১৪  আষাঢ়  ১৪২৯  বুধবার ২৯ জুন ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে আপত্তি, মুসলিম কিশোরকে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টা ৪ যুবকের

Published by: Sayani Sen |    Posted: July 29, 2019 9:34 am|    Updated: July 29, 2019 9:34 am

Muslim boy set on fire for not chanting Jai Shri Ram

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে অস্বীকার করায় এক মুসলিম কিশোরকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল কয়েকজনের বিরুদ্ধে৷ ওই কিশোরের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে৷ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি রয়েছে সে৷ নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের চাণ্ডৌলিতে৷ কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা জানা যায়নি৷ তবে যোগীরাজ্যের এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷

[আরও পড়ুন: বাড়ির অমতে বিয়ের জের, হুমকি পেয়ে ফের পুলিশের দ্বারস্থ উত্তরপ্রদেশের দুই দম্পতি]

উত্তরপ্রদেশের চাণ্ডৌলিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে ওই কিশোর৷ ব্যক্তিগত কাজে দুধারি ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছিল সে৷ অভিযোগ, আচমকাই চারজন তাকে ঘিরে ধরে৷ প্রায় জোর করে টেনেহিঁচড়ে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে৷ দু’জন মিলে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে৷ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ার জন্য জোর করা হয় ওই মুসলমান কিশোরকে৷ তবে সে বলতে রাজি হয়নি৷ এই নিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে ওই কিশোরের কথা কাটাকাটি হয়৷ কিশোরের আরও অভিযোগ, আচমকাই অপহরণকারীদের দলে থাকা এক যুবক কিশোরের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেয়৷ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিশোরের গায়ে জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি ছুঁড়ে দেয় সে৷ জীবন্ত জ্বলন্ত অবস্থায় ছটফট করতে শুরু করে কিশোর৷ পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল ছেড়ে চম্পট দেয় চারজন৷

কিশোরের দাবি, ওই পরিস্থিতিতে তাকে বাঁচাতে কেউই এগিয়ে আসেনি৷ বাধ্য হয়ে অতি কষ্টে বাড়ি পৌঁছয় সে৷ তড়িঘড়ি পরিজনেরা কিশোরকে উদ্ধার করে কাশীর কবির চৌরা হাসপাতালে ভরতি করেন৷ চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে৷ অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক৷ আদৌ তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে চিকিৎসকরা৷ এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ তবে এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি৷

[আরও পড়ুন: প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা! ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত উন্নাওয়ের সেই নির্যাতিতা]

মাসখানেক আগে ঝাড়খণ্ডেও ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি না দেওয়ায় তবরেজ আনসারি নামে এক যুবককে দীর্ঘক্ষণ ধরে মারধর করা হয়৷ পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে থানায় নিয়ে যায়৷ ঘটনার চারদিন পর মারা যান তবরেজ৷ তার মাসখানেকের মধ্যেই আবার কিশোরের নির্মম পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে৷ কেন গণপিটুনি রোখা সম্ভব হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে