সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মঙ্গলবার বারাণসীতে প্রবাসী ভারতীয় দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে যথারীতি দুর্নীতি প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে সাড়ে চার বছরে তাঁর সরকারের নেওয়া একাধিক সমাজ কল্যাণকর প্রকল্পের কথাও তুলে ধরলেন। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে মোদি এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি মন্তব্য তুলে ধরেন। সরাসরি রাজীব গান্ধীর নাম না করে মোদি বলেন, “১৯৮৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কেন্দ্র এক টাকা বরাদ্দ করলে, যাঁর জন্য ওই অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তিনি প্রকৃতপক্ষে ১৫ পয়সা হাতে পান। আজ যাঁরা ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ বলে চিৎকার করছেন তাঁরা জবাব দিন, সেই সময় বাকি ৮৫ শতাংশ টাকা কোথায় যেত? সেই জমানায় কী হত? কিন্তু তার পরেও সেই দল একটানা আরও কয়েক বছর দেশ শাসন করে গিয়েছে। পাশাপাশি সমান তালে দুর্নীতিও চলেছে।
[নতুন পাসপোর্টে থাকবে ই-চিপ, প্রবাসী ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর]
রোগ ধরতে পারলেও চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থাই করেনি কংগ্রেস। আসলে নিজেদের শোধরানোর ইচ্ছাই ছিল না কংগ্রেসের। এখানেই বিজেপির সঙ্গে ওদের তফাত। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই সব জালিয়াতি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগে যে ৮৫ শতাংশ অর্থ লুঠ হত, এখন তা সরাসরি দেশবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই টাকা দেশবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিয়েছে এনডিএ সরকার। এই সব প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা মানুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। কিন্তু পুরনো নিয়মেই যদি আজ দেশ চলত তা হলে কী হত এক বার ভাবুন! পুরনো নিয়মে চললে ওই টাকার মধ্যে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকাই গায়েব হয়ে যেত। অথচ সে সময়ও সরকার ছিল। বিভিন্ন দপ্তর ছিল। মানুষের চাহিদা ছিল। সরকারের টাকা ছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। সে জন্যই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, গ্রামের জন্য বরাদ্দ এক টাকার মধ্যে মাত্র ১৫ পয়সা গ্রামে পৌঁছায়।” মোদি এদিন আরও জানান, তাঁর সরকার সাত কোটি ভুয়ো নাগরিককে চিহ্নিত করেছে। বাস্তবে এঁদের কোনও অস্তিত্ব নেই। কাগজে কলমে টিকে থাকা এই সব লোকজন বহাল তবিয়তে যাবতীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালির মতো দেশের মোট জন সংখ্যার থেকেও বেশি লোক এই সরকারি সুযোগ ভোগ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, মোদি আসলে এটাই স্পষ্ট বলতে চেয়েছেন যে তাঁর আমলে নয়, দুর্নীতির ‘আঁতুড় ঘর’ ছিল কংগ্রেস জমানাই।
[জোটসঙ্গী শিব সেনার মানভঞ্জনে বড় পদক্ষেপ মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের]
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রবাসী ভারতীয় দিবসের সূচনা করেছিলেন। সে কথা স্মরণ করে মোদি জানান, বিদেশে যে প্রান্তেই ভারতীয়রা থাকুন না কেন, তাঁরা সর্বদাই সেই দেশের রীতিনীতি, সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়েছেন। একাধিক দেশকে সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতীয়রা। প্রসঙ্গত, পর্তুগাল, মরিশাস, আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা সেদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন। কুম্ভ মেলার পাশাপাশি জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রবাসী ভারতীয় দিবস আয়োজন করায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভূয়সী প্রশংসা করছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠানে মোদি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রভিন্দ জগন্নাথ।
সর্বশেষ খবর
-
টানা অনশনে শারীরিক অবস্থার অবনতি! হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল ঝাড়খণ্ডের ‘ওয়াংচুক’কে
-
চিনা মাঞ্জায় গলা কাটল বাইক আরোহী পুলিশ অফিসারের! মা ফ্লাইওভারে বাড়ল টহলদারি
-
ইন্দিরা হত্যাকারীর ছেলে লড়বেন পাঞ্জাব ভোটে! প্রার্থীতালিকা ঘোষণা অকালি দল ওয়ারিসের
-
কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে তিনদিন মদ বিক্রি বন্ধ! মদের দোকান নিয়ে কী প্রস্তাব?
-
জমি-বাড়ি দখল করেছেন রেখা পাত্র! বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ কেশবানন্দ মহারাজের