Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Kerala

বুনো হাতির জঙ্গলে একা বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ, ৪ দিন পর উদ্ধার কেরলের তরুণী

মোবাইল বন্ধ, সঙ্গে শুধুমাত্র এক বোতল জল। এই অবস্থাতেই গত ৪ দিন ধরে বুনো হাতিতে ভরা জঙ্গলে পথ খুঁজে বেড়িয়েছিলেন কেরলের যুবতী জিএস শরণ্যা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১৮:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১৮:৫৮

options
link
বুনো হাতির জঙ্গলে একা বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ, ৪ দিন পর উদ্ধার কেরলের তরুণী zoom
উদ্ধারের পর কেরলের যুবতী শরণ্যা।

মোবাইল বন্ধ, সঙ্গে শুধুমাত্র এক বোতল জল। এই অবস্থাতেই গত ৪ দিন ধরে বুনো হাতিতে ভরা জঙ্গলে পথ খুঁজে বেড়িয়েছিলেন কেরলের যুবতী জিএস শরণ্যা। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে তাঁর খোঁজ পেল উদ্ধারকারী দল। গত কয়েকদিন ধরে কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি ৩৬ বছরের ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।

জিএস শরণ্যা নামে ৩৬ বছর বয়সি ওই তরুণী পেশায় একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। সোলো ট্রিপে কর্নাটকে এসেছিলেন তিনি। কাক্কাবে গ্রামে এক হোমস্টেতে উঠেছিলেন শরণ্যা। ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পাহাড়ে বেড়াতে যান একাই। এরপর তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। এতদিন ধরে তাঁর কোনও খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে চিঠি লিখে ওই তরুণীর অনুসন্ধানে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন তিনি। চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘শরণ্যাকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধানকারী দল পাঠানো হোক। যাতে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ি ফেরানো যায়।’ এরপরই নড়েচড়ে কর্নাটক সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জোরকদমে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।

Advertisement

এদিন উদ্ধার হওয়ার পর হাসিমুখেই শরণ্যা বলেন, পথ হারালেও সাহস হারাননি তিনি। বরং প্রতি মুহূর্তে তিনি ভেবেছেন যে কোনওভাবে তাঁকে বাড়ি ফিরতে হবে। শরণ্যার কথায়, পথ হারানোর পর তাঁর প্রথম লক্ষ্য ছিল সবচেয়ে উঁচু জায়গায় ওঠা, যাতে ড্রোন বা উদ্ধারকারী দল সহজে তাঁকে খুঁজে পায়। দ্বিতীয় দিনে পাহাড়ে চড়তে সক্ষম হন তিনি। তবে তৃতীয় দিনে টানা বৃষ্টির জেরে আর এগোনো সম্ভব হয়নি। বৃষ্টিতে ভিজে প্রবল ঠান্ডায় রাতে ঘুমোতে পারেননি ওই যুবতী। চতুর্থ দিন বিকেলে তিনি একটি ঝর্ণার তীরে পাথরের কাছে আশ্রয় নেয়। এই জায়গা অনেকটা উপরে হওয়ায় সহজে তাঁকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় তাঁকে।

বৃষ্টিতে ভিজে প্রবল ঠান্ডায় রাতে ঘুমোতে পারেননি ওই যুবতী। চতুর্থ দিন বিকেলে তিনি একটি ঝর্ণার তীরে পাথরের কাছে আশ্রয় নেয়।

উল্লেখ্য, তাদিয়ান্দামল পাহাড়ে একা ট্রেক করার জন্য শরণ্যা প্রথমে স্থানীয় বন দপ্তরের কাছে অনুমতি চাইতে গিয়েছিলেন। তবে সে অনুমতি খারিজ করেছিল প্রশাসন। বনদপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল ওই অঞ্চলে প্রচুর বন্য হাতি রয়েছে ফলে ট্রেক করতে হলে তাঁকে অন্য কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। সেইমতো একটি দলে যোগ দিয়েছিলেন শরণ্যা তবে মাঝপথে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি। সন্ধ্যায় পুরো দলটি পাহাড়ের পাদদেশে ফিরে এলেও শরণ্যাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় শরণ্যার খোঁজে নামে বনবিভাগ। পাশাপাশি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নকশাল-বিরোধী দল, স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ মোট নয়টি দল ওই যুবতীর খোঁজে নামে। চতুর্থ দিনে ওই ঝর্ণার কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় শরণ্যাকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.