৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সাংবাদিক হত্যায় এশিয়ায় এগিয়ে ভারত!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 14, 2016 9:17 pm|    Updated: May 14, 2016 9:17 pm

An Images

গত এক সপ্তাহের মধ্যে তিনজন ভারতীয় সাংবাদিকের মৃত্যু৷ এর মধ্যে এক চিত্রসাংবাদিক কাজ করতে গিয়ে রেলের তারে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান৷ অন্য দু’জনই আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান৷ এ কোনও আকস্মিক চিত্র নয়৷ পরিসংখ্যান বলছে, সাংবাদিক হত্যায় এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির থেকে এগিয়ে ভারত৷ এমনকী পাকিস্তান বা আফগানিস্তানও সাংবাদিকদের জন্য ভারতের তুলনায় বেশি নিরাপদ৷

গতবছর সারা বিশ্বে প্রায় ১১০ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন৷ এর মধ্যে ইরাক ও সিরিয়াই সাংবাদিকদের জন্য সবথেকে খতরনাক দেশ৷ শুধু, এই দুই দেশেই ২১ জন সাংবাদিককে খুন হতে হয়েছে৷ সাংবাদিকদের প্রতিরক্ষায় গঠিত নিউ ইয়র্কের এক কমিটির মতে, গতবছর দুনিয়ায় যতজন খুন হয়েছেন তার ৪০ শতাংশই আইএস জঙ্গিদের হাতে৷

সাংবাদিক হত্যায় ভারতের ছবিও কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়৷ গতবছর এদেশে খুন হয়েছিলেন মোট ৯ জন সাংবাদিক৷ তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে তদন্তমূলক সাংবাদিকতা করতে গিয়েই প্রাণের মাশুল দেন৷ পাকিস্তান, আফগানিস্তানের এতজন সাংবাদিককে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়নি৷ বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা মাথায় রেখেও ‘রিপোর্টারস উইথআউট বর্ডারস’-এর মতে এশিয়ার মধ্যে ভারতই সাংবাদিকদের কাছে তাই দেশ হিসেবে ‘ডেডলিয়েস্ট’ ৷

কী করণীয়? সাংবাদিকদের প্রতিরক্ষায় যদি সরকারি তরফে কোনও বিশেষ জাতীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তা হলে এই পরিস্থিতি বদলাবে না বলেই মনে করছে সাংবাদিক মহল৷ কিন্তু আপাতত তার কোনও উপায় নেই৷ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কাজ চালাচ্ছেন সাংবাদিকরা৷ ‘এডিটরস ফর সেফটি’ নামে এক গ্রুপ তৈরি করে দুনিয়াজুড়ে সাংবাদিকরা সামিল হয়েছেন৷ কোথাও কোনও সাংবাদিক অপহরণের ঘটনা ঘটলে তা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে সমস্ত মিডিয়াকে এবং সম্পাদকরা সে খবর সম্প্রচারের ব্যবস্থা করছেন৷ এভাবেই পাকিস্তানের সাংবাদিক আফজল মুঘলকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল৷

এদেশে যেভাবে একের পর এক ভারতীয় সাংবাদিক খুন হয়ে চলেছেন তাতে  সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে৷ কিন্তু সমাধানের সূত্র এখনও জানা নেই গণতন্ত্রের তৃতীয় স্তম্ভরক্ষাকারী সদস্যদের৷ অপরাধ থেকে অপহরণ, অন্যায় থেকে অভিযোগ তাঁরাই তুলেই ধরেন জনসমক্ষে৷ সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসনিক কর্তারা সকলেই আস্থা রাখেন তাঁদের উপর৷ কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার দাবি নিয়ে কার উপরে আস্থা রাখবেন তাঁরা? আপাতত এর কোনও উত্তর নেই খোদ সাংবাদিকদের কাছেও৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement