সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে প্রখ্যাত গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য। এবার মহিলাদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করায় তাঁর অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করল জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার। মঙ্গলবার কিছু কুরুচিকর মন্তব্য পোস্ট করেন গায়ক। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেয় টুইটার কর্তৃপক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা অভিজিতের বিরুদ্ধে সরব হতেই টুইটার এমন পদক্ষেপ নেয়। এর আগে গতবছর জুলাই মাসে এক মহিলা সাংবাদিক স্বাতী চতুর্বেদী তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন থানায়। তার জন্য অভিজিতকে গ্রেপ্তারও করে মুম্বই পুলিশ। কিন্তু পরে জামিনে মুক্তি পান গায়ক। নিজের কৃতকর্মের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ে ক্ষমাও চেয়ে নেন অভিজিৎ। তবে নিজের স্বভাব যে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেননি তিনি, এই ঘটনাতেই ফের তার প্রমাণ মিলেছে।
টুইটারে বরাবরই বিদ্রোহী মেজাজে বিচরণ করেন অভিজিৎ। যখন তখন বিতর্কিত মন্তব্য পোস্ট করেন তিনি। গত ২২ মে জেএনইউয়ের পড়ুয়া শেহলা রশিদ-সহ অন্যান্য মহিলাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য পোস্ট করেন টুইটারে। তাতেই সৃষ্টি হয় বিতর্কের।
Sincere thanks to everyone for the support. Abhijit had to delete his tweet.
His Twitter account has also been suspended. 🙂— Shehla Rashid (@Shehla_Rashid) May 23, 2017
এই ঘটনার পরই নেটিজেনরা তাঁর বিরুদ্ধে টুইটার কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। আরও একটি টুইটে তিনি এক মহিলাকে মিস পাকিস্তান বলে অপমান করেন এবং তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন। তারপরই আর দেরি না করে তাঁর অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করে দেয় টুইটার কর্তৃপক্ষ।

তবে সাসপেন্ড সাময়িক না চিরতরে তা খোলসা করেনি কর্তৃপক্ষ। গোটা ঘটনায় একফোঁটাও বিচলিত নন গায়ক অভিজিৎ। তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার পিছনে রয়েছেন লেখিকা অরুন্ধতী রায় এবং জেএনইউয়ের আন্দোলনকারীরা। অরুন্ধতী রায়কে কটাক্ষ করায় বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেতা পরেশ রাওয়ালকে সমর্থন করেছিলেন অভিজিৎ। অরুন্ধতীর দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হতেই এমনটা হয়েছে বলে ধারণা তাঁর। তিনি আরও জানিয়েছেন, পরেশ রাওয়ালকেও ব্লক করার চেষ্টা করেছিল আন্দোলনকারীরা। কিন্তু টুইটার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ায় থোড়াই কেয়ার অভিজিতের। তিনি বলেছেন, ‘আমি পরোয়া করি না, গোটা দেশ আমার সঙ্গে রয়েছে।’
অন্যদিকে, অভিজিতের পাশে দাঁড়িয়ে এবার টুইটার ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিলেন গায়ক সোনু নিগম। আজান টুইট বিতর্ক এখনও বিস্মৃত হয়নি। তার মধ্যেই এবার অভিজিতের পাশে দাঁড়িয়ে নয়া বিতর্কে সোনু। বুধবারই পরপর ২৪টি টুইট করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সোনু। তিনি টুইট করেছেন, ‘সংবাদমাধ্যম এবং টুইটারে যাঁরা আমাকে ফলো করেন তাঁরা আমার এই টুইটগুলির স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন। কারণ এগুলি বেশিক্ষণ এখানে থাকবে না। আজ আমি আমার ৭ মিলিয়ন ফলোয়ার্সের কাছ থেকে বিদায় নিতে চলেছি। আমি বুঝতে পারছি যে, আপনি কোনও ঘুমন্ত মানুষকে জাগাতে পারবেন কিন্তু যে জেগে থেকেও ঘুমিয়ে থাকেন তাঁকে জাগানো সম্ভব নয়।’ এরপরই মিডিয়াকে কটাক্ষ করে তিনি টুইট করেন, ‘সংবাদমাধ্যম বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। কিছু জাতীয়তাবাদী রয়েছে যাদের রক্ত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে এবং ইতিহাস ও নিজেদের পূর্বসুরিদের থেকে কোনও শিক্ষা নিতে চায় না। এখানে মানুষ একতরফা আশীর্বাদ দেয়। আবার কিছু তো আপনার মৃত্যুকামনা করে। আর কিছু নবীন প্রজন্মের ছেলে-মেয়ে, বাচ্চারা জঙ্গিদের মতো ব্যবহার করে।’ ইতিমধ্যেই সোনুর টুইটগুলিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। টুইটগুলির পরই টুইটার অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেন গায়ক।

সর্বশেষ খবর
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের
-
স্কুলের বাইরে ছাত্রীদের সামনে হস্তমৈথুন! যুবককে পাকড়াও করল ছাত্ররা, হইচই মালদহে
-
কাশ্মীরে সরকার ভাঙার ষড়যন্ত্র বিজেপির! ‘শীর্ষ নেতাকে ৩০ কোটির টোপ’, বিস্ফোরক ওমর আবদুল্লা
-
জেলা সংগঠন ভাঙনে জর্জরিত মমতা! নেত্রীর ঘনিষ্ঠরাই এবার ঋতব্রত শিবিরের দায়িত্বে