BREAKING NEWS

১৮ শ্রাবণ  ১৪২৭  সোমবার ৩ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

খালি পায়ে কলেজ যাত্রা থেকে ইসরোর চেয়ারম্যান, অনুপ্রেরণা দেবে শিবনের জীবনযুদ্ধ

Published by: Subhajit Mandal |    Posted: September 7, 2019 3:20 pm|    Updated: September 7, 2019 3:20 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তিনি ইসরোর চেয়ারম্যান। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অভূতপূর্ব সাফল্যের অন্যতম কারিগর। চাঁদের এক্কেবারে কাছে পৌঁছে যাওয়া থেকে শুরু করে গগণযানের প্রস্তুতি। সবকিছুর পিছনে রয়েছে ডঃ কৈলাসাভাদিভো শিবনের প্রখর মস্তিষ্ক। একদিকে রাজনৈতিক চাপ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দু’দিক সামাল দিয়ে যেভাবে চন্দ্রযান মিশন ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছে, সেটাও তো কম কথা নয়। তাই, নিঃসন্দেহে ইসরোর চেয়ারম্যানের প্রশংসা প্রাপ্য। আসলে, লড়াইটা তিনি ছোটবেলা থেকেই শিখে এসেছেন। তাঁর স্কুলজীবন থেকে শুরু করে কলেজজীবন পর্যন্ত চরম দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে তিনি ইসরোর চেয়ারম্যান পদ পর্যন্ত পৌঁছেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রাণিত করার মতো।

[আরও পড়ুন: পরীক্ষায় একাধিকবার ফেল ল্যান্ডার বিক্রম! গুঞ্জন ইসরোর আশেপাশে]

এক প্রান্তিক কৃষক পরিবারে ১৯৫৭ সালে জন্ম শিবনের। ছোটবেলায় এতটায় আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কেটেছে, যে পায়ে দেওয়ার মতো চটি বা জুতো কেনারও সামর্থ্য ছিল না। স্কুলে পড়াকালীন বাবার আম বাগানেও কাজ করতে হত। ছুটির দিনে তিনি খালি পায়ে আমবাগান পাহারা দিতেন। কাজ করতেন অন্য খেতেও। এমনকী কলেজে পড়াকালীনও আধুনিক পোশাক-আশাক কেনার মতো সামর্থ্য ছিল না শিবনের পরিবারের। দীর্ঘদিন তিনি কলেজ যেতেন ধুতি পরে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিবন একবার বলেন, “ছোটবেলায় আমার জীবন খুব মজার ছিল। স্কুলের পাশাপাশি আমাকে ফসলের খেতেও কাজ করতে হত। আমার বাবা কৃষক। আমের মরশুমে উনি আমের ব্যবসাও করতেন। ছুটির সময় আমি যখন বাড়িতে থাকতাম আমার বাবা কোনও শ্রমিক রাখতেন না। আমি তাঁকে সাহায্য করতাম।”

নিজের কলেজ জীবন নিয়ে শিবন বলেন,”এমনিতে পড়ুয়ারা কলেজ বাছেন নিজেদের পছন্দমতো। কিন্তু, আমার ক্ষেত্রে কলেজ বাছার শর্ত ছিল, কলেজটিকে আমার বাড়ির কাছে হতে হবে। আমি মাদ্রাজ আইআইটিতে ভরতি হওয়ার পর্যন্ত খালি পায়ে হাঁটতাম। এমনকী আমাদের পাজামাও ছিল না। ধুতি করেই চলত। আসলে, আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু, আমার বাবা বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া খরচসাপেক্ষ। আমি প্রতিবাদ করি। এমনকী এক সপ্তাহ না খেয়ে ছিলাম। কিন্তু, তাতেও আমার বাবাকে টলাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত নিজেই মত বদলাই। তারপর অঙ্ক নিয়ে বিএসসি করি। বিএসসি পাশ করার পর বাবা বললেন, আমি একবার তোমাকে আটকেছি, আর আটকাব না। নিজের জমি বিক্রি করে তোমাকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াব।”

[আরও পড়ুন: ৯৫% সফল মিশন চন্দ্রযান ২, আশার কথা শোনালেন বিজ্ঞানীরা]

ইসরো চেয়ারম্যান বলেন,”এরপরই আমি বি-টেক করি। তারপর বেশ কিছুদিন চাকরির অভাবে ভুগেছি। সেসময় একমাত্র হ্যালেই চাকরির সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি চাকরিটা পায়নি। তাই আরও পড়াশোনা করি। আইআইএসসি-তে ভরতি হই।” ইসরো প্রধান আক্ষেপ করেন, “আমি জীবনে যা চেয়েছি, তা কখনও পায়নি। আমি চেয়েছিলাম উপগ্রহ কেন্দ্রে যোগ দিতে, কিন্তু, আমার পোস্টিং হল বিক্রম সারাভাই সেন্টারে।”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement