গত জুলাই মাসে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বাধীন শিব সেনার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে জনৈক মহিলা চিকিৎসককে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। ফের একই ধরনের ঘটনা শিবাজীর রাজ্যে। এবার পালঘরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মীরা শাসকদলের হেনস্তার স্বীকার হলেন। রোগীর বিল সংক্রান্ত বিষয়ে বচসার সময় অচিকিৎসক কর্মীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী রিসেপশনের একজন পুরুষকর্মীকে সপাটে চড় মারেন শিণ্ডে শিবিরের এক স্থানীয় নেতা। ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। রাজ্যের শাসক দলের নেতা-কর্মীদের বাড়ন্ত দাদাগিরি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আমজনতা।
রবিবার মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটে রিলিফ হাসপাতালে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ‘দহি হান্ডি’ উৎসবে আহত হন এক যুবক ‘গোবিন্দা’ (দহি হান্ডি উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের গোবিন্দা বলা হয়)। রিলিফ হাসপাতাল তাঁর চিকিৎসার বিল করেছিল ১৯ হাজার ৮৬৬ টাকা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ‘গোবিন্দা’র পরিচিত শিব সেনা কর্মীরা। উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে। অভিযোগ, এই সময় শিবসেনা কর্মীরা হাসপাতালের কর্মীদের মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং হুমকি দেন।
আরও পড়ুন:
Totally Unacceptable
Doctors abused and a hospital staffer reportedly slapped at a Palghar hospital in MaharashtraWhat is happening in Maharashtra ? @CMOMaharashtra @MumbaiPolice @CPMumbaiPolice pic.twitter.com/e5Jxqgau2L
— Dr Mohammad Momin Khan (@DrMohammadMomin) September 6, 2026
হাসপাতালের এক কর্মীর দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, শিব সেনার জেলাপ্রধান কুন্দন সাঙ্খে, শহরপ্রধান রাহুল ঘারাত এবং আরও কয়েকজন জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্ক শুরু করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট যুবক। তখনই শিব সেনার এক নেতা সপাটে চড় মারেন তাঁকে। আরও অভিযোগ, নিষেধ উড়িয়ে হাসপাতালের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিভাগ আইসিইউতে ঢুকে পড়েন একদল সেনা-সমর্থক। আহত ‘গোবিন্দ’-র শরীর থেকে আইভি ড্রিপ খুলে ফেলেন তাঁরা। জোর করে তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে চলে যান।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় দুই নেতা কুন্দন সাঙ্খে, রাহুল ঘারাত-সহ শিব সেনার ১৭ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে শুরু হয়েছে তদন্ত। স্বভাবতই এই ঘটনায় মুখ খুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কংগ্রেস নেতা অতুল লোন্ধে পাটিল বলেন, “মহাযুতির রাজনীতিবিদরা গুণ্ডামি করছেন। তাঁরা আইনের তোয়াক্কা করেন না। পালঘরে তাঁরা একজন রিসেপশনিস্টকে মারধর করেছেন। শুনেছি চিকিৎসকদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। এটা অগ্রহণযোগ্য। এই লজ্জাজনক ঘটনায় কে জবাব দেবে?” বিতর্ক চরমে উঠলেও এখনও মুখ খোলেনি শাসক শিবির।
সর্বশেষ খবর
-
একশোর বদলে পাঁচশোর নোটের টোপ! কমিশনের লোভে ব্যবসায়ী পেলেন সাদা কাগজের টুকরো
-
তৃণমূল জমানায় অবহেলা! দুর্যোগ-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গকে স্বমহিমায় ফেরাতে আড়াইশো কোটি বরাদ্দ শুভেন্দুর
-
নিজের গড় রেজিনগরেই হারের ভয়! উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোট চাইছেন হুমায়ুন
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন