Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৮ আগস্ট ২০২৬
Jharkhand Student Protest

নেই লাইট-ক্যামেরা, শিক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের ‘ওয়াংচুক’ লড়ছেন আড়াল থেকেই! চেনেন তাঁকে?

আদিবাসী অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ডে শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে 'আরশোলা'দের ধাঁচে চলছে প্রতিবাদ, অনশনে ছাত্রনেতা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১৫:৪২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১৫:৪২

options
link
নেই লাইট-ক্যামেরা, শিক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের ‘ওয়াংচুক’ লড়ছেন আড়াল থেকেই! চেনেন তাঁকে? zoom
ঝাড়খণ্ডের 'ওয়াংচুক' দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো, প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সমর্থনে অনশন
Advertisement

নিট কেলেঙ্কারির বিরোধিতায় ছাত্রসমাজের প্রতিবাদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছিল। দাবি একটাই ছিল। সর্বভারতীয় ডাক্তারি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘সিস্টেমে’ স্বচ্ছতা বজায় রাখা। নইলে ভবিষ্যতে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কারিগরদের উপর যে ভরসাই করা যাবে না। দিল্লিতে পথ দেখিয়েছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সাফল্যের মুখ দেখেছে ‘ককরোচ’ আন্দোলন। ঝাড়খণ্ডেও শিক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে শুরু হয়েছে ছাত্র আন্দোলন (Jharkhand Student Protest)। এই আন্দোলনকেও অক্সিজেন জোগাচ্ছেন আরেক ‘ওয়াংচুক’। কিন্তু সোনমের মতো মিডিয়ার আলো নেই তাঁকে ঘিরে। তিনি দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো, রাঁচির ছাত্রনেতা। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনার দাবিতে সোনমের মতোই দিন সাতেক ধরে অনশন করছেন দেবেন্দ্রনাথ। কিন্তু একেবারে অন্তরাল থেকেই। বুঝিয়ে দিচ্ছেন, নাম-যশ-খ্যাতি নয়, আসল লড়াই লড়তে হয় এভাবেই।

Devendranath Mahato, a social activist from Ranchi at the Jharkhand Student Protest
রাঁচির সমাজকর্মী দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো

বয়স খুব বেশি হলে ৩৫ বছর। রাঁচির ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন ২০২০ সালে। পড়াশোনার বহরও তাঁর তেমন চোখধাঁধানো। সংস্কৃত, কুড়মালি-সহ একাধিক ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে দেবেন্দ্রর। এছাড়া হাজারিবাগ থেকে বি.এড করেছেন।

বয়স খুব বেশি হলে ৩৫ বছর। রাঁচির ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করেছেন ২০২০ সালে। পড়াশোনার বহরও তাঁর তেমন চোখধাঁধানো। সংস্কৃত, কুড়মালি-সহ একাধিক ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে দেবেন্দ্রর। এছাড়া হাজারিবাগ থেকে বি.এড করেছেন। এত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনও সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি নয়। দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো মন দিয়েছিলেন সমাজ সংস্কারমূলক কাজকর্মে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে দেবেন্দ্র ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা বা জেকেএলএমের হয়ে সিল্লি আসন থেকে প্রার্থী হন। ভোটের লড়াইয়ে জিততে না পারলেও মানুষের জন্য কাজকর্ম থামেনি তাঁর। সেসব নিঃশব্দেই করে গিয়েছেন।

Advertisement

দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর কথায়, ‘‘ঝাড়খণ্ড সরকার আর কমিশনের যা হাবভাব, তাদের উভয়কে নিয়েই ছাত্রছাত্রীরা ক্ষুব্ধ। ওদের লড়াইয়ে আরও জোর বাড়াতে আমি খাওয়াদাওয়া ছেড়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য, পরীক্ষা বাতিল এবং সবকটি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত।”

সম্প্রতি নিটের মতোই ঝাড়খণ্ডের পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও স্টাফ সিলেকশন কমিশন (কম্বাইনড গ্র্যাজুয়েট লেভেল) পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগ ওঠে। পডুয়ারা পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন রাঁচির স্টেডিয়ামে। তাঁদের হয়ে এগিয়ে আসেন দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। তাঁর কথায়, ‘‘ঝাড়খণ্ড সরকার আর কমিশনের যা হাবভাব, তাদের উভয়কে নিয়েই ছাত্রছাত্রীরা ক্ষুব্ধ। ওদের লড়াইয়ে আরও জোর বাড়াতে আমি খাওয়াদাওয়া ছেড়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য, পরীক্ষা বাতিল এবং সবকটি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত।”

দেবেন্দ্রনাথের এই নাছোড় জেদ আর সংগ্রামকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। ভিডিও কল করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন লাদাখ-ম্যান। তবে ওয়াংচুকের পরামর্শ, একেবারে অনশন নয়, অন্তত সামান্য জল বা অন্য কোনও তরল যেন পান করেন দেবেন্দ্র। শিক্ষাক্ষেত্রে চিরাচরিত ‘সিস্টেমে’র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাত্র আন্দোলনই বুঝি এভাবে মিলিয়ে দিল দেশের দুই প্রান্তের দুই মানুষকে, যাঁদের কর্মপথ-লক্ষ্য এক, তফাৎ শুধু নাম-ঠিকানায়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.