৭ ভাদ্র  ১৪২৬  রবিবার ২৫ আগস্ট ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, চেন্নাই: বিজ্ঞান আর ঈশ্বরবাদের মধ্যে নাকি চিরকালীন দ্বন্দ্ব৷ এই দ্বন্দ্বের মাঝেও কিন্তু মিলনের নমুনা আছে৷ বিজ্ঞানীরাও ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরবিশ্বাসী হন, হতেই পারেন৷ পরম্পরায় এমনই ঐতিহ্যের নিদর্শন আছে এদেশের সর্বোচ্চ মহাকাশ গবেষণা সংস্থায়৷ যে কোনও মহাকাশযানের সফল উৎক্ষেপণের আগে নাকি ইসরো প্রধানরা নিজেদের আস্তিক্যবাদে তাড়িত হয়ে দেবতার আশীর্বাদ নেন৷ শ্রীহরিকোটার আশেপাশে যত মন্দির আছে, সমস্ত মন্দিরে শুভ কাজের আগের দিন পুজো দেওয়া হয়৷

[আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে গাড়ি নিয়ে স্টান্টবাজি, কাঠগড়ায় বিজেপি নেতার ভাইপো]

মহাকাশ গবেষণায় ভারত এখন পাল্লা দিচ্ছে প্রথম বিশ্বের অনেককেই৷ দেশের বহু প্রতীক্ষীত প্রকল্প দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযান, চন্দ্রযান ২-এর উৎক্ষেপণ৷ রবিবার ভোররাত ২টো ৫১ মিনিটে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ কাটিয়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা হবে সে৷ এই প্রকল্পের সাফল্য মহাকাশ দুনিয়ায় ভারতের স্থান আরও উঁচু করে দেবে৷ তাই চন্দ্রযানের অভিযানের আগে ঐতিহ্য মেনেই পুজো দেওয়া হয়েছে শনিবার৷

k-shivan

শনিবার শ্রীহরিকোটায় গবেষণা কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাডের কাছেই একটি ছোট মন্দির আছে৷ সেখানে গিয়ে ইসরো প্রধান কে শিবন পুজো দিয়েছেন৷ এছাড়া দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত মন্দির তিরুপতি ভেঙ্কটেশ্বরেগিয়ে পুজো দিয়েছেন ইসরো প্রধান৷ এছাড়া দেশের এত বড় এক প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই শ্রীহরিকোটা পৌঁছেছেন সস্ত্রীক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ৷ তিনিও এদিন তিরুপতি মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন৷ সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করেন৷ তাঁকে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে শাল উপহার দেওয়া হয়৷ রবিবার গভীর রাতে তিনি ইসরোয় বসেই চন্দ্রযান উৎক্ষেপণের সাফল্যের স্বাদ নেবেন৷ আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে থাকবেন দিল্লির মহাকাশ গবেষণা মন্ত্রণালয়ে৷ সেখান থেকে তিনি রকেট উৎক্ষেপণের সাক্ষী হবেন৷

[আরও পড়ুন:অমরিন্দরের সঙ্গে বিবাদের জের, অবশেষে মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা সিধুর]

এদিকে, চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণের জন্য ওই এলাকার আকাশপথে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বিমান চলাচল৷ আশেপাশের সমস্ত বিমানবন্দর যেমন হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, ত্রিচি থেকে বহু বিমান বাতিল করা হয়েছে৷ ঘুরপথে বা সময় বদলে চলছে বেশ কিছু বিমান৷ আরেকদিকে উৎক্ষেপণের আকাশসীমা অঞ্চলের আওতায় পড়ায় কলম্বো বিমানবন্দরেও একই পরিস্থিতি৷ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বিমান চলাচল৷ আর ৭ ঘণ্টা পর থেকে সম্পূর্ণভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যাবে৷ যে কোনও রকেট উৎক্ষেপণের সময়েই আকাশসীমায় বিমান নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ তবে এবার আরও বাড়তি পদক্ষেপ৷

হাতে সময় আর মাত্র ১১ ঘণ্টা৷ চাঁদের দিকে ভারতের অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ৷ প্রায় ৭০ ঘণ্টা ধরে মহড়া চলেছে চন্দ্রযান ২-এর বিভিন্ন অংশের৷ সকাল থেকে সবকটি যন্ত্রাংশের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে৷ সবটা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, কোথাও শেষ মুহূর্তে কোনও ত্রুটি রয়ে গেল কি না, তা একেবারে নিশ্চিত করতে খুঁটিয়ে পরীক্ষা হয়েছে৷ তাতে খুব ভালভাবেই পাশ করে গেছে গোটা মহাকাশযানটি৷ নেটওয়ার্ক পরীক্ষা চলছে ইসরোর হেডকোয়ার্টার তথা বেঙ্গালুরুর স্পেস সেন্টার থেকে৷ এখন শুধু কাউন্টডাউন৷ মাঝরাতেই চন্দ্রমুখে পাড়ি দেবে ভারত৷  

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং