BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘গালওয়ান’ নামের নেপথ্যে কে এই ব্যক্তি? জানুন উপত্যকার রক্তাক্ত ইতিহাস

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: June 18, 2020 3:17 pm|    Updated: June 18, 2020 5:40 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিনা প্ররোচনায় চিন সেনার আগ্রাসন, দস্যুবৃত্তি। ভারত-চিন সীমান্তে বরফশীতল গালওয়ান উপত্যকার (Galwan Valley) উত্তাপ বাড়াচ্ছে ড্রাগনের হাঁ-মুখ। তুষারশুভ্র উপত্যকায় ছলকে পড়ছে রক্তের ফিনকি। লাল ফৌজের হামলায় গালওয়ান উপত্যকা আজ নতুন করে রক্তবর্ণ হচ্ছে, তেমনটা কিন্তু নয়। লাদাখের অদূরে এই জায়গার গত শতাধিক বছরের ইতিহাস তো রক্তেই লেখা। ধারাবাহিকভাবে তার খোঁজ হয়তো আমরা রাখিনি। আজকের আবহে ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এল সেসব রোমহর্ষক কাহিনী।

প্রায় ১২৫ বছর আগেকার কথা। কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীর গুহা থেকে বেরিয়ে রুক্ষ, পাথুরে এলাকা পূর্ব লাদাখ আর আকসাই চিনের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়ে নদীটি মিশেছে সিন্ধুর উপনদী শিয়কে। তখনও সে ছিল অনাম্নী। ইতিহাস বলছে, এত বছর এই নদীর আশেপাশে দস্যুবৃত্তি করত একদল মুসলিম, নেতা ছিলেন কারা নামে একজন। কাশ্মীরী ভাষায় ‘গালওয়ান’ বলে পরিচিত ছিল তারা। ওই শব্দের অর্থ – ডাকাত। তবে এই ডাকাতদল ছিল পরোপকারী, কার্যকলাপ রবিনহুড আর্মির সঙ্গে তুলনীয়। ধনীদের থেকে সম্পদ কেড়ে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার মহান ব্রতে দস্যুবৃত্তিতে নেমেছিল এরা। শোনা যায়, উনিশ শতকে কাশ্মীরের রাজার ঘরে ঢুকে, তাঁর গলায় ছুরি ধরে রাজপ্রাসাদ লুট করা হয়েছিল। আর তাদের এই ডাকাতির কারণে রক্তপাত, সংঘর্ষ অস্বাভাবিক ছিল না। সরাসরি নামকরণে না হলেও সেই থেকে ‘গালওয়ান’-এর ভাবার্থের সঙ্গে জুড়ে যায় এই নদী এবং সংলগ্ন অঞ্চল। পরবর্তী সময়ে অবশ্য রাজার সেনাদের হাতে ধরা পড়ে কারার প্রাণদণ্ড হয়। আত্মরক্ষার্থে সেখান থেকে পালিয়ে লাদাখে আশ্রয় নেয় তার পরিবার।

[আরও পড়ুন: ‘ড্রাগন’ বধে প্রস্তুত ফৌজ, যুদ্ধে ব্রহ্মস মিসাইল ব্যবহারে সবুজ সংকেত দিল ভারত]

তবে গালওয়ান নদীর আনুষ্ঠানিক নামটা তারও পরে। এই দস্যু পরিবারেরই বংশধর গুলাম রসুল গালওয়ান। তিনি ছিলেন বিখ্যাত পর্বতারোহী। যদিও সেসময় এইসব দুর্গম অঞ্চলে অভিযানকারী হিসেবে কোনও ভারতীয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো না। নামকরণ তো নয়ই। কিন্তু রসুলের সাহস আর দুর্গম পার্বত্য অভিযানে তাঁর অনায়াস দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রীরা। তাই তাঁকে সম্মান জানাতে এই উপত্যকার নাম হয় ‘গালওয়ান’ ভ্যালি। ঐতিহাসিক গবেষকদের মতে, সেসময় কোনও ‘নেটিভের’ এই সম্মানপ্রাপ্তি বিরল ঘটনা।

[আরও পড়ুন: করোনার জের, পুরীর রথযাত্রায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট]

১২৫ বছরের ইতিহাস আজ অনেকটাই বিবর্তিত, নতুন করে লেখার পালা এসেছে বুঝি। সেদিনের গালওয়ানরা দস্যুবৃত্তি করত দরিদ্রদের স্বার্থে। আত্মসুখ জড়িয়ে ছিল না তাতে। ছিল না অহেতুক ক্ষমতা প্রদর্শনের মতো অহংবোধ। আর আজ? গালওয়ান উপত্যকায় নিজেদের ক্ষমতায় কায়েম করতে চিন কার্যত মরিয়া। রাষ্ট্রশক্তির অহংয়ের পালে আরও হাওয়া লাগাতে তৎপর। দখলদারির নেশায় বুঁদ। এ কেবলই রাজার সঙ্গে রাজার যুদ্ধ। উলুখাগড়াদের প্রাণ বিসর্জনই নিয়তি হয়ত। এভাবেই কলঙ্কিত হয়ে পড়ছে গালওয়ান উপত্যকা।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement