১৫ চৈত্র  ১৪২৬  রবিবার ২৯ মার্চ ২০২০ 

Advertisement

ইতিহাসে প্রথম, লিঙ্গায়েত মঠের প্রধান হচ্ছেন বিবাহিত মুসলিম যুবক

Published by: Soumya Mukherjee |    Posted: February 20, 2020 7:28 pm|    Updated: February 20, 2020 7:34 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কয়েক বছর ধরেই ভারতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠছে। কিছু কিছু জায়গায় সংখ্যালঘু মুসলিম যুবকদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় কট্ররপন্থী হিন্দু সংগঠনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন কেউ কেউ। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে এই ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী করেছে বিরোধীরা। ঠিক সেই সময়ে বিজেপি শাসিত কর্ণাটকে অবস্থিত বিখ্যাত লিঙ্গায়েত (Lingayat) মঠের প্রধানের দায়িত্ব নিতে চলেছেন এক মুসিলম যুবক। চার সন্তানের পিতা ৩৩ বছরের ওই যুবকের নাম দিওয়ান শরিফ রহিমসাহাব মুল্লা। আগামী ২৬ তারিখ তিনি এই দায়িত্ব নেবেন বলে মঠ কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে উত্তর কর্ণাটকের গাদগ জেলায় অবস্থিত অসুতি গ্রামে মঠ তৈরির জন্য দু’একর জমি দান করেছিলেন ওই যুবকের বাবা। খাজুরি মঠের তৎকালীন প্রধান পুরোহিত মুরুগারাজেন্দ্র কোরনেশ্বর শিবযোগীর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এই জমি দিয়েছিলেন তিনি। পরে ওই অসুতি মঠের পুরোহিতের দায়িত্ব নেন রহিমসাহাব মুল্লা। তারপর থেকে সেখানকার দায়িত্বই সামলে আসছেন তিনি। কিন্তু, তাঁর ধর্মীয় জ্ঞান ও সততা তাঁকে এই কর্ণাটকের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত গাদগ জেলার লিঙ্গায়েত মঠের প্রধান পদে উত্তীর্ণ করল।

[আরও পড়ুন: ‘পাকপ্রেমী কাশ্মিরী ছাত্রদের জিভ কাটলেই ৩ লাখ নগদ’, নিদান শ্রী রাম সেনা নেতার]

 

এপ্রসঙ্গে ওই যুবক রহিমসাহাব বলেন, আগে পাশের গ্রামে আমার একটি চালকল ছিল। তা থেকে যা রোজগার হত তা দিয়ে সংসার চালাতাম। আচমকা একদিন আমার মনে হয়, ভগবান আমাকে অসুতি মঠের পুরোহিতের দায়িত্ব নিতে বলছেন। তারপরই আমি এই দায়িত্ব নিই। এখন আবার আরও বড় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে মঠ কর্তৃপক্ষের তরফে।

[আরও পড়ুন: ‘১০০ কোটিকে শিক্ষা দেবে ১৫ কোটি মুসলিম’, হুমকি AIMIM নেতার ]

 

মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন যুবককে কেন লিঙ্গায়েত মঠের প্রধান বানানো হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে অসুতি মঠের প্রধান পুরোহিত শিবযোগী বলেন, ‘লিঙ্গায়ত মঠের নিয়ম অনুযায়ী একটি পরিবারের প্রধান কখনই পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত হতে পারেন না। কিন্তু, চার সন্তানের পিতা মুল্লার ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। বাসভন্নার দর্শন সারা বিশ্বের জন্য নিবেদিত। তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী, আমরা ধর্ম ও জাতিভেদ মানি না। সব সম্প্রদায়ের ভক্তদের কাছে টেনে নিই। আর মুল্লাকে লিঙ্গায়েত মঠের প্রধান বানানোর পিছনে কারণ হল, একজন পরিবারভুক্ত মানুষই কেবল সামাজিক ও আত্মিক কাজে নিপুণ হতে পারেন।’

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement