Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

ধর্মগুরুর আশ্রমে রমরমিয়ে মধুচক্র, আজই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সম্ভাবনা

আত্মসমর্পণ করার মেয়াদ ফুরোচ্ছে বৃহস্পতিবার।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ০৪:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ০৪:১৩

options
link
ধর্মগুরুর আশ্রমে রমরমিয়ে মধুচক্র, আজই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সম্ভাবনা zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন আর এক রাম রহিম কীর্তি! রোহিনীর স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাবা বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিতের আশ্রমে রমরমিয়ে চলত মধুচক্র। ধর্মের দোহাই দিয়ে কিশোরী ও যুবতীদের আশ্রমে এনে তাঁদের আটকে রাখা হত। চলত পাশবিক অত্যাচার, মহিলাদের বাধ্য করা হত অন্যের শয্যাসঙ্গিনী হতে। শেষ পর্যন্ত দিল্লি আদালত এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেয় সিবিআইয়ের হাতে। আজ, বৃহস্পতিবার বীরেন্দ্রর আত্মসমর্পণের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আজ আদালতে অভিযুক্ত হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করতে পারে আদালত।

[ঋতুমতী হলেই ভক্তের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, ফের কাঠগড়ায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু]

এর পাশাপাশি আদালতে আজই বাবার আটটি আশ্রমের বিবরণও দাখিল করার শেষ তারিখ। মামলার গুরুত্ব এতটাই যে দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তল ও বিচারপতি হরি শঙ্কর সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভবত অভিযুক্ত ধর্মগুরুর সবকটি আশ্রমের অন্দরে কী কী বেআইনি কার্যকলাপ চলত, তার বিস্তারিত তথ্য আদালতকে জানাতে। বুধবারই সিবিআই বাবা বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে রোহিনীর আশ্রমে বলপূর্বক মহিলাদের আটকে রাখা, মানবপাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করেছে।

Advertisement

আদালতের নির্দেশ মোতাবেক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি সুপারিনটেনডেন্টের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে মামলাটির তদন্ত চালাচ্ছে। বিজয় বিহার পুলিশ স্টেশনে দিল্লি পুলিশের কাছে তিনটি এফআইআরের ভিত্তিতে মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই। গত ২০ ডিসেম্বর এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্বঘোষিত ধর্মগুরুর আশ্রমে মহিলাদের উপর পাশবিক অত্যাচার হত। তাঁদের রক্ষিতা করে রাখা হত জোর করে। কেউ যাতে পালাতে না পারে, তার জন্য আশ্রমের চারদিকে সশস্ত্র প্রহরীরা পাহারায় থাকত। আদালতের নির্দেশ, প্রতিদিন কারা ওই আশ্রমে আসতেন বা বেরোতেন, কারা গত কয়েক বছরের আশ্রম থেকে হারিয়ে গিয়েছেন বা আক্রান্ত মহিলাদের উপর কী কী অত্যাচার হত আশ্রমে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতের কাছে পেশ করতে হবে সিবিআইকে।

[আশ্রমের মধ্যেই ধর্ষণ করে খুন মহিলা, আটক অভিযুক্ত সাধু]

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বছর পঁচাত্তরের মূল অভিযুক্ত ধর্মের নামে নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করত দীর্ঘদিন। দেখেশুনে এত বয়স্ক বলে মনে হত না তাকে। রীতিমতো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সে। গোড়ার দিকে তার মতলব কেউ বুঝতে পারত না। নিজেকে ধর্মগুরু বলেই পরিচয় দিত সে। আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে আশ্রম খুলে সাধারণ মানুষকে আশ্রমের দিকে টেনে আনত সে। বহু অভিভাবকই তাঁদের কন্যাদের এই আশ্রমে রেখে আসতেন। ছুটির সময় ধর্মশিক্ষা পাবে মেয়েরা, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল অভিভাবকদের। কিন্তু সেই ফাঁদ পেতেই নাবালিকাদের ভোগ করত ওই স্বঘোষিত ধর্মগুরু। অভিযোগ, স্ট্যাম্প পেপারে সে লিখিয়ে নিত যে নাবালিকারা স্বেচ্ছায় আশ্রমে এসেছে। কেউ তাদের কোনওরকম জোর করেনি। এরপরই কুকর্মে লাগানো হত তাদের। অনুগামীদের মেয়েদের আশ্রমে যোগ দেওয়ার ব্যাপারেও জোর খাটাত ওই বাবা। তারপর চলত অবাধে যৌনাচার। এক ভক্ত জানাচ্ছেন, নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়ত বাবা। তারপর নাবালিকাদের তার শরীরে তেল মালিশ করার নির্দেশ দেওয়া হত।

[সামনে পঞ্চায়েত ভোট, বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে নয়া কৌশল মমতার]

অভিযান চালিয়ে পুলিশ দেখে, যেভাবে আশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে তাতে নাবালিকাদের পালানোর কোনও উপায় থাকত না। ছোটছোট ঘর, গোপন কামরা, ঘোরানো সিঁড়িতে রীতিমতো গোলোকধাঁধা করে রাখা হযেছে। তার মধ্যেই ছিল গর্ভ মহল। যেখানেই কুকর্মে লিপ্ত হত বাবা। নাবালিকাদের মধ্যে কে কবে ঋতুমতী হচ্ছে তার খোঁজ রাখত বাবা। খবর মিললেই সেই কিশোরীকে তুলে আনা হত। তারপর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হত ওই স্বঘোষিত ধর্মগুরু। ঋতুমতী হলেই মেয়েদের একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হত। সেখানে লেখা থাকত স্বেচ্ছায় আশ্রমে থাকতে চায় তারা। সেই চুক্তিপত্রের কপি অভিভাবক ও স্থানীয় থানাতেও পাঠিয়ে দেওয়া হত। আইনের চোখে ধুলো দিয়ে এভাবেই চলত যৌনাচার। মেয়েদের দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হত। প্রায় অসহায় অবস্থাতেই তাদের যৌন হেনস্তার শিকার হতে হত। যদিও বাবার কুকীর্তি ফাঁস করেন অভিভাবকরাই। অভিযোগ এনে তাঁরা দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তার ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে আরও এই স্বঘোষিত বাবার কীর্তি জানতে পারে পুলিশ।

[লালসা মেটাতে অনাথ আশ্রমের নাবালিকাদের ধর্ষণ করত রাম রহিম]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.