সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি যুদ্ধজাহাজকে পারিবারিক ছুটি কাটাতে ব্যবহার করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই অভিযোগ খারিজ করে দিলেন লাক্ষাদ্বীপের তৎকালীন প্রশাসক ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ। তিনি বললেন, “সেসময় রাজীব গান্ধী পারিবারিক ছুটি কাটাতে লাক্ষাদ্বীপে আসেননি। বরং তিনি এসেছিলেন সরকারি কাজে। তবে, তাঁর সঙ্গে স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন।” হাবিবুল্লাহ-র দাবি, “আইএনএস বিরাটকেও ছুটি কাটাতে ব্যবহার করেননি রাজীব গান্ধী। বরং, যুদ্ধজাহাজটি রাখা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য। যে কোনও প্রধানমন্ত্রীরই এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন হয়। আর জলপথে তাঁদের নিরাপত্তা দিতে হলে যুদ্ধজাহাজ ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।”
[আরও পড়ুন: শ্বশুরবাড়ির লোকদের নিয়ে যুদ্ধজাহাজে চেপে বেড়াতে গিয়েছিলেন রাজীব, অভিযোগ মোদির]
শ্বশুরবাড়ির লোকদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধজাহাজে করে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন রাজীব গান্ধী। বুধবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এই অভিযোগই করেন নরেন্দ্র মোদি। বুধবারও দিল্লিতে নির্বাচনী সভা করতে গিয়ে রাজীব গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেন মোদি। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিরাটকে প্রাইভেট ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন রাজীব গান্ধী। শ্বশুরবাড়ির লোকদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন লাক্ষাদ্বীপ। কংগ্রেসের এই নেতা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নৌসেনার জাহাজ ব্যবহার করে সেনাকে অপমান করেছে। দেশের জলসীমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও আইএনএস বিরাটকে ব্যক্তিগত যান হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
[আরও পড়ুন: নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন, রাহুলকে স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট]
মোদির সেই বক্তব্যের পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মার দাবি, যে কোনও সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যান, এটা তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে। কংগ্রেসের পালটা অভিযোগ, মোদি নিজেই বিদেশ সফরে ভারতের সম্পত্তি ব্যয় করে ঘুরতে যান। এরই মধ্যে, আবার লাক্ষাদ্বীপের প্রাক্তন প্রশাসকের এই মন্তব্য বিতর্কে নতুন মাত্র যোগ করল। হাবিবুল্লাহ’র দাবি, “রাজীব গান্ধী সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার করেননি। লাক্ষাদ্বীপে তিনি এসেছিলেন সরকারি কাজে। তারপর কিছুদিন সময় কাটিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন তাঁর অতিথিরা তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, আইএনএস বিরাটে বিদেশি নাগরিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল বলে যে অভিযোগ মোদি করেছেন, সেটিও মিথ্যা।” লাক্ষাদ্বীপের প্রাক্তন প্রশাসক জানিয়েছেন, সেসময় আইএনএস বিরাটে কোনও বিদেশি তো দূরের কথা রাজীব গান্ধীর অতিথিদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক