সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ শপথ নেবেন রামনাথ কোবিন্দ। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং কোবিন্দ আজ উপস্থিত হবেন সেন্ট্রাল হলে। থাকবেন প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরও। নতুন রাষ্ট্রপতির সম্মানে ২১ বার কামান দাগা হবে। এরপরই প্রণববাবুর সঙ্গে আসন বদলে নেবেন রামনাথ কোবিন্দ। মর্যাদার এই অনুষ্ঠানের পরই রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাত্রা করবেন কোবিন্দ। অন্যদিকে ১০ রাজাজি মার্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।
আগামী পাঁচ বছরে কোবিন্দ কতটা স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে কাজ করবেন, সে উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভেই নিহিত। তবে গত পাঁচ বছরে প্রণব মুখোপাধ্যায় যে কাজ করেছেন তা একদিকে যেরকম ছকভাঙা, তেমনই বৈপ্লবিকও বটে। অন্তত রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণববাবুর এই পাঁচ বছর ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়েই থাকবে।
[ ‘সময়ে কাজ শেষ না করলে কর্মীদের উলটো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে’ ]
কী কী নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়?
এতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে হিজ এক্সেলেন্সি বলেই সম্বোধন করা হত। কিন্তু এর মধ্যে অনেকটা ঔপনিবেশিকতার ছাপ লেগে। গোড়াতেই তাই এই সম্বোধন করার রেওয়াজ বাতিল করে দেন প্রণববাবু। নিরাপত্তা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে রাশ টানেন। যতদূর সম্ভব তা হালকা করার চেষ্টা করেন। এছাড়া বিগত দিনে রাষ্ট্রপতিরা প্রকাশ্যে বহু অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতেন, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকত না। প্রণববাবু চেষ্টা করেছিলেন, অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব রাষ্ট্রপতি ভবনের পরিধির মধ্যে করতে।
গত পাঁচ বছরে প্রায় তিরিশটি মার্সি পিটিশন বা জীবনভিক্ষার আবেদন খারিজ করেছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এ বিষয়ে তাঁর থেকে এগিয়ে একমাত্র আর ভেঙ্কটরমন। যিনি ৪৫ টি জীবনভিক্ষার আবেদন নাকচ করেছিলেন। অন্যদিকে এপিজে আব্দুল কালাম থেকে প্রতিভা পাটিল কেউই এতটা দৃঢ়তার পরিচয় দিতে পারেননি। প্রতিভা পাটিল তো প্রায় ৩৪টি আবেদন মঞ্জুরই করে দিয়েছিলেন।
দেশের কাজে, বিশেষত সংসদের গতি যাতে ঢিলে না হয় তার জন্য সদাসচেষ্ট ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়কালে অন্তত ২৬ টি অর্ডিন্যান্সের কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি।
[ ‘স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করব না’, অভিনব প্রতিবাদে প্রেসিডেন্সির ছাত্রীরা ]
একসময় শিক্ষকতা করতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে তাঁর। সেইসঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কেরিয়ারে লব্ধ অভিজ্ঞতা। এ সবই ছাত্রছাত্রীদের উজাড় করে দেওয়া শুরু করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের মধ্যেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির অন্তত ৮০ জন পড়ুয়াকে তিনি পড়ানো শুরু করেছিলেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রক্ষার জন্য, তাঁর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য, তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি ভবনের টুইটার চালু করেন।
সংস্কৃতি-সমাগম-স্পর্শ-সংস্কার, এই চার নামে নানারকম জনকল্যাণমূলক কাজ চালু করেছিলেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি ভবনকে আড়ালে না রেখে তিনি অনেকের জন্য খুলে দিয়েছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম হল ইন রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ঠিক সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি ভবনকে লোক ভবনে পরিণত করতে পেরেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।
এছাড়া লাইব্রেরি থেকে সোলার পাওয়ার প্যানেল বসানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনার স্বাক্ষর থেকে গিয়েছে। এবার অবশ্য তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পালা কোবিন্দের।
[ ‘সরকার-বিরোধী নই’, মুচলেকা দিলে তবেই মিলবে হস্টেলে থাকার ছাড়পত্র ]
সর্বশেষ খবর
-
একেই বলে বিশ্বসেরা, শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে কামব্যাক আর্জেন্টিনার, ইংল্যান্ড হারিয়ে ফাইনালে মেসিরা
-
একুশ নিয়ে তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, কালীঘাট মুছল অভিষেককে! ঋতদের পোস্টারে প্রাধান্য মণীষীদের
-
ক্লাসরুমের মধ্যেই ঠোঁটঠাসা চুমু, জড়িয়ে ধরে উদ্দাম প্রেম শিক্ষক-শিক্ষিকার! ভিডিও ভাইরাল
-
ঝগড়া হতেই ছুরি বের করে প্রেমিকার গলায় কোপ! হাওড়ায় হাসাপাতালেই তরুণীর মৃত্যু
-
দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত! দিলজিৎদের ‘রুখতে’ এবার ওটিটিতেও সেন্সরের পথে কেন্দ্র