৫ শ্রাবণ  ১৪২৬  রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীপাবলি পেরতে না পেরতেই উৎসবের আসর মাতিয়ে তোলে ছট৷ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মহা সামারোহে পালন করা হয় এই উৎসব৷ হিন্দিভাষী রাজ্যগুলিতে অন্যতম প্রধান এই উৎসবের উৎস কিন্তু বেশ গভীরে৷ তার সঙ্গে যেমন জড়িয়ে আছে কিংবদন্তি, তেমনই জড়িয়ে বিজ্ঞান ও সমাজভাবনাও৷

রামায়ণ থেকে ছটপুজোর উদ্ভব বলে অনেকে মনে করেন৷ সূর্যবংশের শ্রেষ্ঠতম উত্তরসূরি রাম বনবাস থেকে ফিরে স্ত্রী সীতাকে নিয়ে সূর্যদেবতার স্মরণে একদিন উপবাস পালন করেছিলেন বলে কথিত আছে৷ সেই থেকেই ছট পুজোর শুরু বলে বিশ্বাস করেন কেউ কেউ৷

আবার মহাভারতেও ছটের সূত্র মেলে৷ সূর্যপুত্র কর্ণের সূর্য উপাসনা থেকে এই রীতির প্রচলন বলে মনে করা হয়৷ বনবাসকালে হারানো রাজ্য ফিরে পেতে পাণ্ডবদেরও এরকম পুজোর কাহিনি আছে৷

পুরাণমতে, সৃষ্টির মূলে থাকে যে প্রকৃতি, তাইই নিজেকে ছয় ভাগে ভাগ করে৷ সেই ষষ্ঠ অংশেরই পুজো হয় মাতৃরূপে৷ ঠিক এই তিথিতেই বেদমাতা গায়ত্রীরও জন্ম হয়েছে বলে মানা হয়৷ তিনিই সমস্ত শিশুদের অসুখের হাত থেকে, মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করেন বলে বিশ্বাস৷ প্রিয়ব্রত নামে এক রাজার মৃত্যুপথযাত্রী সন্তানকে রক্ষা করেছিলেন এই দেবী৷ সেখান থেকেই পুজোর উৎপত্তি বলে প্রচলিত বিশ্বাস৷

অপর এক কাহিনী থেকে জানা যায়, দেবী অন্নপূর্ণা ক্রমশ সূর্যের তাপে ক্ষীণকায়া হয়ে পড়ছিলেনন৷ শেষমেশ তিনি গঙ্গাদেবীর আশ্রয় নেন৷ দেবতারা যখন এর বিধান করতে সূর্যের দ্বারস্থ হন, তখন সূর্যদেব জানান, কার্তিকমাসের শুক্লপক্ষের এই ষষ্ঠী তিথিতে সূর্যের অস্ত ও সপ্তমীতে উদয়ের সময় দেবী অন্নপূর্ণা যেন সূর্যের স্তব করেন৷ তা করার ফলেই অন্নপূর্ণা আবার নিজের শ্রী ফিরে পান৷

chhath-puja-image

সমস্ত কাহিনির মধ্যেই যা লুকিয়ে আছে তা হল, সমৃদ্ধি ও মৃত্যু অতিক্রম করার বার্তা৷ কেউ কেউ বলেন ছট নামকরণ আসলে ছটা বা সূর্যের রশ্মি থেকে এসেছে৷ আবার সূর্যের স্ত্রী ‘ছোটি মাইয়া’র থেকেও ছটের নামকরণ বলে অনেকের বিশ্বাস৷ ঠিক শীতের শুরুতেই সূর্যের এই পুজোর সামাজিক তাৎপর্য খুব সহজেই অনুমান করা যায়৷ শীতের গোড়াতেই নানা অসুখের হাত থেকে বাঁচতে সূর্যের রশ্মি গুরুত্বপূর্ণ৷ সুস্বাস্থ্যের কামনা ছটের বিভিন্ন মিথে বারবার ফিরে এসেছে৷ সূর্যরশ্মি ও গঙ্গাস্নান উভয়ই যে সংক্রমণের হাত থেকে মুক্তি দেয় তা বিজ্ঞানসম্মত৷ সোলার-বায়ো ইলেকট্রোসিটির প্রভাবে দেহের কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকে৷ অন্নপূর্ণার কাহিনী থেকে চাষেরও ইঙ্গিত মেলে৷ গঙ্গার আশ্রয় অর্থাৎ সেচের সুবিধা ও সূর্যের আলো মিলেই যে শস্যশ্যামলা হয়ে উঠবে প্রকৃতি, অন্নপূর্ণার শ্রী ফেরার মধ্যে সে বার্তা স্পষ্ট৷

মিথ, বিশ্বাস, ধর্মীয় আচার সব মিলেমিশে ছট এখন সারা দেশে অন্যতম প্রধান উৎসব, বিশেষত হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে৷ সম্প্রীতির সেই উৎসবেই সামিল এখন গোটা দেশ৷

chhath-puja-cute-images

 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং