সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের খুনের পিছনে যারা রয়েছে, তারা বিজেপি ও আরএসএসের আদর্শে বিশ্বাসী বলে অভিযোগ করেছিলেন। তার জেরে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও সিপিএমের সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে সমন পাঠাল মুম্বইয়ের নগর দায়রা আদালত। ২৫ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন এই দুজনকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৭ সালে গৌরী লঙ্কেশের খুনের বিষয়ে বিজেপি ও আরএসএসের নাম জড়ানোয় ওই আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন আরএসএস কর্মী ও পেশায় আইনজীবী ধ্রুতিমান জোশী। তাঁর অভিযোগে নাম ছিল সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও সীতারাম ইয়েচুরির।

এই মামলার ভিত্তিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাহুল গান্ধী ও সীতারাম ইয়েচুরির নামে সমন ইস্যু করেন নগর দায়রা আদালতের বিচারক পিকে দেশপাণ্ডে। তবে অভিযোগে নাম থাকা সোনিয়া গান্ধী ও সিপিএমের বিরুদ্ধে কোন সমন জারির আবেদন খারিজ করে দেন তিনি। এক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগতভাবে করা মন্তব্যের দায় কোনও রাজনৈতিক দলের উপর চাপানো যায় না।
[পুলওয়ামার খবর পেয়েও শুটিংয়ে মগ্ন, মোদিকে ‘প্রাইম টাইম মিনিস্টার’ বলে কটাক্ষ রাহুলের]
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের বাড়ির সামনে খুন হন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, আরএসএস ও বিজেপির মতাদর্শের বিরোধিতা যে করবে তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। তাদের আক্রমণ করে মারধরের পাশাপাশি খুন করা হবে।
[পুলওয়ামা ইস্যুতে প্রবল চাপে পাকিস্তান, এবার মুখ ফেরাল ‘বন্ধু’ চিন]
একই অভিযোগ করেছিলেন সিপিএমের সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। বলেছিলেন, দক্ষিণপন্থী আদর্শের বিরোধিতা করার জন্যই আরএসএসের মতাদর্শে বিশ্বাসীরা তাঁকে খুন করেছে। এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেই আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী জোশী। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ ছাড়াই এই মন্তব্য আরএসএসের সম্মানহানি করেছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে কর্নাটক পুলিশের তরফে জানানো হয়, গৌরী লঙ্কেশের খুনের ঘটনায় জড়িত রয়েছে সনাতন সংস্থা নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। এরা এমএম কালবুর্গি, গোবিন্দ পানেসর ও নরেন্দ্র দাভোলকরের খুনের সঙ্গেও জড়িত।