দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় যখন সারা রাজ্য তোলপাড়, ঠিক সেইসময় এই ধরনের ঘটনা এড়াতে এবার হাওড়ার একটি প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রীদের রোজ ক্লাসে সচেতনতার পাঠ দেওয়া শুরু হল। হাওড়ার আন্দুলের মহিয়াড়ি রানিবালা কুন্ডু চৌধুরি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এই সচেতনতার পাঠ দেওয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম করে প্রত্যেকদিন ছাত্রীদের একটি পিরিয়ডে এই সচেতনতার ক্লাস হচ্ছে বলে ওই স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে। শিক্ষিকারাই খুদে পড়ুয়াদের সেই পাঠ দিচ্ছেন। ক্লাসরুমেই চলছে সেই পাঠ।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধ্রুবজ্যোতি সেন জানালেন, ”বারুইপুরের ঘটনার পর আমরা অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার জন্য আমাদের স্কুলে ছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার ক্লাস শুরু করে দিয়েছি। আমাদের স্কুলে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশো ছাত্রী রয়েছে। আমরা প্রতিটি ক্লাসে প্রত্যেকদিন একটি করে ক্লাস এই সচেতনতার উপর করছি।’’
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক শিক্ষিকা ক্লাসে খুদে ছাত্রীদের বলছেন, অপরিচিত ব্যক্তি যদি লজেন্সের মতো খাবারের লোভ দেখিয়ে বা কিছু উপহারের লোভ দেখিয়ে কোথাও নিয়ে যেতে চায় তাহলে ছাত্রীরা যেন ওই ব্যক্তির কথামতো কাজ না করে। ওই অপরিচিত ব্যক্তির থেকে দূরে থাকে। অপরিচিত ব্যক্তি ছাত্রীদের অনেক দূরে কোথাও নিয়ে চলে যেতে পারে। তাহলে তারা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে আর দেখা করতে পারবে না। ক্লাসে শিক্ষিকাকে এও বলতে শোনা যায়, যদি অপরিচিত কোনও ব্যক্তি খুদে ছাত্রীদের জোর করে কোথাও নিয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন অন্তত চিৎকার করে। এভাবেই ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষিকা অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে ছাত্রীদের দূরে থাকার জন্য সচেতনতার ক্লাস নিচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধ্রুবজ্যোতি সেন জানালেন, ”বারুইপুরের ঘটনার পর আমরা অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার জন্য আমাদের স্কুলে ছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার ক্লাস শুরু করে দিয়েছি। আমাদের স্কুলে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশো ছাত্রী রয়েছে। আমরা প্রতিটি ক্লাসে প্রত্যেকদিন একটি করে ক্লাস এই সচেতনতার উপর করছি।’’ প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, শিশুরা এই ধরনের ঘটনা এড়াতে তাদের উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে পারে। তিনটি উপায় এটা তারা করতে পারে। কোনও অপরিচিত ব্যক্তি জোর করে নিয়ে যেতে চাইলে প্রথমত, শিশুরা চিৎকার করতে পারে, দ্বিতীয়ত, তারা ছুটে পালাতে পারে অথবা তারা সামনে কোনও পরিচিত ব্যক্তিকে পেলে তার কাছে গিয়ে ঘটনাটা বলতে পারে। এই প্রাথমিক সচেতনতার শিক্ষাগুলো আমি আমার স্কুলের ছাত্রীদের দিচ্ছি। আগামীদিনে সব গালর্স স্কুলেই খুদে ছাত্রীদের এই ধরনের সচেতনতামূলক শিক্ষা নিয়মিত ক্লাসে দেওয়া হবে বলেই আমার বিশ্বাস।’’
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?