বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়। ভোটের পর আরও অপ্রত্যাশিতভাবে একের পর এক শরিকের সঙ্গ ছাড়া। তামিল রাজনীতিতে এই মুহূর্তে বেশ কোণঠাঁসা এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে। সেই বিপর্যস্ত ডিএমকে’-কে আরও নিঃসঙ্গ করে দিলেন তামিল রাজনীতির পরিচিত মুখ ভাইকো। ৯ বছর পর তামিলভূমে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেকুলার প্রোগ্রেসিভ অ্যালাইন্স ছাড়ল ভাইকোর দল এমডিএমকে।
তামিলনাড়ুতে ভাইকো পরিচিত নাম। ২০১৭ সাল থেকে তাঁর দল স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেভাবে সম্মান পাননি তিনি। বড় শরিক হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৪ আসনে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। সেটাও নিজেদের প্রতীকে নয়। ভাইকোর দলকে লড়তে হয়েছে ডিএমকের সূর্য প্রতীক নিয়ে। ভাইকোর তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমাদের নিজস্বতার সঙ্গে আপস করতে হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
ভাইকো সঙ্গে ছাড়াই তামিল রাজনীতিতে আরও নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন স্ট্যালিন। এমনিতেই ভোটের ফলপ্রকাশের পর একে একে তাঁর সঙ্গ ছেড়েছে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, মুসলিম লিগের মতো দলগুলি। এবার সেই তালিকায় এমডিএমকে। শোনা যাচ্ছে, স্ট্যালিনের সঙ্গ ছেড়ে এমডিএমকে বিজয়ের সঙ্গে জোটে যেতে পারেন। আসলে যে পেরিয়ারবাদী রাজনীতি এতদিন ডিএমকে করে এসেছে, সেটা একপ্রকার হাইজ্যাক করে নিয়েছেন বিজয়। যদিও প্রকাশ্যে বিজয় বলেন, “আমরা পেরিয়ারবাদী নই। ধর্মে বিশ্বাস করি।” কিন্তু তাঁর রাজনীতির ধরন অনেকটাই স্ট্যালিনের মতো।
যার অর্থ, স্ট্যালিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রীতিমতো প্রশ্নের মুখে। এখন অবশ্য একটা বিকল্প তাঁর কাছে খোলা। শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেস হাত ছাড়ার পর বিজেপির তরফে স্ট্যালিনকে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। আসন পুনর্বিন্যাস-সহ সংবিধান সংশোধনী আইনগুলিতে তিনি যদি এনডিএ-কে সমর্থন করেন, তাহলে বিজেপির কাজ অনেকটা সহজ হয়। আবার রাজনৈতিকভাবে স্ট্যালিনও নিজের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারেন। যদিও ডিএমকে-বিজেপি সরাসরি এক ছাতার তলায় আসা কঠিন। কারণ রাজনৈতিকভাবে তারা সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। ডিএমকের রাজনীতি পুরোপুরি ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী, অনেকাংশে সনাতন বিরোধী। এ হেন দলের সঙ্গে জোট করা বিজেপির পক্ষেও কঠিন। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে গেরুয়া শিবির বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের হাতও ধরেছে। ফলে স্ট্যালিনকেও দরকারে কাজে লাগাতে পারে তাঁরা। আর স্ট্যালিনের কাছেই বা বিকল্প কী?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সিআইডি সেজে ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য রাস্তা থেকে অপহরণ করে ডাকাতি, তদন্তে পুলিশ
-
‘আত্মঘাতী’ বিস্ফোরণে কাঁপল করাচির সেনা দপ্তর, চলল গুলি, মৃত্যু তিন পাক সেনার
-
লেনিন নয়, হৃদয় সম্রাট শিবাজি! ‘লাল’ যাদবপুরে পালিত ‘হিন্দু সাম্রাজ্য দিবস’
-
লিঙ্কডিনে ফুটবলার খুঁজে বিশ্বকাপের নকআউটে! কেপ ভার্দের স্বপ্নের সওদাগর যে মানুষটা
-
জীবিকা হারানো হকারদের এককাট্টা করে আন্দোলনের প্রস্তুতি ‘কালীঘাট তৃণমূলের’, ফের পথে মমতা!