সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আত্মপ্রকাশের আগেই শুরু হয়ে গেল প্রশাসনিক প্রস্তুতি। দীপাবলির পরেই আগামী ৩১ অক্টোবর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ। আর তার আগেই রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবিত জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম উপরাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত হলেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার তথা কেন্দ্রীয় ব্যয় সচিব গিরিশচন্দ্র মুর্মু। আর জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান রাজ্যপাল সত্যপাল মালিককে বদলি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গোয়ায়। এখন গোয়ার রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাবেন সত্যপাল মালিক। পাশাপাশি, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের প্রথম উপরাজ্যপাল হচ্ছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার রাধাকৃষ্ণ মাথুর।
গত ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করে দেয় কেন্দ্র। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ – দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়। তারপর প্রায় তিন মাস কাটতে চললেও এখনও অবরুদ্ধ গোটা উপত্যকা। বন্দি হয়ে রয়েছেন রাজ্যের বহু রাজনীতিক। সেই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার রাজ্যপাল সত্যপাল মালিককে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে জম্মু-কাশ্মীরের বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন তিনি। তার মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য ঘটনা, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়া। তাঁর বদলি নিয়ে সত্যপাল মালিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। যদিও মঙ্গলবারই সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে রাজ্যপালের পদটিকে ‘দুর্বল’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘‘রাজ্যপাল পদটি অত্যন্ত দুর্বল। একজন অতি দুর্বল পদাধিকারী ব্যক্তি, নিজে থেকে যাঁর সাংবাদিক বৈঠক ডাকার কোনও ক্ষমতাও নেই। ক্ষমতা নেই প্রকাশ্যে মুখ খোলার।’’
[ আরও পড়ুন: জেজেপির সঙ্গে জোট পাকা, হরিয়ানায় সরকার গড়ছে বিজেপিই]
এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ব্যয় সচিবের পদে রয়েছেন গিরিশচন্দ্র মুর্মু। ১৯৮৫ সালের গুজরাত ক্যাডারের আইএএস অফিসার তিনি। নরেন্দ্র মোদি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সেখানকার মুখ্যসচিব ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, রাধাকৃষ্ণ মাথুর ১৯৭৭ সালের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইএএস অফিসার ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষাসচিব। ২০১৮-র নভেম্বরে মুখ্য তথ্য কমিশনারের পদ থেকে তিনি অবসর নেন।
৫১ বছর যাবৎ ভারতের উত্তরতম প্রান্তের ওই রাজ্যে আমলাদেরই রাজ্যপাল হিসাবে নিয়োগ করা হত। কিন্তু প্রথা ভেঙে প্রথম রাজনীতিক হিসাবে সত্যপাল মালিক ওই পদে নিযুক্ত হন। অর্থাৎ জম্মু ও কাশ্মীরে যে পরিবর্তন ও মর্যাদা প্রত্যাহার বিজেপি সরকার পাখির চোখ করেছিল, তারই অঙ্গ হিসাবে ২০১৮ সালের আগস্টে বিহারের রাজ্যপাল পদ থেকে সত্যপাল মালিককে শ্রীনগরের রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল।
গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রের পরিকল্পনা রূপায়ণ করেছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই দায়িত্ব পালনের পুরস্কার হিসাবেই তাঁকে গোয়ায় বদলি করা হয়েছে। না হলে উপরাজ্যপাল হিসাবে থাকলে তাঁর অবনমন হত।
[ আরও পড়ুন: ধর্ষণে অভিযুক্ত বিধায়ক গোপাল কান্ডার শরণাপন্ন, হরিয়ানায় বিতর্কে বিজেপি]
সর্বশেষ খবর
-
‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ মুক্তির জন্য ১৩ লক্ষ ঘুষ! স্বরূপ-পিয়ার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শতদীপ
-
‘তফাত শিরদাঁড়ায়’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে ‘হারাধনের দশ ছেলে’কে স্যালুট সুদীপ্তার, বিঁধলেন কোন ‘বিপ্লবী’দের?
-
লন্ডনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হেনস্তা! নিন্দায় সরব ভারত, নেপথ্যে ‘ডিপ স্টেট’?
-
ডিম হাতে শওকতের অপেক্ষা ভাঙড়ের জনতার, ‘মাছ চোর’ গানের ছন্দে নাচ এনআইএ অফিসের সামনে
-
খোসা ছাড়ানো যাচ্ছে না, স্বাদ মাটির মতো! আলু সেদ্ধ করার সময় এই ভুলগুলো করছেন কি?