সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির পূজা ভাটনগরের সঙ্গে চেন্নাইয়ের প্রসন্ন গোপীনাথের বন্থুত্ব অনেক দিনের। আর সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলেন পূজা। গুরুতর অসুস্থ পূজাকে নিজের একটি পাকস্থলীর খানিকটা অংশ দান করলেন প্রসন্ন।
[কাশ্মীরে ছ’জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির তালিকা তৈরি করেছে সেনাবাহিনী]
গত ১৭ বছর ধরে পাকস্থলীর গুরুতর অসুখে ভুগছিলেন পূজা। দিল্লিরই একটি হাসপাতালে চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু গত মে মাসে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ওষুধ দিয়ে আর পূজাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। প্রয়োজন অন্য কারও পাকস্থলী। সেই পাকস্থলী পূজার শরীরে প্রতিস্থাপন করতে হবে। অন্যথায় মৃত্যু অনিবার্য। পূজাদের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। চিকিৎসকদের এই ঘোষণায় তাঁদের মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়ে। তাও নিজের আত্মীয় ও পরিবারের লোকদের মধ্যে প্রথমে পাকস্থলী দাতার সন্ধান করা হয়। কিন্তু, তেমন কাউকে পাওয়া যায় না। শেষপর্যন্ত নিজের ফেসবুকে গোটা ঘটনা জানিয়ে সাহায্যের আবেদন জানান পূজা। আর সেই পোস্টটি চোখে পড়ে পূজার বন্ধু, চেন্নাইয়ের বাসিন্দা প্রসন্ন গোপীনাথের। বন্ধুর বিপদের কথা জানতে পেরে চেন্নাই থেকে দিল্লি উড়ে আসেন। নিজের পাকস্থলীর খানিকটা অংশ বন্ধুকে দান করতে রাজি হন তিনি। এরপরই বন্ধু, পরিজন ও অনাত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা তুলে পূজার অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়। গত ২১ জুন দিল্লির একটি হাসপাতালে পূজার অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, দাতা ও গ্রহীতা দুজনেই ভাল রয়েছেন।
[কিষাণগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাধা নেই, জানিয়ে দিল বিশ্বব্যাঙ্ক]
প্রসঙ্গত, এমনিতে ভারতে পাকস্থলী প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত আইন বেশ কড়া। রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে পাকস্থলী নেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু এক্ষেত্রে পূজা ও প্রসন্নের গভীর বন্ধুত্বের কথা ভেবেই পাকস্থলী প্রতিস্থাপনে অনুমতি দেয় হাসপাতালে এথিক্যাল কমিটি। হাসপাতালের পাকস্থলী প্রতিস্থাপন বিভাগের প্রধান সুভাষ গুপ্তা বলেন, ‘রোগী ও দাতার মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে। তাই আমরা পাকস্থলী প্রতিস্থাপনে রাজি হয়ে যাই।’
[কমল রেপো রেট, সস্তা হতে চলেছে গৃহ-গাড়ি ঋণ]
বছর দশেক আগে বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে দিল্লির পূজার সঙ্গে আলাপ হয় চেন্নাইয়ে প্রসন্নের। প্রসন্ন গোপীনাথ বলেন, ‘২০০৭ সালে ইংল্যান্ডে ওয়েলসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে পূজা ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে আমি একই ফ্ল্যাটে থাকতাম। পূজা আমার পরিবারেরই সদস্য।’ পড়াশোনা শেষ করে ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আসেন প্রসন্ন। এখন চেন্নাইয়ে কুকুরদের প্রশিক্ষক হিসেব কাজ করেন তিনি। অন্যদিকে ইংল্যান্ড থেকে গুরুগ্রামে এসে স্বামীর সঙ্গে সংসার পাতেন পূজা। তবে দুজনের যোগাযোগ রয়েই যায়।
[ভিন ধর্মের যুবতীর সঙ্গে প্রেম, যুবককে নগ্ন করে গণপিটুনি স্থানীয়দের]
সর্বশেষ খবর
-
‘ব্রেক আপের পর আমার কাছে এসে কাঁদবে’, জাহির-সোনাক্ষীকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী সলমনের!
-
বন্ধুর ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ! ২ দিন পর উদ্ধার ছাত্রের পচাগলা দেহ, তদন্তে পুলিশ
-
রথেই পুজোর ঢাকে কাঠি, এবার কোন থিমে সাজবে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ও একডালিয়া?
-
পুরীতে ভিড়ের চাপে অসুস্থ ৩৩, প্রশাসনের তৎপরতায় এড়ানো গেল বড় বিপত্তি
-
এই প্রথম সিএবি বৈঠকে থাকলেন সরকারি প্রতিনিধি, সাফাইয়েও ‘অসঙ্গতি’ সিএবির