গত মে মাসে ভেনেজুয়েলায় মৃত্যু হয়েছিল ৩৩ বছরের ভারতীয় নাবিক রাকেশ চৌহানের। মৃত্যুর একমাস পর সম্প্রতি সেই দেহ ফিরেছে পরিবারের কাছে। বাড়ির ছেলের দেহ দেখার পর স্তম্ভিত মৃতের পরিবার। জানা যাচ্ছে, রাকেশের দেহ থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গ। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কে বা কারা রাকেশের শরীর থেকে অঙ্গ বের করেছে তার তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে পরিবার।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাকেশ চৌহান বাণিজ্যিক জাহাজে কাজের জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ভেনেজুয়েলা গিয়েছিলেন। সেখানে এক্সফিনিটি নামে এক সংস্থায় কাজ শুরু করেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। এরপর গত মে মাসে সংস্থার তরফে হঠাৎ জানানো হয় মৃত্যু হয়েছে রাকেশের। ভেনেজুয়েলা সরকারের তরফেও বলা হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। একমাস দেহ ফ্রিজে রাখার পর ৪ জুন ভারতে ফেরে সেই দেহ। তবে সেই দেশের সঙ্গে ময়নাতদন্তের কোনও রিপোর্ট পাঠানো হয়নি। ফলে মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট ছিল না পরিবারের কাছে।
আরও পড়ুন:
দেহ পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের সন্দেহ এই ঘটনার নেপথ্যে বড়সড় কোনও আন্তর্জাতিক অঙ্গপাচার চক্রের হাত থাকতে পারে।
এই ঘটনায় সন্দেহ হওয়ায় দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি জানায় মৃতের পরিবার। সেইমতো জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এক চিকিৎসকদল রাকেশের দেহ পরীক্ষা করেন। তখনই সামনে আসে ভয়ংকর তথ্য। চিকিৎসকরা দেখেন রাকেশের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, প্লীহা, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী এমনকী অন্ত্র পর্যন্ত গায়েব। পাশাপাশি গলার কিছু অংশ যেমন থাইরয়েড, স্বরযন্ত্র এবং শ্বাসনালীও নেই। দেহের মাথা থেকে গলা, বুক, পেট পর্যন্ত কয়েক ডজন সেলাই। অঙ্গ অনুপস্থিত থাকায় দেশের চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করতে পারেননি। জানা যায়নি মৃত্যুর কারণ।
The family of late Indian seafarer #RakeshChauhan is demanding the full autopsy report and immediate clarification on several deeply disturbing irregularities in the handling of his case in Venezuela.
Serious questions that need answers:
• Why were vital organs removed from his… pic.twitter.com/9sfCm5kb9A— FSUI (@FSUIINDIA) July 1, 2026
এই ঘটনায় বাবা দেব চৌহান বলেন, ভেনেজুয়েলার ওই সংস্থার তরফে প্রথমে ফোনে জানানো হয়েছিল রাকেশ জাহাজ থেকে জলে পড়ে গিয়েছেন। তিনি আহত, তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরদিন সকালে বলা হয়, রাকেশের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ। সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর কথা জানায় সংস্থা। ওরা বলেছিল আহত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। পরে বলা হয় হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে। এই অবস্থায় পরিবারের প্রশ্ন, মৃত্যু যদি স্বাভাবিক হয় তবে তাঁর শরীরের অঙ্গ কোথায় গেল?
ঘটনায় সরব হয়েছে নাবিক সংগঠন এফএসইউআই। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, বিদেশে কর্মরত নাবিকদের এভাবে বলি হতে দেওয়া যায়না। ভেনেজুয়েলা সরকারকে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। ভেনেজুয়েলার ভারতীয় দূতাবাসের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। ওই পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া উচিত সরকারের। পাশাপাশি দেহ পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের সন্দেহ এই ঘটনার নেপথ্যে বড়সড় কোনও আন্তর্জাতিক অঙ্গপাচার চক্রের হাত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে লজ্জার হারের পর জার্মানির কোচ হচ্ছেন ক্লপ? মুখ খুললেন লিভারপুলের প্রাক্তন ‘বস’
-
প্রতারণার পর্দাফাঁস করতে এবার প্রতি থানায় সাইবার ডেস্ক, নির্দেশ লালবাজারের
-
জানালা দিয়ে উড়ে আসা ডিমে ভিজল শাড়ি, কালীগঞ্জে এবার হামলার শিকার মহুয়া!
-
বারবার পশ্চাৎদেশে ক্যামেরা তাক! পাপারাজ্জিদের ‘কান মুলে’ সভ্যতার পাঠ নেহা ধুপিয়ার
-
‘চোরে চোরে ভায়রাভাই’, কুম্ভমেলার সময় সর্বাধিক চুরি রাম মন্দিরে! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য