২ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ২০ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লন্ডনে বেনামী সম্পত্তি থাকার অভিযোগ উঠতেই জামাই রবার্ট ওয়াধেরাকে বাঁচাতে আসরে নেমে পড়লেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী৷ ‘কংগ্রেস-মুক্ত’ ভারত গড়তে সরকার তাঁদের বিরু‌দ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে সোনিয়া পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, ক্ষমতা থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করুক সরকার৷ তাতেই সত্যিটা প্রকাশ পাবে৷ এমনকী, প্রধানমন্ত্রীকে ‘শাহেনশা’ বলে কটাক্ষও করেন সোনিয়া৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাই মোদিকে ‘শাহেনশা’ বানিয়েছেন বলে মন্তব্য সোনিয়ার৷ এক ধাপ এগিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বিতর্কিত অস্ত্রব্যবসায়ীর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেসও৷ কিন্তু এতদিন রবার্টের বিরু‌দ্ধে অভিযোগ উঠলেই বলা হতো, তিনি কংগ্রেসের সদস্য নন৷ একজন ‘প্রাইভেট সিটিজেন’৷ তাই তাঁর সপক্ষে মুখ খুলে জালে জড়িয়ে গেলেন সোনিয়া৷ উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামীকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় কংগ্রেস নেতৃত্ব যে ঘোরতর অস্বস্তিতে, তা নিয়ে নিঃসংশয় রাজনৈতিক মহল৷

সোমবার জানা যায়, এক অস্ত্রব্যবসায়ীর বেনামে লন্ডনে সম্পত্তি কেনার অভিযোগে রবার্ট ওয়াধেরার বিরু‌দ্ধে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক৷ সম্প্রতি সঞ্জয় ভাণ্ডারী নামে ওই অস্ত্র-ব্যবসায়ীর বাড়িতে আয়কর দফতরের তল্লাশির সময় ওই তথ্য সামনে আসে৷ হরিয়ানায় কংগ্রেস সরকারের আমলে বিতর্কিত জমি চুক্তি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে৷

অভিযোগ উঠেছে, ২০০৯ সালে লন্ডনে রবার্টের বকলমে সম্পত্তি কিনেছেন সঞ্জয়৷ যা সর্বৈব মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রবার্টের আইনজীবী৷ তাঁদের দাবি, সঞ্জয় ও তাঁর সহকারীর সঙ্গে রবার্টের কোনও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল না৷ সেই প্রসঙ্গেই এদিন সোনিয়া বলেন, “প্রত্যেকদিন সরকারের তরফে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে৷ তদন্ত করলেই সত্যিটা জানা যাবে৷ আসলে ওরা কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখছে৷” সঞ্জয় ভাণ্ডারী ও রবার্টের মধ্যে, এমনকী, তাঁর সহকারী মনোজ অরোরার সঙ্গেও লন্ডনের বাড়িটির দাম মেটানো ও সংস্কার নিয়ে ই-মেল বার্তা আদানপ্রদান হয়েছে বলে দাবি সরকারি মহলের৷ সেই বার্তা লন্ডনে ভাণ্ডারীর আত্মীয় সুমিত চাড্ডাকে পাঠানো হয়৷ ২০০৯-এ ১৯ কোটি টাকায় কেনা বাড়িটি পরের বছরেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল৷

এই পরিস্হিতিতে গান্ধী পরিবারের উপর চাপ বাড়িয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী৷ তাঁর দাবি, বিষয়টি গুরুতর৷ এনফোর্সমেণ্ট ডিরেক্টরেটের উচিত দ্রূত তদন্ত করে রবার্টকে জেরা করার জন্য সমন পাঠানো৷ কোনও সন্দেহ নেই যে, লন্ডনে ওঁর বেনামী সম্পত্তি রয়েছে৷”

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন৷ তার আগে এই অস্ত্র বিজেপি সহজে হাতছাড়া করবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ সেই লক্ষ্যেই এদিন বিজেপি বলেছে, “রবার্ট আমআদমি বলে কংগ্রেস যে ভাব দেখায়, সেই প্রহসন এবার বন্ধ হোক৷ সোনিয়ার মন্তব্যেই প্রমাণিত, রবার্ট গান্ধী পরিবারের অংশ৷ তাই ওঁর বিরু‌দ্ধে তদন্তের কথা বললেই কংগ্রেস প্রতিহিংসার তত্ত্ব খাড়া করে৷” রবার্টকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রশ্ন উঠলে সোনিয়া কেন বিচলিত হয়ে পড়েন, প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি৷

পাঁচ রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কোথাও তেমন ভাল ফল করতে পারেনি কংগ্রেস৷ বরং, অসমে ১৫ বছরের কংগ্রেস সরকার বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছে৷ কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বের ইউডিএফের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে৷ তামিলনাড়ুতে করুণানিধির ডিএমকের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধেও ভরাডুবি হয়েছে৷ অর্থাত্‍ কেন্দ্রে ভ্লঙ্ম বছরের কংগ্রেস নেতৃত্বে ইউপিএ সরকারের পরাজয়ের পর দু’বছরে সেভাবে আর সাংগঠনিক দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি কংগ্রেস৷ তবুও  সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় শাসক এনডিএ-কে রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেস আক্রমণ করে৷ তবে এই ‘দুর্দিনে’-ও সভানেত্রী সোনিয়ার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং