সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগেই আসন্ন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারপার্সন নির্বাচনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারতে মোক্ষম ধাক্কা দিতে চাইছে চর্চায় থাকা বিজেপি বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট৷ বুঝিয়ে দিয়ে চাইছে তাদের হালকাভাবে নিলে ভুল করবে গেরুয়া শিবির৷ আর এই লড়াইয়ে অন্যতম ভূমিকা পালন করছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরও তিনটি আঞ্চলিক দল৷
[হিন্দু সভ্যতা ধ্বংস করতে মুসলিমরা মন্দিরে আসে কেন, সাম্প্রদায়িকতা উসকে প্রশ্ন বিজেপি নেতার]
আগামি মাসের ৩০ তারিখে তাঁর মেয়াদ সম্পূর্ণ করছেন রাজ্যসভার বর্তমান ডেপুটি চেয়ারপার্সন পিজে কুরিয়েন৷ এরপরেই হবে ডেপুটি চেয়ারপার্সন পদের জন্য নির্বাচন৷ রাজ্যসভার আসন সংখ্যা ২৪৫৷ ভোটাভুটিতে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২২টি সাংসদের ভোট৷ বর্তমানে রাজ্যসভার যা অবস্থা তাতে বিরোধীদের হাতে রয়েছে ১১৭টি ভোট৷ এখানে যুক্ত করা হয়েছে এনডিএ জোট থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা চন্দ্রবাবু নায়ডুর তেলুগু দেশম পার্টির ছয় সংসদের ভোট৷ বর্তমানে রাজ্যসভায় পদ্মশিবির একক সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল৷ তাদের ঝুলিতে রয়েছেন ৬৯টি সাংসদ৷ একজন নির্বাচিত সাংসদ, এআইএডিএমকের ১৩ জন সাংসদ ও তাদের সমর্থন করা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে মেলালে এনডিএ জোটের আসন সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১১৫৷ অর্থাৎ বিরোধীদের থেকে দুটি সাংসদ কম রয়েছে মোদি-শাহ ব্রিগেডের৷ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতোই ডেপুটি চেয়ারপার্সন ভোটেও নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য ঝাঁপাবে বিজেপি৷ তবে এবার গেরুয়া শিবিরকে পালটা দিতে তৈরি হচ্ছে বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট৷ যেখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সূত্রের খবর, ডেপুটি চেয়ারপার্সন পদের জন্য নিজের পছন্দসই কাউকে বিরোধী প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করাতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী৷ সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজও শুরু করে দিয়েছেন তিনি৷
[২০১৯-এ বিজেপির লক্ষ্য ‘মিশন-২২’, বঙ্গব্রিগেডের জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা রণকৌশল]
প্রসঙ্গত, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে এইচডি কুমারস্বামীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে একজোট হয়েছিল সিপিএম, কংগ্রেস-সহ বিজেপিবিরোধী প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ কিন্তু সেই অনুষ্ঠান সুপরিকল্পিত ভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজু জনতা দলের প্রধান নবীন পট্টনায়ক, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস৷ রাজ্যসভায় বিজেডি-র সাংসদ সংখ্যা নয়, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির ছয় ও ওয়াইএসআর কংগ্রেসের দুই৷ তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এখনই মুখ খুলতে রাজি নয় বিজেডি ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস৷ কাদের সঙ্গে রয়েছেন, এই বিষয়ে এখনও কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি এই দুই দলের পক্ষ থেকে৷ তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির সঙ্গে কংগ্রেসের সমস্যা সর্বজনবিদিত৷ বিজেপি ও কংগ্রেস, দুই রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে তৃতীয় জোট গড়ার কথা প্রথম থেকেই বলে এসেছেন দলের নেতা তথা তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও৷ বিজেপি যেমন তাঁর চক্ষুশূল, তেমনই কোনও অবস্থাতেই কংগ্রেসের সঙ্গে একমঞ্চ ভাগ করতে রাজি নন তিনি৷ ঠিক সেই কারণেই এড়িয়ে গিয়েছেন কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান৷ ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই থাকছে আসন্ন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারপার্সন নির্বাচনের ব্যাটন৷ পাশাপাশি, পাটিগণিতের হিসাবে আসন সংখ্যা কম হলেও নির্ণায়ক হতে চলেছে তিন আঞ্চলিক দল৷
সর্বশেষ খবর
-
দুরন্ত পারফরম্যান্সেও শেষরক্ষা হল না, আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে জয় হাতছাড়া মিশরের
-
ইউপিএসসি প্রিলিমস-এর ফলপ্রকাশ, পাশ করল কত হাজার?
-
মা-বাবাকে ছাড়া বড় হওয়া, স্পেনকে আটকে চোখে জল! কে এই কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা?
-
নবান্নে শুভেন্দু-প্রসূন সাক্ষাৎ, বাংলায় বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা?
-
বিশ্বকাপে অঘটনের শুরু! কেপ ভার্দের ‘বুড়ো’ গোলকিপারের হাতে আটকে গেল স্পেন, ব্যর্থ বদলি ইয়ামালও