সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গুলবার্গ সোসাইটি হত্যা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১২ জনের সাত বছর এবং একজনের দশ বছর কারাদণ্ড দিল আমেদাবাদের বিশেষ আদালত৷ কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি৷ গত ২ জুন ২৪ জনকে গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত এবং ৩৬ জনকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছিল৷
এই রায় ঘোষণার পরই গুলবার্গ সোসাইটির নিহতের পরিজনদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়৷ তবে কাউকে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ায় স্বভাবতই হতাশ তাঁরা৷ প্রয়াত কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি জানিয়ে দিয়েছেন, লড়াই এখনও থেমে যায়নি৷ শুধু বেকসুর ৩৬ জনের বিরুদ্ধেই নয়, এই ২৪ জনের বিরুদ্ধেও উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে৷ পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই রায় কোনওমতেই মেনে নেওয়া হবে না৷ নির্দোষদের সাজা দেওয়া হয়েছে৷ উচ্চতর আদালতে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে৷
শুক্রবার আমেদাবাদে সিটের বিশেষ আদালতে যে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে বিচারক জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি মদত দেওয়া এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে৷ এদিন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ভিএইচপি নেতাও৷ আগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অতুল বৈদ্য৷ এদিন বিপিন প্যাটেলের বেকসুর খালাস হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাকিয়া৷ তাঁর অভিযোগ, এই রায় কোনওমতেই আমাদের লড়াইকে পূর্ণতা দিল না৷ সেদিন যেভাবে এতগুলো মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তারপর আমরা আরও কঠোর শাস্তি চেয়েছিলাম৷ এদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড একমাত্র শাস্তি হতে পারে৷ আমি উচ্চতর আদালতে আপিল করব৷ আমাদের লড়াই এখনও চলবে৷
গত ২ জুন আদালতের রায় ঘোষণার পর বেশ কয়েকবার পিছিয়েছে সাজা ঘোষণার দিন৷ বেশ কয়েক দফায় সাজা ঘোষণার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গিয়েছে৷ এদিন সকাল থেকেই গোটা আদালত চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা বলবৎ করা হয়েছিল৷ কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী৷ সংবাদমাধ্যমের নজর ছিল জাকিয়ার উপর৷ কিন্তু এদিন আদালতে আসেননি প্রয়াত এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া৷ ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সবরমতি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন যেভাবে উন্মত্ত জনতা গুলবার্গ সোসাইটিতে হামলা চালিয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনও ফিরছে৷ এদিন আদালতে অবশ্য নিহতদের পরিবারের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন৷
এই ১৪ বছরে লড়াই জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে৷ ২০০১ সালে রাজু রামচন্দ্রনের গোপন রিপোর্ট জনসমক্ষে আনতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত, তারপরই নতুন করে শুরু হয়েছিল সমাজকর্মী তিস্তা শেতলবাদ এবং জাকিয়া জাফরির আন্দোলন৷ যদিও সেই লড়াইয়ের পরও গোপন রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি৷ বরং সিটের রিপোর্ট হাতে পেয়েছিলেন জাকিয়া৷ সেই রিপোর্ট নিয়ে শুরু হয়েছিল নতুন করে লড়াই৷ বর্তমানে ওই এলাকায় বসবাসকারী অনেকেই বলছেন, জাকিয়ার ১৪ বছরের সেই লড়াই কিছুটা হলেও পূর্ণতা পেল৷ যদিও জাকিয়া বলছেন, আরও অনেক পথ চলা বাকি৷
সর্বশেষ খবর
-
কিং কোহলির সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা এই ৭ বইয়ের, আপনার সংগ্রহে আছে তো?
-
অসহিষ্ণু বিশ্বে এভাবেও ছিন্নমূল প্রেমের গল্প বলা যায়, ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’য় দেখালেন ইমতিয়াজ
-
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে পরপর চড়, জয়পুরে বিক্ষোভে চরম হেনস্তা! তুঙ্গে উত্তেজনা
-
বিশ্বকাপে ইবোলার থাবা? রোনাল্ডোদের বিরুদ্ধে খেলবে ‘আক্রান্ত’ কঙ্গো, কী করবে ট্রাম্প প্রশাসন?
-
যোগদিবসের আগে যোগাভ্যাসে ব্যস্ত অঙ্কুশ, ‘ময়ূরাসন’ বলে টিপ্পনি সায়ন্তিকার, রসিকতা মিমিরও