BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জগমোহনে ফাটল, সংকটে পুরীর মন্দির

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 17, 2016 9:14 am|    Updated: May 17, 2016 9:14 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: যে কোনও মুহূর্তেই কি ভেঙে পড়তে পারে শতাব্দী প্রাচীণ পুরীর জগন্নাথ মন্দির? শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ কারণ ফাটল দেখা দিয়েছে প্রায় নয় শতাব্দী পুরনো এই দেবদেউলে৷ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রযুক্তিগত সুপারিশ গ্রাহ্য না হওয়ায় ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন দেশের পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের কর্তা অধ্যাপক গোপালচন্দ্র মিত্র৷ আর তাতেই আরও বাড়ছে জল্পনার জট৷

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রধানত দু’টি অংশ– জগমোহন এবং বিমান৷ নাটমন্দির বা জগমোহন মন্দিরের সেই অংশ যেখানে প্রধানত উপাসনার উদ্দেশ্যে সকলে জমায়েত হয়ে থাকেন৷ দ্বিতীয় অংশ হল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরিভাগ বা মন্দির চূড়া যা বিমান নামে পরিচিত৷

১০৭৮ সাল থেকে ১১৪৮ সালের মধ্যে তৈরি জগমোহন অংশটির বয়স প্রায় ন’শো বছর৷ ঐতিহাসিক এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণে ইতিমধ্যেই পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কমিটি৷

সমুদ্রের কাছাকাছি থাকাটাই মন্দিরের ফাটলের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ মন্দিরের প্রধান কাঠামো তৈরি হয়েছে স্যান্ড স্টোনে৷ ফলে তার উপর বালুর ঘর্ষণজনিত ক্ষয়ও অতি স্বাভাবিক ঘটনা৷ তাই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়মমাফিক চলতে থাকলেও বায়ুজনিত ক্ষয় হয়েছে মন্দির গাত্রের৷

পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের বিশেষ কমিটির প্রধান,  পেশায় ইঞ্জিনিয়ার অধ্যাপক মিত্র জানিয়েছেন, “জগমোহনের চারটি স্তম্ভের সর্বত্রই ফাটল দেখা দিয়েছে৷ স্তম্ভগুলি যে বিমগুলিকে আটকে রেখেছে সেই বিমগুলির গায়ের ফাটল খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে৷”  রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কমিটির পাশাপাশি টেকনিক্যাল সাপোর্ট বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি আলাদা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন অধ্যাপক মিত্র৷ মেরামতের জন্য প্রায় আড়াই কোটির বাজেট পেশ করা হয়৷ সেই প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পরেই পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি৷

কিছুদিন আগেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক জগন্নাথ মন্দিরের জগমোহনের অবস্থার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখেন৷ সেখানে তিনি আর্জি জানান, আপৎকালীন ভিত্তিতে মন্দিরের কাঠামোর মেরামত না করা হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনও সময়ে৷  মন্দিরের কাঠামোর ক্ষয় ও অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন জগন্নাথের পূজারি দয়িতাপতিরাও৷ রক্ষণাবেক্ষণে আরও দেরি হলে কত বড় ক্ষয়ক্ষতি বা দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন বলেও বলছেন তাঁরা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement