Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১০ জুলাই ২০২৬
Supreme Court

‘শিশুর যৌন নির্যাতন জেনেও চুপ থাকা অপরাধ’, পকসো মামলায় বড় নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

যদি কোনো শিশু কাউকে বলে যে তার সঙ্গে যৌন অপরাধ ঘটেছে, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে শ্রোতা ব্যক্তিটি অপরাধটি সম্পর্কে জানত। এক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু প্রত্যক্ষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সরাসরি প্রাপ্ত তথ্যও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১০, ২০২৬, ১৭:১৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১০, ২০২৬, ১৭:১৬

options
link
‘শিশুর যৌন নির্যাতন জেনেও চুপ থাকা অপরাধ’, পকসো মামলায় বড় নির্দেশ শীর্ষ আদালতের zoom
কোনও নাবালক বা নাবালিকা যদি দাবি করে তার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, তবে সেই অভিযোগকে সত্য বলেই বিবেচনা করতে হবে।

কোনও নাবালক বা নাবালিকা যদি দাবি করে তার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, তবে সেই অভিযোগকে সত্য বলেই বিবেচনা করতে হবে। শুধু তাই নয়, নাবালিকা যদি কাউকে এই তথ্য দেয়, তবে সেই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অবশ্যই পুলিশকে তা জানাতে বাধ্য থাকবেন। যদি এই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পরও সেই ব্যক্তি বিষয়টি এড়িয়ে যান, তাহলে তা ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। পকসো আইন সংক্রান্ত এক মামলায় এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট।

এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ পসকো অপরাধ এবং সেই অপরাধের সম্পর্কে অবগতদের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, ঘটনা সম্পর্কে অবগত থাকার অর্থ সেই ব্যক্তি বিষয়টি জানত। যদি কোনো শিশু কাউকে বলে যে তার সঙ্গে যৌন অপরাধ ঘটেছে, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে শ্রোতা ব্যক্তিটি অপরাধটি সম্পর্কে জানত। এক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু প্রত্যক্ষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সরাসরি প্রাপ্ত তথ্যও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অরুণাচলের এক স্কুলে ৮ বছরের এক বালিকার যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এমনটাই জানিয়েছে আদালত। জানা গিয়েছে, ওই বালিকা স্কুলেই উঁচু ক্লাসের এক পড়ুয়ার দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এই বিষয়টি সে তার শিক্ষক, বড় বোন এবং সহপাঠিদের কাছে জানিয়েছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, যৌন হেনস্তার ক্ষেত্রে সব সময় শারীরিক আঘাতের চিহ্ন থাকা আবশ্যক নয়। এক্ষেত্রে নাবালিকার অভিযোগকেই সত্য বলে মানতে হবে।

এই মামলা গুয়াহাটি হাই কোর্টে উঠলে আদালত অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকা এই বলে মুক্তি দেয় যে, নাবালিকার শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন নেই, ফলে অপরাধ সম্পর্কে আদালত নিশ্চিত নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি খারিজ করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, যৌন হেনস্তার ক্ষেত্রে সব সময় শারীরিক আঘাতের চিহ্ন থাকা আবশ্যক নয়। এক্ষেত্রে নাবালিকার অভিযোগকেই সত্য বলে মানতে হবে। এবং দ্বিতীয়ত, মেয়েটির কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানানোয় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পসকো আইনের ২১ ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭৬ ধারায় অভিযোগ দায়েরের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

সর্বোচ্চ আদালত আরও উল্লেখ করেছে, শিশুরা তাদের বয়সের কারণে প্রায়শই কোনও ঘটনার গুরুত্ব সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। এক্ষেত্রে, অস্পষ্ট চিত্রটি স্পষ্ট করার জন্য তাদের সংক্ষিপ্তভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, কিন্তু এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্য উদ্ঘাটন করা, তাদের অভিযোগ দমন বা খারিজ করা নয়। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নির্যাতিতার বড় বোন, বান্ধবী এই মামলায় অভিযুক্ত কিন্তু তারা নাবালিকা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। যারা এই অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না, তাঁদের কাউকেই দাবি করা যাবে না। কিন্তু যারা যুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.