Advertisement
Advertisement

কুড়ানকুলাম পরমাণু প্রকল্পে দু’টি নতুন ইউনিট গড়বে রাশিয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে বৈঠকের ফসল।

Russia-India inks pact for two reactors in Kudankulam nuclear plant
Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:June 2, 2017 7:25 am
  • Updated:June 2, 2017 7:25 am

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়া সফরে বহু প্রতীক্ষিত তামিলনাড়ুর কুড়ানকুলাম পরমাণু বিদ্যুত্‍ প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। চুক্তি অনুসারে, ওই প্রকল্পে আরও দু’টি পৃথক ইউনিট (ইউনিট ৫ ও ৬) তৈরি করবে রাশিয়া৷ দু’টি ইউনিটের প্রতিটিতে এক হাজার মেগাওয়াট করে পারমাণবিক বিদ্যুত্‍ উৎপাদন করা হবে৷ দুটি ইউনিট তৈরিতে সহযোগিতা করবে রুশ সংস্থা৷ যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে দুই রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করেন, আগামী দিনে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যুৎশক্তি এবং সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে৷

এর ফলে ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্বের ভিত আরও সুদৃঢ় হল বলে মনে করা হচ্ছে৷ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে রুশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দিনে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় ও উন্নততর করা হবে৷ দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে হবে যৌথ মহড়াও৷ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকীকরণে একযোগে কাজ করবে দুই দেশ৷ মোদির এই বিদেশ সফরে এখনও পর্যন্ত ভারত রাশিয়ার মধ্যে পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, আঞ্চলিক সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে৷

Advertisement

বৃহস্পতিবার সেন্ট পিটার্সবার্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷  ঘটনাচক্রে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে প্রশাসনিক সৌজন্যমূলক বৈঠক বদলে যায় ঘরোয়া বৈঠকি আড্ডায়৷ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ৬৪ বছরের পুতিনের সঙ্গে ৬৬ বছরের মোদি মেতে ওঠেন খোশগল্পে৷ কথায় কথায় উঠে আসে ভারত-রাশিয়ার মধ্যে অতীতের নানা সময়ের ঘটনার কথা৷ মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর পুতিন জানান “সাংহাই কো অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-র সদস্য হওয়ার জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি৷ এক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতকে এসসিও-র পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ দিচ্ছে রাশিয়া৷ ভারতের উপস্থিতি জরুরি৷ খুব শীঘ্রই কাজাখস্তানে এসসিও-র শীর্ষ সম্মেলনে মোদিজির সঙ্গে আমার ফের দেখা হচ্ছে৷” ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, এসসিও সংগঠনে চিনা আধিপত্য রুখতে এবং সংগঠনের বাইরে মার্কিনি প্রাধান্য খর্ব করতে কৌশলগত কারণেই ভারতকে পাশে পেতে চাইছে রাশিয়া৷

এদিন পুতিন ভারতীয় কূটনীতিকদের সামনে ঘোষণা করেন, “ভারত রাশিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধু৷ সময়ের অগ্নিপরীক্ষায় এই বন্ধুত্ব উত্তীর্ণ৷ তাই কোনও শর্তেই বা কোনও অবস্থাতেই নয়াদিল্লির সঙ্গে বন্ধুত্বে ভুল বোঝাবুঝি হতে দেবে না মস্কো৷ ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক বিশ্বাসের শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে৷ তাই পাকিস্তানের সঙ্গে বা অন্য দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সুসম্পর্ক হলে তার প্রভাব যেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উপর না পড়ে, সে ব্যাপারে সচেতনভাবে খেয়াল রাখবে রাশিয়া৷ পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক মহড়া বা বাণিজ্যিক লেনদেন হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারত রাশিয়ার কাছে গুরুত্ব হারাচ্ছে৷ ভারত সব সময়ই রাশিয়ার মূল্যবান বন্ধু৷ ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বিক্রি, যুদ্ধবিমান তৈরি-সহ এত রকমের বোঝাপড়া ও লেনদেন আছে যা অন্য কোনও দেশের সঙ্গে রাশিয়ার নেই৷ পুতিন বলেন, “ভারত-রাশিয়ার সম্পর্কটি সামাজিক সম্পর্ক৷ তার মানে এই নয় যে, ভারত অন্য কোনও দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়বে না৷ এ ব্যাপারে আপত্তি তোলা হাস্যকর৷ ভারত যে কোনও দেশের সঙ্গে (আমেরিকা বা জার্মানি) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তেই পারে৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ