সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একদিকে উন্নত হচ্ছে দেশ। ভবিষ্যতে চলবে বুলেট ট্রেনও। উলটোদিকে, সে দেশেরই আরও একটি প্রতিচ্ছবি হল, এক কৃষক ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ হাতে পেলেন মাত্র ৪ টাকা ৭০ পয়সা। তাও কিনা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায়। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বাদামি লাল নামে এক কৃষকের সঙ্গে। শুধু তিনি নন, একই রকম আরও একটি ঘটনা ঘটেছে উত্তম সিং নামে আরেক কৃষকের সঙ্গেও। তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৭ টাকা। এরকম আরও বেশ কয়েকটি ঘটনার নির্দশন ইতিমধ্যে সামনে এসেছে।
Madhya Pradesh: Two farmers in Sehore’s Tiladia say that they received claim of Rs 17.46 & Rs 4.70 under Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana pic.twitter.com/kA0uDT7e8N
— ANI (@ANI) 20 September 2017
সোয়াবিনের চাষ করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের সেহোর জেলার রেহতি তেহসিলের বাসিন্দা বাদামি লাল। কিন্তু সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় ফলন। তবে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় করিয়েছিলেন বিমা। আশায় ছিলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা তো পাবেন। কিন্তু কোথায় কী? আবেদন করার পর মঙ্গলবার চেক হাতে পেয়ে চক্ষু চড়কগাছ ওই কৃষকের। কারণ ক্ষতিপূরণ বাবদ পেয়েছেন মাত্র ৪ টাকা ৭০ পয়সা। এরপরই অসহায় ওই কৃষক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘চেক হাতে পাওয়ার পর তাতে লেখা টাকার অঙ্কটা দেখে অবাক হয়ে যাই। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন নষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না কীভাবে মাত্র এই কয়েকটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেলাম।’
[রোগী ফেরাল একাধিক সরকারি হাসপাতাল, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কাটল জট]
অন্যান্য কৃষক যাঁরা কিনা বাদামি লাল-এর মতোই ফলন নষ্ট হওয়ায় বিমার টাকার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও ঘটেছে একই ঘটনা। ২ একর জমিতে সোয়াবিন চাষ করেছিলেন উত্তম সিং। বিমার জন্য দিয়েছিলেন ১ হাজার ৩৪২ টাকা প্রিমিয়াম। কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ার পর ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করে হাতে পেলেন মাত্র ১৭ টাকা। অপরদিকে, এক মহিলা যিনি ২২ হেক্টর জমিতে চাষ করার জন্য ফসলের বিমা হিসেবে ৫ হাজার ২২০ টাকা প্রিমিয়াম দিয়েছিলেন, ফলন নষ্ট হওয়ার পর হাতে পেয়েছেন মাত্র ১৯৪ টাকা।
[তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে বাঁচিয়েছিলেন দুনিয়াকে, ব্রাত্য হয়েই মৃত্যু এই কমান্ডারের]
প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় বিমার অর্থ কৃষক কিছুটা দিয়ে থাকেন। আর বাকিটা দেওয়া হয় রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী বিশ্বাস সারাং বলেন, ‘তিনটি জিনিসের উপর বিমার পরিমাণ হিসেব করা হয়। কতটা জমিতে চাষ করা হচ্ছে, কী চাষ করা হচ্ছে এবং কতটা ফসল নষ্ট হয়েছে। তাই বিমার জন্য কতটা প্রিমিয়াম জমা দেওয়া হচ্ছে, সেটা দেখা হবে না। তবে বিমার টাকার অঙ্কে কোনও রকম গণ্ডগোল হলে সেটা ঠিক করে যাবে।’ এদিকে এই ঘটনার কথা জানতে পেরে বিভিন্ন মহলে ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। কেন দেশের গরিব কৃষকরা বারবার এরকম অব্যবস্থার শিকার? প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই।
[সিংহের সঙ্গে ছবি তুলে নেটদুনিয়ায় সমালোচনার মুখে প্রীতি]
সর্বশেষ খবর
-
‘দলবিরোধী কাজে বিধায়ককেও রেওয়াত নয়’, সাফ বার্তা শমীকের, সাসপেন্ডেড ৩ বিজেপি নেতা
-
‘যেখানে হাত দিচ্ছি পচা-দুর্গন্ধ, ব্রিগেডকে জেল বানাতে হবে’, তৃণমূলকে খোঁচা শুভেন্দুর
-
রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা উধাও! আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিস্ফোরক অখিলেশ
-
নবান্নে শুভেন্দু-অশ্বিনী বৈঠকে কাটল জট, অবশেষে কাজ শুরু হাওড়ার বামনগাছি রেলব্রিজের
-
এবার কি টেস্ট দলেও সুযোগ? ‘নিয়মিত প্র্যাকটিস করছি’, আত্মবিশ্বাসী বৈভব