২৪ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  বুধবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শেষ হইয়াও হইল না শেষ। মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে ফের ‘টুইস্ট’। কিছুতেই টানা যাচ্ছে না যবনিকা। একেক দিন একেক পথে বাঁক নিচ্ছে মহারাষ্ট্রের ভবিষ‌্যৎ। সোমবার ১০ নম্বর জনপথে সোনিয়ার বাসভবনে যান এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার। মনে করা হয়েছিল, দুই শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর পরিষ্কার হয়ে যাবে মহা-সমীকরণ। তবে এদিনও তা হল না। প্রায় পঞ্চাশ মিনিট আলোচনার পর শরদ পাওয়ার বলে বসলেন, “সরকার গঠন প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি। আমরা এখনও মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতির উপর নজর রেখে চলেছি শুধু।” আর ঠিক এই সময়ে শিব সেনা ও বিজেপির মধ্যে ফের জোট বাঁধার জল্পনা উসকে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালে।

[আরও পড়ুন: দেশরক্ষায় গিয়ে মৃত্যু, সিয়াচেনের তুষার ধসে প্রাণ হারালেন চার জওয়ান-সহ ৬]

সোমবার পাওয়ারকে বলা হয়, সেনা তাঁদের সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে কথা বলছে বলে দাবি করেছে। পাওয়ারের পালটা প্রশ্ন, ‘তাই নাকি?’ যা শুনে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পর্দার আড়ালে অন‌্য কোনও নাটক চলছে। তাদের ব‌্যাখ‌্যা, এনসিপির অন‌্যতম দুই শীর্ষনেতা অজিত পাওয়ার ও প্রফুল্ল প‌্যাটেল এই মুহূর্তে রয়েছেন ইডির রাডারে। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে বেশি ফ্রন্টফুটে খেলতে চাইছেন না এনসিপি সুপ্রিমো। এদিকে সোমবার রাজ‌্যসভায় বক্তব‌্য রাখতে গিয়ে অপ্রত‌্যাশিতভাবেই শরদ পাওয়ারের এনসিপি এবং নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দলের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাওয়ারের দল যখন শিব সেনা ও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব‌্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিজেপির সঙ্গে জোট ভাঙার পর মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার জন্য এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থন চায় শিব সেনা। তাদের সমর্থন করতে প্রথমদিকে দ্বিধা ছিল কংগ্রেসের। এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারই কংগ্রেসকে রাজি করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু, সোমবার সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর পাওয়ারের কথায়, ‘মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। তবে সরকার গঠন বা অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি নিয়ে কথা হয়নি। এখনও কয়েকটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার।’

[আরও পড়ুন: এলাহাবাদের পর এবার বদলাচ্ছে আগ্রার নাম, তৎপর যোগী প্রশাসন]

মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস ও শিব সেনার সঙ্গে যদি জোট হয় তাহলে তার নেপথ্যে থাকবেন পাওয়ার। এমনকী তাঁরই অলিখিত পরামর্শে শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে আসন্ন অযোধ‌্যা সফর বাতিল করেছেন বলে জল্পনা। ওই সফর নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছিল এনসিপি ও কংগ্রেস, উভয় দলই। কিন্তু, তারপরও পাওয়ারের সোমবার সকালে করা মন্তব‌্য নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁকে বলা হয়, শিবসেনা তো বলছে, সরকার গড়ার জন্য এনসিপির সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের সঙ্গে ১৭০ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। পাওয়ারের জবাব, ‘আমি বিধায়ক সংখ‌্যা নিয়ে কিছু জানি না। শিব সেনাকেই প্রশ্ন করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিব সেনা ও বিজেপি আলাদাভাবে লড়েছে। কংগ্রেস ও এনসিপি আলাদাভাবে লড়েছে। বিজেপি-শিবসেনা তাদের পথে চলবে। আমরা চলব আমাদের পথে।’

তিনি একথা বললেও রাজধানীর আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে অন‌্য এক অংকও। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব‌্য, রোজ রোজ এভাবে মন্তব‌্য করে শিবসেনার উপর চাপ বাড়াতে চাইছেন পাওয়ার। যাতে নিজেদের ও কংগ্রেসের ঝুলিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ছিনিয়ে আনা যায়। তাছাড়া সাভারকরকে শিব সেনার ভারতরত্ন দেওয়ার প্রস্তাব ও মুসলমানদের জন‌্য কংগ্রেসের সংরক্ষণের দাবি। এই দুটি বিষয়ে তিন দলের অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি তৈরিতে সমস‌্যা দেখা দিচ্ছে। তা মেটাতেই যে এই স্ট্র‌্যাটেজি, সেই সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে।

আবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মহারাষ্ট্রের আরপিআই পার্টির নেতা রামদাস আতাওয়ালে সোমবার জানান, শিব সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। মধ‌্যস্থতাকারী হিসেবে তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের জন‌্য বিজেপি থেকে মুখ‌্যমন্ত্রী হবে। আর দু’বছরের জন‌্য শিব সেনা থেকে। বিজেপি রাজি থাকলে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে ভাববেন বলে নাকি তাঁকে জানিয়েছেন রাউত। যদিও শিব সেনার মুখপত্র ‘সামনা’য় বিজেপিকে এদিনও খোঁচা দেওয়া হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথমদিনে সংসদেও সরকারের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকা নিতে দেখা যায় শিব সেনা সাংসদদের।

রাজনৈতিক মহলের খবর, দু’একদিনের মধ্যেই কংগ্রেস ও এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ফের আলোচনায় বসবে। মনে করা হচ্ছে, সেই বৈঠকের পরই সরকার গঠনের যাবতীয় অংক স্পষ্ট হয়ে যাবে। আরও শোনা যাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধী বিষয়টি বেশি দিন টানতে চান না। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার টুইটেও তারই ইঙ্গিত রয়েছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং