১০ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৬  শনিবার ২৫ মে ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ দেশের রায় LIVE রাজ্যের ফলাফল LIVE বিধানসভা নির্বাচনের রায় মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীপাবলি পেরতে না পেরতেই উৎসবের আসর মাতিয়ে তোলে ছট৷ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মহা সামারোহে পালন করা হয় এই উৎসব৷ হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে অন্যতম প্রধান এই উৎসবের উৎস কিন্তু বেশ গভীরে৷ তার সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি, তেমনই জড়িয়ে বিজ্ঞান ও সমাজভাবনাও৷

রামায়ণ থেকে ছটপুজোর উদ্ভব বলে অনেকে মনে করেন৷ সূর্যবংশের শ্রেষ্ঠতম উত্তরসূরি রাম বনবাস থেকে ফিরে স্ত্রী সীতাকে নিয়ে সূর্যদেবতার স্মরণে একদিন উপবাস পালন করেছিলেন বলে কথিত আছে৷ সেই থেকেই ছট পুজোর শুরু বলে বিশ্বাস করেন কেউ কেউ৷

আবার মহাভারতেও ছটের সূত্র মেলে৷ সূর্যপুত্র কর্ণের সূর্য উপাসনা থেকে এই রীতির প্রচলন বলে মনে করা হয়৷ বনবাসকালে হারানো রাজ্য ফিরে পেতে পাণ্ডবদেরও এরকম পুজোর কাহিনি আছে৷

পুরাণমতে, সৃষ্টির মূলে থাকে যে প্রকৃতি, তাইই নিজেকে ছয় ভাগে ভাগ করে৷ সেই ষষ্ঠ অংশেরই পুজো হয় মাতৃরূপে৷ ঠিক এই তিথিতেই বেদমাতা গায়ত্রীরও জন্ম হয়েছে বলে মানা হয়৷ তিনিই সমস্ত শিশুদের অসুখের হাত থেকে, মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করেন বলে বিশ্বাস৷ প্রিয়ব্রত নামে এক রাজার মৃত্যুপথযাত্রী সন্তানকে রক্ষা করেছিলেন এই দেবী৷ সেখান থেকেই পুজোর উৎপত্তি বলে প্রচলিত বিশ্বাস৷

অপর এক কাহিনী থেকে জানা যায়, দেবী অন্নপূর্ণা ক্রমশ সূর্যের তাপে ক্ষীণকায়া হয়ে পড়ছিলেনন৷ শেষমেশ তিনি গঙ্গাদেবীর আশ্রয় নেন৷ দেবতারা যখন এর বিধান করতে সূর্যের দ্বারস্থ হন, তখন সূর্যদেব জানান, কার্তিকমাসের শুক্লপক্ষের এই ষষ্ঠী তিথিতে সূর্যের অস্ত ও সপ্তমীতে উদয়ের সময় দেবী অন্নপূর্ণা যেন সূর্যের স্তব করেন৷ তা করার ফলেই অন্নপূর্ণা আবার নিজের শ্রী ফিরে পান৷

chhath-puja-image

সমস্ত কাহিনির মধ্যেই যা লুকিয়ে আছে তা হল, সমৃদ্ধি ও মৃত্যু অতিক্রম করার বার্তা৷ কেউ কেউ বলেন ছট নামকরণ আসলে ছটা বা সূর্যের রশ্মি থেকে এসেছে৷ আবার সূর্যের স্ত্রী ‘ছোটি মাইয়া’র থেকেও ছটের নামকরণ বলে অনেকের বিশ্বাস৷ ঠিক শীতের শুরুতেই সূর্যের এই পুজোর সামাজিক তাৎপর্য খুব সহজেই অনুমান করা যায়৷ শীতের গোড়াতেই নানা অসুখের হাত থেকে বাঁচতে সূর্যের রশ্মি গুরুত্বপূর্ণ৷ সুস্বাস্থ্যের কামনা ছটের বিভিন্ন মিথে বারবার ফিরে এসেছে৷ সূর্যরশ্মি ও গঙ্গাস্নান উভয়ই যে সংক্রমণের হাত থেকে মুক্তি দেয় তা বিজ্ঞানসম্মত৷ সোলার-বায়ো ইলেকট্রোসিটির প্রভাবে দেহের কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকে৷ অন্নপূর্ণার কাহিনী থেকে চাষেরও ইঙ্গিত মেলে৷ গঙ্গার আশ্রয় অর্থাৎ সেচের সুবিধা ও সূর্যের আলো মিলেই যে শস্যশ্যামলা হয়ে উঠবে প্রকৃতি, অন্নপূর্ণার শ্রী ফেরার মধ্যে সে বার্তা স্পষ্ট৷

মিথ, বিশ্বাস, ধর্মীয় আচার সব মিলেমিশে ছট এখন সারা দেশে অন্যতম প্রধান উৎসব, বিশেষত হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে৷ সম্প্রীতির সেই উৎসবেই সামিল এখন গোটা দেশ৷

chhath-puja-cute-images

 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং