নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে রাজ্য সরকার যে অভিযোগ করছিল, সেই অভিযোগ একপ্রকার মেনেই নিল কেন্দ্র। তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে ডিভিসির বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার কথা স্বীকার করে নিলেন কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগও এনেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় যে প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ডিভিসির অপরিকল্পিত জল ছাড়াকে দায়ী করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুদিন আগেই তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০ গুণ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ১১ গুণ জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে ডিভিসি। তার ফলে নজিরবিহীনভাবে দক্ষিণবঙ্গে জেলাগুলি বিপর্যস্ত। বাঁধ, রাস্তা, ফসল এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির বিপুল ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান প্লাবন পরিস্থিতিকে ‘ম্যান মেড বিপর্যয়’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই অভিযোগের রেশ ধরেই ঋতব্রত রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রককে একাধিক প্রশ্ন করেন। তৃণমূল সাংসদ জানতে চান, এটা কি সত্যি যে ১৮ জুন থেকে ডিভিসি ২৭ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে? যদি তাই হয়, তাহলে সেটা কি রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ছাড়া হয়েছিল? যদি আলোচনা ছাড়াই জল ছাড়া হয় তার কারণ কী? জবাবে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক জানিয়ে দিল, ১৮ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ ২৭ হাজার ৯৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার। অর্থাৎ তৃণমূলের অভিযোগ একপ্রকার মেনে নিল কেন্দ্র। রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই জল ছাড়ার পূর্বে আলোচনা বা সম্মতি নেওয়া হয় কিনা সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উত্তরে কিছুই লেখা নেই। পরিবর্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন এই জল ছাড়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ‘দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি’ বা ডিভিআরআরসি। এই কমিটিতে রাজ্য সরকারের একজন প্রতিনিধি আছেন।
যা নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “মাত্র ২৮ দিনেই এই পরিমাণ জল ছেড়েছে ডিভিসি। আমরা বলছি জুন থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ ৫০ হাজার ২৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার। যা ২০২৩ সালের থেকে ৩০ গুণ ও ২০২৪ সালের থেকে ১১ গুণ বেশি। অভাবনীয়। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে জল ছাড়া হয়েছে কি না এর উত্তরে হ্যাঁ বা না কিছুই বলেননি। শুধু একই কমিটি রয়েছে বলে জানিয়েছে। দুই মাসে অবাধে জল ছেড়ে বাংলাকে ডোবাতে ডিভিসি ষড়যন্ত্র করছে। ডিভিসিই এই বন্যা ঘটিয়েছে।” এরপরই তৃণমূল সাংসদের হুঙ্কার, “মুখ্যমন্ত্রী পুরোটাই নিজের দায়িত্বে দেখছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় ঘুরছেন। বাংলাকে ডোবালে বাংলায় বিজেপির সলিল সমাধি অনিবার্য।”
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘গোবর্ধন লীলা’র অন্য পাঠ, প্রকৃতিকে ভালোবাসার অনন্য দর্শন
-
অভয়ার ন্যায় চেয়ে তৃণমূল জমানায় সাসপেন্ড! সেই শুভঙ্করকে কাজে ফেরালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
-
হাঁটা নাকি যোগ! ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে কোনটা বেশি জরুরি জানেন
-
শনি-রবি শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল একাধিক লোকাল, তালিকায় কোন কোন ট্রেন?
-
টিআরপিতে বিরাট রদবদল! বেঙ্গল টপার ‘জোয়ার ভাঁটা’, সেরা দশে কোন কোন বাংলা মেগা?