দিনরাত সোশাল মিডিয়ায় চোখ আটকে। একটা রিল দেখার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা চলে আসছে। ভিডিও শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নয়া ভিডিও দেখা শুরু! নিমেষে নষ্ট হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সোশাল মিডিয়ায় এই আসক্তি নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করল দিল্লি হাই কোর্ট। সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ইনফিনিট স্ক্রোল’ বা ‘অটোপ্লে’র মতো ফিচার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র কি কোনও পদক্ষেপ করছে? জানতে চাইল হাই কোর্ট।
বিকাশ কাঠুরিয়া নামের এক অধ্যাপক দিল্লি হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করছেন। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া অ্যাপ এমনভাবে তৈরি করা বা এমন কিছু ফিচার রয়েছে, যেগুলি গ্রাহকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা এবং আসক্তি তৈরি করে। মামলাকারীর বক্তব্য, আসল সমস্যাটা সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট বা ভিডিওতে নয় সমস্যা অ্যাপগুলির গঠনে। অ্যাপে ব্যবহার করা ‘লাইক’ বোতাম, অনবরত আসা নোটিফিকেশন, নিজের মতো সাজানো ফিড, অ্যালগরিদম, ইনফিনিটি স্ক্রোলের মতো ফিচারগুলো মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেয়। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের অজান্তেই অ্যাপে আসক্ত হয়ে ওঠেন। চাইলেও বেরিয়ে যেতে পারেন না।
আরও পড়ুন:
এই মামলার শুনানিতে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নীতীশ বাসুদেব সামরে ও বিচারপতি অমিত শর্মা ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের কাছে জানতে চাইল, এই ধরনের ফিচার রুখতে কেন্দ্রের কোনও নির্দেশিকা রয়েছে কিনা। আদালতের প্রশ্ন, ইউজারদের দীর্ঘক্ষণ অ্যাপে আটকে রাখার এই বিশেষ কৌশলগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার নীতি আনার কোনও পরিকল্পনা করেছে কিনা। সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান, বিষয়টি নিয়ে নীতি নির্ধারকদের ভাবা উচিত। কিন্তু এখনও নির্দেশ এ নিয়ে তাঁর কাছে নেই।
এরপরই আদালত জানিয়ে দেয়, এ নিয়ে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে অবস্থান জানাতে হবে কেন্দ্রকে। অ্যাপের মধ্যে লুকনো এই আসক্তি তৈরির ফিচারগুলি দূর করতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে কোনও নীতি তৈরি করা হবে কিনা, জানাতে হবে সরকারকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্ষমতা পেয়েও ভোলেননি শিকড়, মেলায় বসে পুতুল বিক্রি বিজেপি বিধায়কের!
-
‘রবীন্দ্র সরোবরের জল যেন খাওয়া যায়’, আধিকারিককে ব্যবস্থার নির্দেশ অগ্নিমিত্রার
-
লক্ষ্মীবারই তৃণমূলের প্রতীক বিবাদের নিষ্পত্তি? ফের দুই শিবিরকে ডাকল কমিশন
-
ভারতীয় ভূখণ্ডে পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত কমিশন চিনের, ‘নাটক’ বলল ভারত
-
আলমারি খুললেই ন্যাপথালিনের ঝাঁঝালো গন্ধ? শরীরে ঢুকছে রাসায়নিক, বিপদে লিভার-কিডনি!