Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬

কন্যাভ্রূণ হত্যায় এগিয়ে মোদির গুজরাট, বিয়ের জন্য পাত্রী পাবেন না পুরুষরা!

দেশজুড়ে চলা এক সমীক্ষা থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২১, ১৭:১৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২১, ১৭:১৬

options
link
কন্যাভ্রূণ হত্যায় এগিয়ে মোদির গুজরাট, বিয়ের জন্য পাত্রী পাবেন না পুরুষরা! zoom
Advertisement

স্টাফ রিপোর্টার: নিজের সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে গলা টিপে হত্যা করেছেন মা। বুধবার একবালপুর নার্সিংহোমের ঘটনায় শিউরে উঠেছেন অনেকেই। তবে এমন ঘটনা আখছার গুজরাত, রাজস্থানে। কন্যাভ্রূণ হত্যায় দেশের প্রথম পাঁচ রাজ্য পাঞ্জাব, হরিয়ানা, গুজরাট, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ। নেপথ্যে মান্ধাতার আমলের সংস্কার। কন্যাসন্তান চাই না। পুত্রসন্তান চাই। সমাজবিদরা বলছেন, এ প্রবণতা মারাত্মক। যে পথে দেশ এগোচ্ছে তাতে কয়েক বছর বাদে পাত্রী পাবেন না অনেক রাজ্যের পুরুষই। জঠরে অথবা হাসপাতালের বেডেই কন্যাসন্তানকে টুঁটি টিপে ধরে আদতে নারী—পুরুষের ভারসাম্যকে নষ্ট করে দিচ্ছেন তাঁরা। দেশের একাধিক রাজ্যে পুরুষদের থেকে মহিলার সংখ্যা ক্রমশ কমছে। হরিয়ানা এক হাজার ছেলে পিছু মেয়ের সংখ্যা মাত্র ৮৭১। রাজস্থানে এক হাজার ছেলে পিছু মেয়ের সংখ্যা ৯৪৮। গুজরাটে এই অনুপাত আরও খারাপ।

রাষ্ট্রসংঘের হিসেব বলছে, দেশে প্রতি বছর সাড়ে চার কোটি মেয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। যার মূল কারণ কন্যাদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ মনোভাব। এখনও একাধিক পরিবারে পুত্রসন্তানের প্রতি মা—বাবার অতিরিক্ত টান দেখা যায়। ফলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে অথবা পরে কন্যাসন্তানকে খুন করে দেয় পরিবার। যেমনটা হয়েছে একবালপুরে। নিজের সদ্যোজাতকে গলা টিপে খুন করে বছর একুশের লাভলি জানায়, শ্বশুরবাড়ি থেকে পুত্রসন্তানের চাপ ছিল। খুব বেশিদিন নয়, ২০১২ সালেও কন্যা হত্যায় সারা পৃথিবীর মধ্যে ভারত ছিল এক নম্বরে। সে অবস্থা যে বদলায়নি তারই প্রমাণ বুধবারের ঘটনা। সমাজবিদ রত্নাবলী রায় জানিয়েছেন, প্রথমে একটি মেয়ে হয়েছে। তাতে খুশি নয় দম্পতি। অগুনতি পরিবারে আখছার় এমনটা দেখা যায়। পুত্রসন্তানের আশায় ফের তারা সন্তানের জন্ম দেয়। দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে হলে তাকে নিকেশ করে দেওয়া হয়। কতজন এমন মেয়ে খুন হচ্ছে?

Advertisement

[আরও পড়ুন: চিনের সঙ্গে সংঘাতের আবহে অসমে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শন ভারতীয় সেনার]

দেশজুড়ে তার একটি সমীক্ষা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, পাঞ্জাবে প্রতি হাজারে সাড়ে তিনশো এমন কন্যাসন্তান উধাও হয়ে যায়। হরিয়ানায় তা ২৮০, গুজরাটে সাড়ে চারশো। মনোবিদ তথা সমাজকর্মী রত্নাবলী রায়ের বক্তব্য, পুত্রসন্তান বংশ রক্ষা করবে এমন ভ্রান্ত ধারণা সমাজের গভীরে ঢুকে গিয়েছে। একদিকে লাভলিনা, মীরাবাঈয়ের মতো মহিলা খেলোয়াড়রা অলিম্পিকে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। অন্যদিকে সমান্তরালভাবে চলে আসছে কন্যাভ্রূণ হত্যার ট্র‌্যাডিশন। এর জন্য দায়ী সমাজব্যবস্থা। ভারতীয় সমাজ সংস্কৃতিতে নারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার। হরিয়ানা, পাঞ্জাবে তো এটা গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।

নতুন সমীক্ষা আরও ভয়াবহ। যেখানে দেখা যাচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ৬৮ লক্ষ কন্যাসন্তানকে জন্মের পূর্বেই মুছে দেওয়া হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে কন্যাভ্রূণ হত্যায় দেশে প্রথম স্থান দখল করবে উত্তরপ্রদেশ।

[আরও পড়ুন: জনসংযোগ কর্মসূচির মাঝেই সুস্মিতা দেবের গাড়ি ভাঙচুর ত্রিপুরায়, ছিনতাই ব্যাগ-মোবাইল!]

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.