হোলির দিন প্রেমিকার গালে রং মাখিয়েছিল অন্য এক যুবক। সেই অপরাধে যুবককে রেললাইনে বেঁধে রাখল প্রেমিক। ট্রেনে চাপা পড়ে খণ্ডবিখণ্ড হল দেহ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে হরিয়ানার পানিপথ এলাকায়। খুনের পর এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত-সহ মোট ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই এলাকায় রেললাইনের উপর থেকে উদ্ধার হয়েছিল কালু নামে এক যুবকের মৃতদেহ। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল তার। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক সূত্র পায় পুলিশ। সেখান থেকেই জানা যায় এই ঘটনা আত্মহত্যা নয় খুন। এরপরই ধাপে ধাপে সামনে আসে গোটা ঘটনা। পুলিশের দাবি, কালু নামে মৃত যুবকের সঙ্গে পুরনো শত্রুতা ছিল সঞ্জু নামে এক যুবকের। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে হোলির দিন সঞ্জুর বান্ধবীর গালে রং মাখিয়েছিল কালু। তাতেই রেগে এই কাণ্ড ঘটায় অভিযুক্ত।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিকভাবে এই ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক সূত্র পায় পুলিশ। সেখান থেকেই জানা যায় এই ঘটনা আত্মহত্যা নয় খুন।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে কালুকে একদিন মদের আসরে আমন্ত্রণ করেছিল সঞ্জু। সঙ্গে ছিল আরও ২ জন। মদ খাইয়ে তাঁকে কার্যত বেহুঁশ করার পর শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করে সঞ্জু। তবে সে চেষ্টা সফল না হওয়ায় এরপর রেললাইনের উপর কালুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে অভিযুক্ত। মদের নেশায় থাকায় নিজেকে বাঁচাতে পারেননি যুবক। ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। শুরুতে এই ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও তদন্তে জানা যায় এটি খুন। এরপরই মাহমুদপুর থেকে সন্দেহভাজন তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদেই সামনে আসে সব তথ্য।
শুধু তাই নয়, তদন্তে অভিযুক্ত আরও দাবি করেছে, অনেকদিন ধরেই কালুর উপর রাগ ছিল তাঁর। কালু একদিন তার মোটরসাইকেল চেয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সেই গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এর জেরে বাইকের ক্ষতি হলেও তা সারানোর টাকা দেয়নি কালু। সেই থেকেই তাঁর উপর রাগ ছিল। এরপর বান্ধবীর গালে রং মাখানোয় কালুকে খুনের সিদ্ধান্ত নেয় সঞ্জু।