Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Subhas Chandra Bose

ক্ষুব্ধ সুভাষ মনে করতেন গান্ধীজি হলেন ‘পুরনো অকেজো আসবাব’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে দুজনের মধ্যে পার্থক্য তীব্রতর হয়ে ওঠে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৫, ১৩:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৫, ১৩:২০

options
link
ক্ষুব্ধ সুভাষ মনে করতেন গান্ধীজি হলেন ‘পুরনো অকেজো আসবাব’ zoom

চন্দ্রচূড় ঘোষ: ইউরোপে নির্বাসন সুভাষের জন্য শাপে বর হয়ে ওঠে। একদিকে এটি তাঁকে একটি বিস্তৃত জনসংযোগ গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয় যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর কাজে লাগে, অন্যদিকে, ভারত থেকে দূরত্ব তাঁকে তাঁর চিন্তাভাবনা এবং কর্মপরিকল্পনাকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সংগঠিত করতে সাহায্য করে, যা তিনি ভারতে থাকলে সম্ভব হত না। এই সময়ের তাঁর লেখা এবং বক্তৃতায় দেখা যায়, গান্ধীবাদী রাজনীতির প্রতি তার বিরোধিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে। “আপনি আর কতদিন অন্ধভাবে মহাত্মা গান্ধীকে অনুসরণ করবেন?” তিনি ১৯৩৩ সালের অক্টোবরে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারকে লেখেন। এক বছর পরে মজুমদারকে আবার লেখেন, “মহাত্মা গান্ধীর অনুচরদের দ্বারা পরিচালিত ওয়ার্কিং কমিটির ওপর আমার আস্থা নেই।” 

১৯৩২ সালের আগস্টে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির প্রতি গান্ধীবাদী ‘না-গ্রহণ, না-প্রত্যাখ্যান’ অবস্থানের এবং তাঁর নিজের অনুপস্থিতিতে ক্ষমতা দখল করা বাংলার গান্ধীবাদী নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন সুভাষচন্দ্র। “আমার সেই সব প্রাক্তন সহকর্মীদের প্রতি কোনও সহানুভূতি নেই, যাঁরা তাদের নিজস্ব অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য মহাত্মা গান্ধীকে আবারও বাংলার রাজনীতিতে টেনে এনেছেন,” তিনি একটি চিঠিতে লেখেন। তিনি এও বলেন যে “ড. বি সি রায়ের দল সাম্প্রদায়িক প্রশ্নে (যা বাংলার হিন্দুদের রাজনৈতিক স্থানকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছিল) মহাত্মা গান্ধীকে সমর্থন করে বাংলার অকল্পনীয় ক্ষতি করেছে”।

Advertisement

সরকারি দমনমূলক অধ্যাদেশ প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে গান্ধী আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত করার সুপারিশ করার একদিন পর, ক্ষুব্ধ এবং হতবাক সুভাষ এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দাদা বিঠলভাই প্যাটেল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ৯ মে ১৯৩৩ একটি বিবৃতি জারি করেন। ভিয়েনা থেকে জারি করা সেই বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়ে দেন যে, “আমরা স্পষ্টতই মনে করি যে, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে মহাত্মা গান্ধী ব্যর্থ হয়েছেন।” বিবৃতিটি তৈরির সময় উপস্থিত একজন সাংবাদিক পরে জানান যে, সুভাষ সে সময়ে গান্ধীকে ‘পুরনো অকেজো আসবাব’ বলেন। সুভাষ সাংবাদিকটিকে জানান যে, গান্ধী “তাঁর সময়ে ভালো কাজ করেছেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি পথের বাধা হয়ে উঠেছেন।”

অন্যদিকে, গান্ধীও কখনও সুভাষের উপর আস্থা রাখেননি। তাঁর মনে কখনও কোনও সন্দেহ ছিল না যে, নেহরু যেমন ভিন্ন মত পোষণ করা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করতেন, তেমনটি সুভাষ কখনও করবেন না। ১৯৩৮ সালে কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে সুভাষকে মনোনীত করার সময়, গান্ধী বল্লভভাইকে লেখেন, “আমি লক্ষ করেছি যে সুভাষ পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নন। তবে, রাষ্ট্রপতি হতে পারে (এখন) এমন (আর) কেউ নেই।” সুভাষের মনোনয়ন ছিল সাময়িকভাবে একটি শূন্যস্থান পূরণ করার বাধ্যবাধকতা, কারণ গান্ধী ইতিমধ্যেই নেহরুকে পরবর্তী প্রজন্মের নেতা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। হরিপুরায় বার্ষিক অধিবেশনের ঠিক আগে ইউরোপ থেকে সুভাষকে স্বাগত জানিয়ে গান্ধী যে তারবার্তা পাঠান, তাতে তাঁর কথাগুলির তাৎপর্য স্পষ্ট ছিল: “দেশে স্বাগতম। ঈশ্বর তোমাকে জওহরলালের দায়িত্ব বহন করার শক্তি দিন।”

বছর শেষ হওয়ার আগেই গান্ধী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন যে, সুভাষের স্থলাভিষিক্ত করতে হবে তাঁর আরও ‘নির্ভরযোগ্য’ অনুগামীদের মধ্যে কাউকে। মুশকিল হয় যখন সুভাষ কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদ চান। গান্ধীর মনোনীত কোনও নেতা সুভাষের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত না হওয়ায় দাঁড় করানো হয় পট্টভি সীতারামাইয়াকে। সেই প্রথম ও শেষবারের মতো সরাসরি প্রতিযোগিতায় গান্ধী পরাজিত হন। তা সত্ত্বেও অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক পারদর্শিতার জোরে সুভাষচন্দ্রকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করানোয় সক্ষম হন গান্ধী। সুভাষচন্দ্রের নতুন দল ফরওয়ার্ড ব্লকও তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস নানা বিষয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস থেকে কার্যত বহিষ্কার করার জন্য প্রস্তাব গ্রহণ করে ওয়ার্কিং কমিটি। প্রস্তাবটির খসড়া তৈরি করে দেন গান্ধী নিজে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে দুজনের মধ্যে পার্থক্য তীব্রতর হয়ে ওঠে। সুভাষ চান ব্রিটিশ সরকারের বিপর্যয় কাজে লাগিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও ব্যাপক করে তুলতে। অপরদিকে গান্ধী তাতে একেবারেই রাজি নন। ভারতীয়দের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে সুভাষ গড়ে তুলতে চান বিশাল গণ আন্দোলন। গান্ধী কোনওরকমে রাজি হন ব্যক্তিগত সত্যাগ্রহে। শিমলায় ভাইসরয় লিনলিথগোর সঙ্গে দেখা করে, তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এবং ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের ধ্বংস কল্পনা করে ভেঙে পড়েন। কংগ্রেসের গান্ধীবাদী নেতৃত্বের মতো ইংরেজ সরকারও সুভাষকে গণ আন্দোলন সংগঠিত করতে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিল না।

(আজ তৃতীয় পর্ব। এরপর আগামিকাল)

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.