সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার লড়াই ছিল কঠিন। প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি জাতীয় স্তরের নেতারা তাঁকে হারাতে মাঠে নেমেছিলেন। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, দুর্জয় ঘাঁটি বাংলার মাটি জয় করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে হাতিয়ার করতেও পিছপা হয়নি বিজেপি। তবু সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বিরাট জয় পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর এই জয় শুধুমাত্র বঙ্গ রাজনীতি নয়, জাতীয়স্তরেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই লড়াই মমতাকে জাতীয়স্তরের নেত্রীতে পরিণত করেছে। আর একথা স্বীকার করে নিচ্ছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা কমল নাথও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৪ সালে বিজেপি বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।
বাংলা জয়ের পরই তৃণমূল নেত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের অভিজ্ঞ নেতা কমল নাথ (Congress leader Kamal Nath)। বলেন, “পরপর তিনবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কঠিন লড়াইয়ের পর বিরাট জয় পেয়েছেন তিনি। এখন তিনি জাতীয়স্তরের নেত্রী। কঠিন লড়াইয়ের পর তিনি এই পর্যায়ে পৌঁছতে পেরেছেন। জাতীয়স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।” কমল নাথের কথায়, “তাঁকে (মমতা) কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। যুদ্ধ করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে। এমনকী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, ইডি, আয়কর দপ্তরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে তৃণমূল নেত্রীকে। কিন্তু তিনি সকলকে হারিয়ে দিয়েছেন।”
[আরও পড়ুন: ভোট পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাংলায় আসছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল]
তাহলে কি ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিরোধী লড়াইয়ের প্রধান মুখ হবেন মমতা? জবাবে কমল নাথ বলেন, “এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে ইউপিএ জোট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।” তবে কংগ্রেস নেতা স্বীকার না করলেও রাজনৈতিক মহল বলছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে চব্বিশের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠবেন মমতা। বঙ্গ জয়ের পর সেই সলতে পাকানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন মমতা। বিরোধী নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। বাংলার লড়াইয়ে প্রায় সমস্ত বিজেপি বিরোধী দলই মমতার পাশে দাঁড়িয়েছিল। জয়ের পরও তাঁরা যোগাযোগ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে।
রাজনৈতিক মহল বলছে, প্রধান বিরোধী মুখ হওয়া নিয়ে মমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাহুল গান্ধী। কিন্তু কংগ্রেস এবং রাহুলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল সেই লড়াইকে ভিত্তিহীন করে দিয়েছে। তাই পরিশেষে বলা যায়, বাংলার লড়াই মমতাকে শুধু জাতীয় স্তরের নেত্রীর পদে উন্নীত করেনি, বরং মোদিবিরোধী লড়াইয়ের প্রধান মুখ হওয়ার পথে আরও কয়েক কদম এগিয়ে দিয়েছে।
[আরও পড়ুন: সাহাবুদ্দিনের শেষকৃত্য নিয়ে সরগরম বিহারের রাজনীতি, RJD থেকে পদত্যাগ মুসলিম নেতাদের]
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক