ভোটের ফলাফল বের হতেই ঘর ভেঙে খান-খান মমতার! আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাত মেলান দলের ৬৫ জন বিধায়ক। তালিকা যে এখানেই শেষ নয়, তার ইঙ্গিত মিলেছে বারবার। এমনকী শনিবার জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক থেকেও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ছিল, জেলার অধিকাংশ হেভিওয়েট তৃণমূল সভাপতি ও নেতা-নেত্রীরাও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। এরই মধ্যে জেলার তৃণমূল সংগঠনে কার্যত ‘কার্পেট বম্বিং’ করে দিলেন ঋতব্রত-সন্দীপনরা। দলের প্রতীক-তহবিল ও নাম নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে রীতিমতো কোনঠাসা মমতা শিবির। এরমধ্যেই যে নামের তালিকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা ঘোষণা করেছেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে, একদা মমতার ‘নির্ভরযোগ্য-অতিবিশ্বস্ত’রা জায়গা পেয়েছেন। আছেন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল, কোচবিহারের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা জেলাপরিষদ সভাধিপতি নারায়ন গোস্বামী, হাওড়ার বিধায়ক অরুণাভ সেন। এমনকী আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র বিধান উপাধ্যায়, শিলিগুড়ির প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের মতো অধিকাংশ হেভিওয়েটরা কেউই আর কালীঘাট-তৃণমূল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেই।
মমতা শিবিরকে জোর ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে কোন জেলায় কাদের কাঁধে দায়িত্ব দেওয়া হল, তার তালিকা এদিন প্রকাশ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
গত কয়েকবছরে একাধিকবার জেলা সফরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সফরে যাবতীয় কর্মসূচি নিতেন ঋতব্রতর সঙ্গে চলে যাওয়া এই নেতাদের উপর নির্ভর করেই। স্বভাবতই হেভিওয়েট জেলা সভাপতিরা অধিকাংশ মমতাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় কালীঘাট তৃণমূল যে প্রবল চাপে পড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তালিকা ঘোষণার পর এদিন নাম না করে কালীঘাটের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে ‘কেষ্ট’ অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডল জানতে চান, ‘‘ছেলেবেলা থেকে থেকে দলকে কেবল দিয়েই গিয়েছি, বিনিময়ে কিছু চাইনি। দল করতে করতেই যখন জেলে গেলাম, তখনও আমি জেলা সভাপতি, আর জেল থেকে মুক্ত হয়ে ফিরতেই আমায় ‘আউট’ করে দেওয়া হল! আমার অপরাধটা কী ছিল? কী দোষ করেছিলাম আমি?’’ নতুন দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে কেষ্ট বলেন, ‘‘মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে ফের বীরভূমে টিম-তৃণমূলের সংগঠন মজবুত করে গড়ে তুলব।’’
নির্ভরযোগ্য হেভিওয়েট কাউকে না পাওয়ায় কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ, বারাকপুর-সহ গুটিকয় জেলায় এখনও কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
মমতা শিবিরকে জোর ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে কোন জেলায় কাদের কাঁধে দায়িত্ব দেওয়া হল, তার তালিকা এদিন প্রকাশ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা সভাপতিরা হলেন– বিনোদ বেজ (আলিপুরদুয়ার), মহুয়া গোপ (জলপাইগুড়ি), রঞ্জন সরকার (দার্জিলিং), সন্দীপন বিশ্বাস (উত্তর দিনাজপুর), আনিসুর রহমান (দক্ষিণ দিনাজপুর), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (মালদহ), ইমানি বিশ্বাস (জঙ্গিপুর), অপূর্ব সরকার (মুর্শিদাবাদ), দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় (রানাঘাট), কৃষ্ণনগর (জেবের শেখ) বুরহানূল মোক্কাদিম লিটন (বসিরহাট), অরুনাভ সেন রাজা (হাওড়া), সৃষ্টিধর ঘোষ (হাওড়া সদর), প্রদীপ সরকার(পশ্চিম মেদিনীপুর), সঞ্জয় পান(ঘাটাল), রথীন বন্দে্যাপাধ্যায় (বঁাকুড়া), উজ্জ্বল কুমার (পুরুলিয়া), রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (পূর্ব বর্ধমান), নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (পশ্চিম বর্ধমান), অনুব্রত মণ্ডল (বীরভূম), সন্তোষ সিং পাপ্পু (হুগলি), উত্তম কুণ্ডু (আরামবাগ), শুভাশীষ দাস (ডায়মন্ড হারবার), গণেশ মণ্ডল (সুন্দরবন), সন্দীপন সাহা (উত্তর কলকাতা), দেবাশীষ কুমার (দক্ষিণ কলকাতা)। রাজ্য কমিটিতে প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বিকাশ রায়চৌধুরী, জে্যাতিপ্রিয় মল্লিক, স্বর্ণকমল সাহা, শক্তিপদ মণ্ডল, অশোক রুদ্র, জোৎস্না মান্ডি, দেবালীনা বিশ্বাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে বিরোধী দলনেতা জানান।
নির্ভরযোগ্য হেভিওয়েট কাউকে না পাওয়ায় কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ, বারাকপুর-সহ গুটিকয় জেলায় এখনও কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এদিনই প্রাক্তন আইপিএস বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান মুখপাত্র নিয়োগের পাশাপাশি সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, ডাঃ শান্তনু সেন, কোহিনুর মজুমদার, সুদীপ রাহাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কে কোন টিভি চ্যানেলে বক্তা যাবেন সেই বিষয়টি দেখবেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বৈঠকে মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা, নারায়ন গোস্বামী, প্রাক্তন মন্ত্রী জোৎস্না মান্ডি, প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন, রঞ্জন সরকার, বিধান উপাধ্যায়দের মতো বহু নতুন মুখ যোগ দেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের
-
স্কুলের বাইরে ছাত্রীদের সামনে হস্তমৈথুন! যুবককে পাকড়াও করল ছাত্ররা, হইচই মালদহে
-
কাশ্মীরে সরকার ভাঙার ষড়যন্ত্র বিজেপির! ‘শীর্ষ নেতাকে ৩০ কোটির টোপ’, বিস্ফোরক ওমর আবদুল্লা
-
২১ জুলাইয়ের অনুমতি পেল ঋতব্রত শিবির! সোম থেকে গান্ধী মূর্তি এলাকায় প্রস্তুতি শুরু ‘আসল’ তৃণমূলের