Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
সিংঘম, প্রকাশ রাজ

যেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা, কন্নড়ভূমে স্বপ্ন ফেরি ‘সিংঘম’-এর জয়কান্তের

রাজনীতিতে এক বিকল্প নীতির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৯, ১৬:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৯, ১৬:১০

options
link
যেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা, কন্নড়ভূমে স্বপ্ন ফেরি ‘সিংঘম’-এর জয়কান্তের zoom
ধর্মস্থল কাণ্ড
Advertisement

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত, বেঙ্গালুরু: তিনি ‘সিংঘম’-এর জয়কান্ত শিকরে। কিন্তু এখন আর তিনি জয়কান্ত শিকরে নন। তিনি যেন আরব সাগরের তীরে কন্নড়ভূমের হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা। আবার অন্যভাবে বলা যায় তিনি ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’। কর্নাটকের রাজধানী হাইটেক সিটি বেঙ্গালুরু। সুর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, বাঁশি বাজিয়ে স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াচ্ছেন। রাজনীতিতে এক বিকল্প নীতির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কন্নরবাসীদের। শোষনহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন। যে সমাজে জাতপাত, ধর্মের ভেদাভেদ বা ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ থাকবে না।

তিনি প্রকাশ রাজ। ‘সিংঘম’-এর জয়কান্ত শিকরে। যে খলনায়কের হিংস্রতা বুকের রক্ত জল করে দেয় সিনেমানুরাগীদের। কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি ঠিক উলটোটাই। নম্রতা-ভদ্রতায় জয়কান্ত শিকরের সঙ্গে একেবারেই মিল খুঁজে পাওয়া ভার। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যে কোনও মানুষকে নির্দ্বিধায় বুকে জড়িয়ে ধরছেন। হাসিমুখে তাঁর স্বপ্নের গল্প শোনাচ্ছেন। গলায় ঝোলানো বাঁশি দেখিয়ে বলছেন, এটাই তাঁর জাদুকাঠি। মানুষ পাশে থাকলে এই বাঁশি দিয়েই সমাজ বদলে দিতে পারেন। জানালেন, “কেউ একা কোনও বড় কাজ পারেন না। পাশে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। রাজনীতিতে এর প্রয়োজন অনেক বেশি। তাই স্বপ্নের গল্প শুনিয়ে জনসমর্থন আদায় করতে নেমেছি।” আরও যোগ করলেন, “বর্তমান সময়ে সব রাজনৈতিক দলই ভোট ব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে নীতি তৈরি করে। জনগণের অতন্দ্রপ্রহরীর কাজ করে না। আমি গরিব মানুষের রক্ষায় সেই কাজটাই করতে চাই।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: বাংলায় বাড়বেই বিজেপির আসন সংখ্যা: গড়করি]

সিংঘমে তিনি হিংস্র-কুটিল রাজনৈতিক নেতার ভূমিকা নিয়েছিলেন। ছিলেন বিধায়ক। মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। শপথ নেওয়ার দিন ভোরেই মৃত্যু হয় জয়কান্ত শিকড়ের। বাস্তবেও মন্ত্রী হওয়ার বাসনা নেই। তবে রাজনীতিতে এসেছেন অরাজক পরিস্থিতির প্রতিবাদ করতে–অকপট স্বীকারোক্তি প্রকাশের। তাই মধ্য বেঙ্গালুরু কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। প্রতীক বাঁশি। বুধবার বিকেলে মালেশ্বরমের হালিমনিতে সভা। এলেন যখন, গলায় বাঁশি ঝুলছে। গাড়ি থেকে নামলেন বাঁশি বাজাতে বাজাতে। তখন সর্বসাকুল্যে জনা একশো লোকের অপেক্ষা। তারমধ্যে অবশ্য এসইউসি-র সমর্থকরাও রয়েছেন। সভা শেষ করে যখন সেই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার মতো বাঁশি বাজাতে বাজাতে ‘রোড শো’ শুরু করলেন, তখন অগণিত মানুষ তাঁর পিছন নিয়েছে। আর লালঝান্ডা কাঁধে গুটি কয়েক এসইউসি সমর্থক।

সমাজকর্মী-সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুনের বিচারের দাবিতে বামপন্থী দলগুলির কাছে সমর্থন চেয়েছিলেন। একমাত্র এসইউসি এগিয়ে এসেছে। তবে এসইউসি কর্মীরা শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করছেন। পথ চলতে চলতেই জানালেন, যখন রাজনৈতিক নেতারা সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে সত্যি কথা বলতে ভয় পাচ্ছে, তখন তিনি সত্যি কথাটা বলছেন। তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী। আগেও বহুবার নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলে বিরাগভাজন হয়েছেন। অন্যায় দেখলেই শাসকের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও মুখ খুলবেন। জানান, রাজনীতিতে সফল হওয়ার বাসনা নিয়ে আসেননি। যতদিন মানুষের মধ্যে ভেদাভেদের রাজনীতি থাকবে, ততদিন ভিন্নমত পোষণ করবেন। রাজনীতির ময়দানে তাঁর মৃত্যু হবে না বলেই দাবি ‘জয়কান্ত শিকরে’র।

[আরও পড়ুন: ‘বোন বললে ভোটে লড়ব’, নির্বাচনের মুখে বার্তা সঞ্জয় দত্তের]

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.