপালে নির্বাচন। দুটি দেশের ভোট ঘিরেই ভারতের পূর্ব সীমান্তে বাড়ছে চাপ। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তে ভোটের সময় নিরাপত্তা সামলানোই বড় চাপ হয়ে উঠেছে কেন্দ্রের কাছে। তারপরেই রয়েছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে একদিকে কমিশন অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি দু-দিক থেকেই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের চাপ রয়েছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা বজায় রাখা, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুশৃঙ্খল ভোট নিশ্চিত করা–এই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করাই এখন শাহ মন্ত্রকের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তাকে কোনওভাবেই দুর্বল করা যাবে না। ফলে সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বিএসএফ ও এসএসবি-র বাহিনীকে পূর্ণ শক্তিতেই মোতায়েন রাখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলার ভোটে প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বাহিনী জোগাড় করতে হচ্ছে রোটেশনাল ও দফাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে বাংলার চাপ বেশি বলেই জানানো হয়েছে। এপ্রসঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই একটি হাই ডিপ্লয়মেন্ট স্টেট। সেখানে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। একাধিক জেলা ‘সেন্সিটিভ’ ও ‘ক্রিটিক্যাল’ তালিকায়। ভোটের পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী সময়েও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্ত কারণেই বাংলার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চাহিদা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বেশি হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, বাংলার ভোটে বেশি বাহিনী মোতায়েনের দাবি ওঠায় ভোটের দফা ও সময়সূচি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব সেই রাস্তাই খোঁজার চেষ্টা চলছে। এপ্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকের কথায়, “একই সময়ে সব জায়গায় সর্বোচ্চ বাহিনী রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরিকল্পিত রোটেশনই একমাত্র পথ। তাছাড়া বাংলায় শুধু ভোটের দিন নয়, ফল ঘোষণার পরের সময়কেও সর্বাধিক সংবেদনশীল পর্যায় হিসাবে ধরা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভোট শেষ হওয়ার পরেও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সবকিছুই এখন আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বাংলার ভোটে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভোট-পরবর্তী সময়েও সতর্কতা বজায় রাখার চাপ রয়েছে। সমস্ত সিদ্ধান্তই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে।” সব মিলিয়ে, সীমান্ত সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রেখে পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা শাহ-মন্ত্রকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায় কতটা থাকবে ও কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে সেই সিদ্ধান্ত বাংলার ভোটের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.