Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Sikkim

ভূমিকম্পে ফের কাঁপল সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা! বড় কোনও বিপদ ঘনাচ্ছে? আতঙ্ক বাড়ছে বাসিন্দাদের

ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল সিকিম! বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিকভাবে কেঁপে উঠছে সিকিমের মাটি। আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে। আজ, মঙ্গলবার ফের কেঁপে উঠল পাহাড়ি রাজ্যের মাটি। এদিনের ভূমিকম্পের উৎসস্থল দক্ষিণ সিকিমের নামচি।

Advertisement
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ২১:২০

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ২১:২০

options
link
ভূমিকম্পে ফের কাঁপল সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা! বড় কোনও বিপদ ঘনাচ্ছে? আতঙ্ক বাড়ছে বাসিন্দাদের zoom
ফাটল ধরেছে একাধিক বাড়ির দেওয়ালে।

ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল সিকিম! বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিকভাবে কেঁপে উঠছে সিকিমের মাটি। আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে। আজ, মঙ্গলবার ফের কেঁপে উঠল পাহাড়ি রাজ্যের মাটি। এদিনের ভূমিকম্পের উৎসস্থল দক্ষিণ সিকিমের নামচি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুসারে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৩। গভীরতা ছিল ৫ কিলোমিটার। বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামলানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মক ড্রিল শুরু করেছে সিকিমের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। প্রাকৃতিক বিপদ সম্পর্কে রাজ্যজুড়ে স্কুলগুলিতে চলছে সচেতনতামূলক কর্মসূচি। বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তরফে ভূমিকম্পের সময় স্ট্যান্ডার্ড ভূমিকম্প সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলতে আবেদন জানানো হয়েছে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৫টা ৩৩ মিনিটে কেঁপে ওঠে নামচি। রিখটার স্কেলের মাত্রা অনুযায়ী মৃদু ভূমিকম্প হলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন বেশিরভাগ মানুষ। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মাঝ রাত থেকে পরপর ১২ বার ভূমিকম্পের ধাক্কায় আতঙ্কে হুলস্থুল কাণ্ড বাধে সিকিমে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো হোটেল ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে যান পর্যটকরাও। কম্পন অনুভূত হয় দার্জিলিং, কালিম্পং ও শিলিগুড়িতেও। কেঁপেছে নেপাল ও চিনের একাংশ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুসারে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ২.২ থেকে ৪.৫ পর্যন্ত। ওই রেশ না-কাটতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শনিবার সন্ধ্যায় ফের কেঁপে ওঠে সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। মৃদু কম্পন অনুভূত হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতে। সন্ধ্যা ৬ টা ৩৫ মিনিটে গ্যাংটক এবং সিকিমের অন্য অংশে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর ফের মঙ্গলবার।

Advertisement

তাহলে কী বড় কোনও অঘটন ঘটতে চলেছে? হিমালয়ের প্লেট কি আরও সচল হচ্ছে? কোন বিপদের পূর্বাভাস? সেসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার এবং আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছে সিকিম বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক ঘটনা এবং নিশ্চিতভাবে এর পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য মক ড্রিল পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে রাজ্যজুড়ে স্কুলগুলিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলছে। পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শান্ত থাকতে, গুজব এড়িয়ে চলতে। বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করে রাখতেও বলা হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় স্ট্যান্ডার্ড ভূমিকম্প সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের অনেক আগেই ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’-এর (বিআইএস) প্রকাশিত দেশের নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং সিকিমের সমস্ত জেলা-সহ পুরো হিমালয় অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ম্যাপের সংশোধনীটি ফল্ট-লাইন ম্যাপিং এবং টেকটোনিক স্ট্রেস বিশ্লেষণের মতো উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তাই প্রশাসনিক স্তরেও বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি তুঙ্গে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.