সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ষণ, খুনের মতো গুরুতর অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলার কারণে শেষপর্যন্ত অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে গিয়েছেন, এমন নজিরও ভুরি ভুরি। কিন্তু, তা বলে মাত্র ৩৭০ টাকা চুরির একটি মামলায় বিচার শেষ হতে ২৯ বছর লেগে যাবে, তা কল্পনা করতে পারেননি খোদ অভিযুক্তরাই। মঙ্গলবারই এই মামলায় দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের একটি আদালত। তবে সাজাপ্রাপ্তরা বলছেন, কারাদণ্ড নয়, দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলাটাই তাদের কাছে আসল সাজা।
[সুযোগ পেলেই এলাকার মেয়েদের চুমু খাচ্ছিল এই ছেলেটি, তারপর…]
১৯৮৮ সালে অক্টোবর মাসের ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর থেকে ট্রেনে করে পাঞ্জাবে যাচ্ছিলেন ওয়াজিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। ট্রেনে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় চন্দ্র পাল, কানহাইয়া লাল ও সরবেশ নামে তিন যুবকের। ওয়াজিদকে মাদক মেশানো চা খেতে দেন ওই তিন যুবক। চা খাওয়ার পর বেহুঁশ হয়ে যায় ওয়াজিদ। এরপরই তাঁর পকেট থেকে ৩৭০ টাকা চুরি করে চম্পট দেয় চন্দ্র, কানহাইয়া ও সরবেশ। ওয়াজিদের অভিযোগে ভিত্তিতে কানহাইয়া লাল ও সরবেশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে চুরি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। যদিও অপর অভিযুক্ত চন্দ্র পালকে ধরতে পারেনি পুলিশ। প্রায় ১৬ বছর পলাতক ছিল সে। শেষপর্যন্ত ২০০৪ সালে বিচার চলাকালীন মৃত্যু হয় চন্দ্র পালের। এরপরই মামলাটি অন্য একটি আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়। দেখতে দেখতে কেটে যায় ২৯ বছর! মঙ্গলবার এই মামলা জীবীত দুই অভিযুক্ত কানহাইয়া লাল ও সরবেশকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
[বিমানের শৌচাগারে ‘বাঁচাও’ লেখা নোট, তারপর কী করলেন বিমানসেবিকা?]
সেদিন চলন্ত ট্রেনে মাদক মেশানো চা খাইয়ে যে ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৭০ চুরি করা হয়েছিল, সেই ওয়াজিদ হোসেন এখন ষাট বছরের প্রৌঢ়। জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে শেষবার এই মামলায় আদালতে সাক্ষী দিতে এসেছিলেন তিনি। এরপর তিনি আর এই মামলার কোনও খোঁজখবর রাখেননি। আর অভিযুক্তদের মধ্যে যে দু’জন এখনও বেঁচে রয়েছেন, সেই কানহাইয়া লাল ও সরবেশের বয়সও ষাট পেরিয়ে গিয়েছে। বিয়ে থা করে ইতিমধ্যেই সংসার পেতেছে তারা। ছেলে-মেয়েরাও বড় হয়ে গিয়েছে। কানহাইয়া লাল ও সরবেশের বক্তব্য, অল্প বয়েসে একটি ‘ভুল’ হয়ে গিয়েছিল। তবে আদালতের দেওয়া শাস্তি নিয়ে খুব বিচলিত নয় কেউ-ই। বরং দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলাটাকেই আসল শাস্তি বলে মনে করেন কানহাইয়া লাল ও সরবেশ।
[মাটির নিচে আস্ত একটা গ্রাম! দিব্যি চলছে জীবনযাত্রা
সর্বশেষ খবর
-
দলে আর জায়গা নেই, জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড! রবিবারই শেষ ওয়ানডে খেলবেন রোহিত?
-
দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে পুলিশের জালে বিজেপি নেতা
-
ঋত-তৃণমূলে এবার ব্রাত্যও? ঘাসফুল শিবিরে ভাঙনের মরশুমে তুঙ্গে জল্পনা
-
ফুলবাগানের মন্দির তহবিল থেকে ‘চুরি’ ৪৪ লক্ষ, অভিযোগ দায়ের কমিটির
-
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস করতে গিয়ে মৃত্যু! বাংলাদেশে মর্মান্তিক পরিণতি তরুণের