Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
PM Modi

হরমুজ বন্ধে দেশে জ্বালানি সংকট, সংসদে স্বীকার মোদির, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ?

আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে এবং সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।"

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১৬:০৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১৬:০৭

options
link
হরমুজ বন্ধে দেশে জ্বালানি সংকট, সংসদে স্বীকার মোদির, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ? zoom
সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি
Advertisement

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে তালা পড়েছে তৈল ধমনী হরমুজে। যার জেরে বিশ্বের বাকি দেশের পাশাপাশি জ্বালানি সংকটে ভারতও। সোমবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা স্বীকার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। জানালেন, “আমাদের প্রয়োজনের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের বড় বাণিজ্য হরমুজ থেকেই হয়। যুদ্ধের জেরে সেই হরমুজ এখন ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের চেষ্টা পেট্রোল, ডিজেল গ্যাসের সাপ্লাই যেন প্রভাবিত না হয়।”

এদিন সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সত্যিই চিন্তাজনক। গত ২-৩ সপ্তাহে বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর ও জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ এই বিষয়ে সংসদে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন। যুদ্ধ ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। যার প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের উপর পড়বে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার সবটা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে আমাদের সমস্ত মিশন ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ করছে। চালু হয়েছে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন। এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারের বেশি ভারতীয়কে ফেরানো হয়েছে। শুধু ইরান থেকেই এক হাজারের বেশি ভারতীয়কে ফেরানো হয়েছে। সরকার সংবেদনশীল, সতর্ক ও সবরকম সাহায্যের জন্য প্রস্তত।”

Advertisement

“এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারের বেশি ভারতীয়কে ফেরানো হয়েছে। শুধু ইরান থেকেই এক হাজারের বেশি ভারতীয়কে ফেরানো হয়েছে। সরকার সংবেদনশীল, সতর্ক ও সবরকম সাহায্যের জন্য প্রস্তত।”

এর পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “সরকার দেশবাসীর অসুবিধা কমানোর জন্য যা যা করা প্রয়োজন সবটা করছে। দেশের অন্দরে জ্বালানি গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। পেট্রোল, ডিজেলের সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে তার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কয়লা, এলপিজি, এলএনজি আমদানিতেও বৈচিত্র আনা হয়েছে। বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে ভারত। এই যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের একাধিক জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে এসেছে।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, “জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিন ক্ষেত্র আরও বাড়িয়েছে সরকার। মেট্রো, রেলের পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে ইভি বাস। শক্তিই অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ফলে ভারতের অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব যাতে ন্যূনতম থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।”

শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “সামনে গ্রীষ্মকাল। এই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে এবং সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।” একইসঙ্গে জানান, ভারতে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন জ্বালানি রাখার ভান্ডার রয়েছে। তবে জ্বালানির জোগান অব্যাহত রাখতে ভারতের দিকে আসা তেলবাহী, গ্যাসবাহী জাহাজগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে এবং সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘ছোট অভিযানে’র ২৩ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর পর ইরানের প্রত্যাঘাতে বিস্মিত খোদ আমেরিকাও। হরমুজে তালা পড়ায় জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। আপাতত কাজ চালানোর জন্য ভারতে জ্বালানি তেল ও গ্যাস মজুত থাকলেও লাগামছাড়া যুদ্ধে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ভারতের আকাশেও। সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধীরা। আলোচনায় মুখর হয়েছে আম জনতাও। 

ইরান যুদ্ধের প্রভাব যাতে ভারতে গুরুতর প্রভাব না ফেলে তাঁর জন্য রবিবারই পর্যালোচনা বৈঠক সারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান প্রমুখ। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় দেশে জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিক নেই। এই বিষয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন মোদি। গ্যাস, অশোধিত তেল সরবরাহে কী প্রভাব পড়েছে, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন কতটা ব্যাহত, যাবতীয় বিষয় খোঁজখবর করেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়েও কথা হয়। বৈঠক শেষে এক্স হ্যান্ডেলে আলোচ্য বিষয়বস্তু তুলে ধরার পাশাপাশি লেখেন, ‘আমরা এই সংঘাতের প্রভাব থেকে আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.