বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে জল্পনার আবহেই সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সমীক্ষা বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার সাত নম্বর লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে ভারচুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক করেন তিনি। চার ঘণ্টারও বেশি সময়ে চলা এই বৈঠকে মন্ত্রীদের কাজের খতিয়ান নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা এবং টিকাকরণের বিষয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, রবিশংকর প্রসাদ ও হরদীপ সিং পুরী তাঁদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক সড়ক ও পরিবহণ, তথ্য ও প্রযুক্তি এবং অসামরিক বিমান চলাচলের বিষয়ে কাজের দীর্ঘ খতিয়ান তুলে ধরেছেন।
মন্ত্রিসভার সব সদস্যদের নিয়ে কয়েক মাস অন্তরই এই ধরনের সমীক্ষা বৈঠক করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পরে এই প্রথমবার সমীক্ষা বৈঠক হল। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। ধাক্কা খেয়েছে সরকারের ভাবমূর্তিও। সেই ভাবমূর্তিতে পুনরায় আগের জায়গাতে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য কী কী রণকৌশল নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়েও এদিনের বৈঠকে দিকনির্দেশ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাতে করোনার টিকাকরণের বিষয়টিকে যে সবার আগে তুলে ধরতে হবে এবং আগামিদিনে টিকাকরণের কাজ কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সেই সংক্রান্ত রোডম্যাপ তুলে ধরে মন্ত্রীদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খুব শীঘ্রই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। অধিবেশেন বিরোধীরা যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থেকে শুরু করে টিকাকরণ, জম্মু-র বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হানা, মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনীতির বেসামাল অবস্থার মতো ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রের দিকে নিশানা করবে, সেই বিষয়েও প্রস্তুত থাকার জন্যও মন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বিশদে আলোচনা করেছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল আসন্ন বলেই রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
কেন্দ্রে মোদি সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমবারের রদবদলে কী বার্তা দেওয়া হতে পারে, সেদিকে সকলেরই চোখ রয়েছে। রদবদল এবং সম্প্রসারণ দুই কাজই এবার সারা হবে। বর্তমানে বেশ কিছু মন্ত্রীর হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক রয়েছে। সেগুলিকে ভাগ করে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা এ প্রসঙ্গে উঠে এসেছে। মন্ত্রিসভার রদবদলে আগামী বছরের ভোটমুখী রাজ্যগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। আবার বিজেপির যে সমস্ত বড় সারির নেতা দলে রয়েছেন তাঁদের মন্ত্রিসভার জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছ। এই তালিকায় মহরাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল, বিহার প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদির নাম রয়েছে। যার মধ্যে সোনওয়ালের মন্ত্রিপদ পাকা বলেই কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর।
আবার একঝাঁক তরুণ মুখকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হবে বলেই শোনা গিয়েছে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো তরুণ তুর্কির নাম। সিন্ধিয়াকে কেন্দ্রীয় বা স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে। তাছাড়াও বাংলা থেকে নিশীথ প্রামাণিক, শান্তনু ঠাকুর, মহারাষ্ট্র থেকে প্রয়াত বিজেপি নেতা গোপীনাথ মুণ্ডের মেয়ে বীডের সাংসদ প্রীতম মুণ্ডে, লাদাখের সাংসদ জামিয়াং নামগিয়ালের নামও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রাষ্ট্রমন্ত্রীর হওয়ার দৌড়ে রয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ ভূপেন্দ্র যাদবকেও উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে যাদব ভোটের দিকে নজর রেখে এবং সেখানকার বিজেপির জোটসঙ্গী আপনা দলের সাংসদ অনুপ্রিয়া প্যাটেলকেও মন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ