৩০ চৈত্র  ১৪২৭  মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

রাহুলের হাত ধরেই উত্তরপ্রদেশে সাইকেল চালাবেন অখিলেশ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 23, 2017 9:37 am|    Updated: October 27, 2020 1:06 pm

An Images

নন্দিতা রায় ও হেমন্ত মৈথিল, নয়াদিল্লি ও লখনউ: সোনিয়ার সূত্রে মিলল অঙ্ক৷

ঠিক হল, অবশেষে রাহুলের হাত ধরেই সাইকেল চালাবেন অখিলেশ৷ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট পাকা হল৷ এই জোট অনেকদিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ৷ শেষবেলায় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আসরে নামা তো বটেই, সেই সঙ্গে সংগঠনে সফল নেত্রী হিসাবেও প্রতিষ্ঠা পেলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ কারণ, গোবলয়ের সবচেয়ে বড় রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যে ক্ষমতাসীন সপা-র সঙ্গে কংগ্রেসের জোট গড়ার মূল দায়িত্বে ছিলেন তিনি৷ দুই দলের তরফে প্রথম থেকে সংযোগ রক্ষা করেছেন প্রিয়াঙ্কা এবং অখিলেশ যাদবের স্ত্রী সাংসদ ডিম্পল৷ সূত্রের খবর, শেষমেষ সোনিয়ার নির্দেশেই অখিলেশের সঙ্গে জোট নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে যান প্রিয়াঙ্কা৷ তাতেই মেলে রফাসূত্র৷ দলের নেতাদের মতে জোটের কারিগর প্রিয়াঙ্কাই৷ অন্যদিকে, সপার নেতৃত্বভার হাতে তুলে নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সফল ও সন্তোষজনক জোট করাটা অখিলেশের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল৷

রবিবার লখনউয়ের তাজ হোটেলে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজ বব্বর ও সপা-র রাজ্য সভাপতি নরেশ উত্তম আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের কথা ঘোষণা করলেন৷ বিধানসভার ৪০৩ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে সপা এবং ১০৫ আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে বলেই দুই দলের মধ্যে আসন রফা হয়েছে৷৷ তবে, কোন আসনে কে প্রার্থী দেবে সেই বিষয়টি নিয়ে এদিন কিছু জানানো হয়নি৷ ইতিমধ্যে দুই দলই আলাদা আলাদা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে৷ তাতে, বর্তমানে কংগ্রেসের হাতে থাকা আসনেও সপা প্রার্থী দিয়েছে৷ এদিন এ প্রসঙ্গেই সপা-র জাতীয় সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দ জানিয়েছেন, “কংগ্রেসের হাতে থাকা আসনগুলি থেকে আমরা প্রার্থী তুলে নেব৷” উল্লেখ্য, বর্তমানে সপার হাতে রয়েছে ২২৯টি আসন এবং কংগ্রেসের হাতে রয়েছে ২৮টি আসন৷ এদিকে, সপা-কংগ্রেসের জোটকে সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি এই জোটের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন৷

কিছুদিন আগে দিল্লিতে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর ও সপা-র জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদবের মধ্যে বৈঠকের পরেই দুই দলের জোটের বিষয়টি শোনা গিয়েছিল৷ দিন এগনোর সঙ্গে সঙ্গে জোটের প্রক্রিয়াও এগোতে থাকে৷ কিন্তু চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে জোটে জট লেগে যায়৷ প্রথমে মহাজোটের কথা হলেও রাষ্ট্রীয় লোকদল তা থেকে বেরিয়ে যায়৷ পরে আসন রফা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সপা-র মতানৈক্য চরমে ওঠে৷ দুই দলই আলাদা আলদা ভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দেয়৷ জোটের ভবিষ্যত্‍ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে৷ অবশেষে শনিবার কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপে জোটের বিষয়টি পাকা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে৷ শুক্রবার সপা-র তরফ থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই দিল্লিতে রাহুলের সঙ্গে বৈঠক করেন সোনিয়া৷ পরে কংগ্রেসের নির্বাচন কমিটির বৈঠকে দলের নেতাদের সঙ্গেও জোট নিয়ে আলোচনা তিনি করেন৷ সোনিয়ার কথামতোই জোট প্রক্রিয়া এগোতে তৎপর হন কংগ্রেস নেতারা৷ অন্যদিকে লখনউয়ে অখিলেশও সপা নেতাদের জোট নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন৷ শনিবার বেশি রাতে রাহুল ও অখিলেশের মধ্যে আরও একদফা কথা হয় বলেও সূত্রের খবর৷

সপা-কংগ্রেস জোট হওয়াতে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সমীকরণ পাল্টে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে৷ বব্বর জানান, “এই জোটের উদ্দেশ্য রাজ্যে বিজেপিকে আটকানো৷ দুই দল একসঙ্গে হয়েছে৷ ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য এই জোট৷ এই জোট উত্তরপ্রদেশকে প্রগতির পথে নিয়ে যাবে৷” এই জোটের ফলে বিজেপির কতটা ক্ষতি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা না গেলেও ত্রিমুখী লড়াইয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখল বিজেপির জন্য কঠিন হল বলেই মনে করা হচেছ৷ তবে জোটের ফলে মায়াবতীর দল বসপা-র ঘরে সংখ্যালঘু ভোটের সংখ্যা কমবে তা নিশ্চিত৷

আবার সপা-কং জোট হলেও এদিনই সপা-র নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন অখিলেশ৷ উল্লেখযোগ্যভাবে, সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না মুলায়ম সিং যাদব৷ তরুণদের স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের মাসে এক কেজি করে ঘি, শিশুদের মাসে এক কেজি করে গুঁড়ো দুধ, গরিব মহিলাদের প্রেশার কুকার ও পেনশন যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের এক কোটি লোককে মাসে এক হাজার টাকা করে পেনশনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে সপার ইস্তাহারে৷ জানা গিয়েছে, কংগ্রেসও খুব শীঘ্র আলাদা ইস্তাহার প্রকাশ করবে৷

ইস্তেহার প্রকাশের অনুষ্ঠান শুরুর সময় মুলায়ম সিং যাদব বা শিবপাল কেউই সেখানে ছিলেন না৷ বাবাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে আসার জন্য আজম খানকে মুলায়মের বাড়িতে পাঠান টিপু৷ স্ত্রী ডিম্পল ও অন্য নেতাদের পাশে নিয়েই অখিলেশ ইস্তেহার প্রকাশ করেন৷ পরে আজম খান অনেক বোঝানোর পরে ইস্তেহারে প্রকাশের পরে দলীয় দফতরে আসেন মুলায়ম৷ বাবার সঙ্গে দেখা করতে সস্ত্রীক তাঁর দফতরের ঘরে হাজির হন টিপু৷ পরে সেখান থেকে তাঁদের সকলকে একসঙ্গে হাসিমুখেই বেরোতে দেখা গিয়েছে৷ আপাতত হাসতে দেখা গেলেও এরপরে মুলায়ম ইস্তাহার নিয়ে নতুন কোনো বোমা ফাটাবেন কি না, সেনিয়ে চিন্তায় রয়েছেন অখিলেশ শিবিরের নেতারা৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement