প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিলের পর আগামী ২১ জুন পুনরায় নিট পরীক্ষা (NEET UG Re-exam 2026) নিতে চলেছে কেন্দ্র। এই পরীক্ষায় কোনওরকম জালিয়াতি আটকাতে নিরাপত্তার চক্রব্যূহ তৈরি করছে জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। নিরাপত্তার বিরাট এই কর্মযজ্ঞে এনটিএ-র সহায় হচ্ছে বায়ুসেনাও। প্রশ্নপত্র তৈরির পর তা নিরাপদে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হবে বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। এমনটাই জানা যাচ্ছে সূত্র মারফৎ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিট পরীক্ষার জন্য ১৮টি নির্ধারিত স্থান থেকে গোটা দেশের প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হবে। এতদিন সেই প্রক্রিয়া চলত রেল ও পণ্যবাহী গাড়িতে। সে পক্রিয়ায় প্রশ্নফাঁসের কিছুটা হলেও ঝুঁকি থেকে যায়। সম্পূর্ণ নিরাপদে যাতে প্রশ্নগুলি নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছয় তার জন্য বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সেই সমস্ত জায়গায় যেখানে দ্রুত পরবহনের প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে সামরিক বিমান ব্যবহারের উদ্দেশ্য হল কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবহনে যাতে দেরি না হয় তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা। পাশাপাশি সেনা ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সম্পূর্ণ নিরাপদে যাতে প্রশ্নগুলি নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছয় তার জন্য বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত ২ মে ২২ লাখ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরই সামনে আসে সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বেশিরভাগই অধ্যাপক এবং তাঁরা পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ছিল ভূত। এই ঘটনায় বিতর্ক চরমে উঠতেই নিটের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। এখানে যাতে কোনওরকম জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র।
নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী, মডারেটর, অনুবাদক-সহ যারা যারা যুক্ত তাদের প্রত্যেককে কড়া নিরাপত্তায় লকডাউনে রাখা হচ্ছে। সেখানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইন্টারনেট ব্যবহারও সীমিত করা হয়েছে। বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যেখানে তাঁদের রাখা হচ্ছে সেখানে অনুমতি ছাড়া কারও প্রবেশের অধিকার নেই। আগামী ২১ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবেন প্রশ্ন প্রস্তুতকারী ও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মীরা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে মাটি, আতঙ্কের গ্রাসে দার্জিলিং-সহ উত্তর
-
টাকি পুরসভার ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ, জোর জল্পনা
-
অরূপ-স্বরূপের ‘রহস্যময় ঘরে’ তল্লাশি পুলিশের, উদ্ধার মোবাইল-আইপ্যাড, প্রচুর নথি!
-
কুলটিতে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’, মন্ত্রীর জনতার দরবারে ৫ বছরের সমস্যার সমাধান ২৪ ঘণ্টায়!
-
আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুমে কন্ডোম, নেশার সামগ্রী! শোরগোল শিক্ষাঙ্গনে